
দীর্ঘ আট বছরের প্রহরার অবসান: ঢাকায় বসছে ২০২৬ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের মেগা আসর
দক্ষিণ এশিয়ান ফুটবলের সবচেয়ে বড় এবং মর্যাদাপূর্ণ আসর ‘সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ’ ফের ফিরছে বাংলাদেশে। দীর্ঘ আট বছরের দীর্ঘ প্রহরার অবসান ঘটিয়ে আগামী ৪ নভেম্বর থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১৫তম সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬। সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (সাফ) সাম্প্রতিক আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় ফুটবলাঙ্গনে দেখা দিয়েছে নতুন উদ্দীপনা।
বাংলাদেশে সর্বশেষ ২০১৮ সালে সাফের আসর বসেছিল। এর আগে ২০০৩ এবং ২০০৯ সালেও বাংলাদেশ এই টুর্নামেন্টের সফল আয়োজন করে। ফলে চতুর্থবারের মতো দক্ষিণ এশিয়ার সেরা ফুটবল দলগুলোকে আতিথেয়তা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে লাল-সবুজের দেশ।
আসরের প্রাথমিক সময়সূচি ও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত
টুর্নামেন্ট ঘিরে সাফের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই প্রস্তুতি মূলক বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির কথা জানানো হয়েছে। জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহ থেকেই শুরু হচ্ছে অফিশিয়াল আয়োজনসমূহ:
২৫ জুলাই ২০২৬: ঢাকায় জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে উন্মোচিত হবে আসরের অফিশিয়াল লোগো।
১ আগস্ট ২০২৬: ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে অনুষ্ঠিত হবে টুর্নামেন্টের অফিশিয়াল ড্র, যার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে কোনো দল কোন গ্রুপে লড়বে।
৪ নভেম্বর ২০২৬: ঢাকায় বসবে টুর্নামেন্টের মূল পর্দা।
১৭ নভেম্বর ২০২৬: ফাইনাল ম্যাচের মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে সাফের ১৫তম আসরের।
আয়োজক বাংলাদেশ ও ফুটবলাঙ্গনের প্রতিক্রিয়া
দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের যে আবেগ ও উন্মাদনা রয়েছে, তা বিবেচনায় নিয়েই আয়োজক হিসেবে বাংলাদেশকে বেছে নেওয়া হয়েছে। সাফের সবকটি সদস্য দেশই এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করবে বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।
সাফের মহাসচিব পুরুষোত্তম কাটেল টুর্নামেন্টের তারিখ ও ভেন্যু ঘোষণা করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তার মতে, ফিফা বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরপরই সাফের এমন সুসংবাদ দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে উৎসবের আমেজ তৈরি করেছে। তিনি বলেন:
“বাংলাদেশ ফুটবলের প্রতি যে গভীর ভালোবাসা ও অনুরাগ রয়েছে, তা নতুন করে বলার কিছু নেই। খেলোয়াড় ও দর্শক উভয়ের হৃদয়ে দাগ কাটবে—এমন একটি দৃষ্টিনন্দন ও সফল টুর্নামেন্ট বাংলাদেশ উপহার দেবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।”
সাফের ইতিহাস ও বাংলাদেশের সম্ভাবনা
২০০৩ সালে আয়োজক দেশ হিসেবে প্রথমবার সাফের শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছিল বাংলাদেশ। এরপর বিভিন্ন সময়ে ফাইনাল ও সেমিফাইনালে পৌঁছালেও জয়ের খরা কাটেনি। সর্বশেষ ২০২৩ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত সাফের ১৪তম আসরে ভারত চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল এবং বাংলাদেশ দীর্ঘ ১৪ বছর পর সেমিফাইনালে স্থান করে নিয়ে চমৎকার ফুটবল উপহার দিয়েছিল।
ঘরের মাঠে পরিচিত দর্শকদের সামনে খেলার সুযোগ নিশ্চিতভাবেই বাংলাদেশ জাতীয় দলকে বড় মানসিক সুবিধা দেবে। ২০১৮ সালের টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না পেলেও, ২০২৬ আসরে শক্তিশালী দল নিয়ে মাঠে নেমে নিজেদের দ্বিতীয় সাফ শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখছেন স্থানীয় সমর্থক ও খেলোয়াড়েরা। আগামী কয়েক মাস জুড়ে টুর্নামেন্টের লোগো উন্মোচন, গ্রুপিং এবং ট্রফি ট্যুরকে কেন্দ্র করে দেশের ফুটবল মাঠে এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হতে যাচ্ছে।