
ফকল্যান্ড নিয়ে ফের সরগরম ফুটবল, নতুন বিতর্কে ফিফার তদন্ত!
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ (যা আর্জেন্টাইনদের কাছে ‘মালভিনাস’ নামে সুপরিচিত) কেন্দ্রিক ঐতিহাসিক বিতর্ক খেলার মাঠে নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও সম্প্রতি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার পর আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের ‘মালভিনাস আর্জেন্টিনার’ ব্যানার প্রদর্শনের তীব্র প্রতিবাদ উঠেছে। এই ঘটনায় বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা ইতোমধ্যেই আনুষ্ঠানিক শৃঙ্খলাভঙ্গের তদন্ত শুরু করেছে। কিন্তু ফিফার এমন কড়া আইনি নজরদারির তোয়াক্কা না করেই আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় বিভাগের ঐতিহ্যবাহী ক্লাবহাল আলমিরান্তে ব্রাউন বিষয়টি নতুন করে উসকে দিয়েছে।
রেসিং দে কর্দোবার বিপক্ষে লিগের এক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিজেদের প্রথাগত হলুদ-কালো ডোরাকাটা পোশাক পুরোপুরি বাদ দিয়ে মাঠের লড়াইয়ে নামে আলমিরান্তে ব্রাউন। তার বদলে তারা পরিধান করে আর্জেন্টিনার জাতীয় পতাকার আদলে নীল-সাদা স্ট্রাইপের বিশেষ এক জার্সি। সেই জার্সির বুকের ওপর বিশালাকারে লেখা ছিল জাতীয়তাবাদী সেই বিখ্যাত স্লোগান—‘মালভিনাস আর্জেন্টিনার’। শুধু তাই নয়, জার্সির পেছনের অংশে নম্বর চিহ্নিত স্থানে আঁকা ছিল মহাতারকা লিওনেল মেসির দু’হাত আকাশের দিকে তুলে স্মরণীয় সেই উদযাপনের বিশেষ প্রতীক। ক্লাব কর্তৃপক্ষ ম্যাচ শুরুর আগে সামাজিক মাধ্যমে নিজেদের আবেগ প্রকাশ করে জানায়, এই দ্বীপের প্রতি ভালোবাসা এবং জাতীয়তাবাদী গর্ব প্রকাশ করতেই এই বিশেষ উদ্যোগ। ম্যাচ জয়ের পর দলটির ছবি পোস্ট করে কেবল লেখা হয়, “ওরা সত্যি আর্জেন্টাইন!”
ফুটবলের মঞ্চে রাজনৈতিক বা ধর্মীয় প্রচার প্রতিহত করতে ফিফার নীতিমালা অত্যন্ত কঠোর। এর আগে ২০১৪ সালে স্লোভেনিয়ার বিপক্ষে এক প্রীতি ম্যাচে একই বার্তা সংবলিত ব্যানার উঁচিয়ে ধরার অপরাধে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে (এএফএ) ২০ হাজার পাউন্ড আর্থিক জরিমানা গুণতে হয়েছিল। ফিফার বিদ্যমান এই আইনের কারণে বর্তমান তদন্তেও আর্জেন্টাইন ফুটবল সংস্থা কিংবা দলের কোচিং স্টাফদের ওপর মোটা অঙ্কের জরিমানা ও শাস্তির আশঙ্কা উঁকি দিচ্ছে।
উল্লেখ্য, ভৌগোলিকভাবে আর্জেন্টিনার মূল ভূখণ্ড থেকে মাত্র ৩০০ মাইল দূরত্বে অবস্থিত এই ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জটি ১৮ ৩৩ সাল থেকে ব্রিটিশদের হস্তগত রয়েছে। সার্বভৌমত্বের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৮২ সালে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে ৭৪ দিনের রক্তক্ষয়ী এক যুদ্ধ সংগঠিত হয়, যেখানে দুই দেশের মোট ৯১০ জন সেনাসদস্য প্রাণ হারান। যুদ্ধ থামলেও আর্জেন্টাইন অধিবাসীদের জাতীয়তাবাদী আবেগ ও স্মৃতিতে মালভিনাস এখনও তাদের ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে রয়ে গেছে।