
মেসির জাদুকরী চার গোলে মিয়ামির ইতিহাস গড়া জয়
ফুটবল মাঠে লিওনেল মেসি যেন সময়ের সীমানা ছাড়িয়ে যাওয়া এক বিস্ময়। বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তিনি মাঠে নামলেই তৈরি হয় নতুন কোনো ইতিহাস। ঠিক তেমনই এক জাদুকরী রাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দিলেন এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা। ইন্টার মিয়ামির জার্সিতে সিএফ মন্ট্রিয়লের বিপক্ষে ম্যাচে মাঠে নেমেই একাই চার গোল করলেন তিনি। তার এই অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সের সুবাদে প্রতিপক্ষকে ৭-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে ইন্টার মিয়ামি। ক্লাবটির ইতিহাসে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় গোলের ব্যবধানে জয়।
ম্যাচ শুরুর আগে বেশ কিছু অস্বস্তি ও চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল মিয়ামি শিবির। টানা পাঁচ ম্যাচে জয়হীন থাকার খরা কাটছিলই না। এর ওপর কোচের অনুপস্থিতি এবং নানা গুঞ্জনে দলীয় পরিবেশ কিছুটা অস্থিতিশীল ছিল। নতুন স্থায়ী কোচ হিসেবে ক্রিস্টিয়ান ‘কিলি’ গঞ্জালেজের নাম ঘোষণা করা হলেও কাজের অনুমতিপত্র না পাওয়ায় তিনি এই ম্যাচে ডাগআউটে দাঁড়াতে পারেননি। অন্তর্বর্তী কোচও নিষিদ্ধ থাকায় সহকারী কোচ রাফায়েল পেরেজকে সামলাতে হয় মাঠের পাশের গুরুদায়িত্ব। তবে মাঠের ভেতরে এসবের কোনো প্রভাব পড়তে দেননি মেসি।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে মিয়ামি। খেলার ৪০ মিনিটে প্রথম সাফল্য পান মেসি। তার দুর্দান্ত ফ্রি-কিক গোলরক্ষকের গায়ে লেগে জালে জড়ালে এগিয়ে যায় দল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ৫২ মিনিটে অসাধারণ এক একক প্রচেষ্টায় বল নিয়ে দৌড়ে গিয়ে ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোলটি আদায় করে নেন তিনি। শুধু গোল করা নয়, সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোতেও ছিলেন সমানতালে সক্রিয়। উরুগুইয়ান স্ট্রাইকার লুইস সুয়ারেজকে দিয়ে একটি দারুণ গোল করান তিনি।
ম্যাচের শেষ দিকে এসে নিজের গোল উৎসব পূর্ণ করেন মেসি। খেলার নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার মাত্র সাত মিনিট আগে প্রতিপক্ষের গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে বল আলতো করে চিপ করে জালে পাঠান। এই গোলের মাধ্যমেই চলতি ম্যাচে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি। তবে সেখানেই থামেননি। ম্যাচের ইনজুরি টাইমে আরও একটি ফ্রি-কিক থেকে নিখুঁত শটে বল জালের কোণায় জড়িয়ে নিজের চতুর্থ গোলটি তুলে নেন।
ক্যারিয়ারে এটি অষ্টম বারের মতো এক ম্যাচে চার বা তার বেশি গোল করার কীর্তি মেসির। তবে ইন্টার মিয়ামিতে যোগ দেওয়ার পর এটিই তার প্রথম চার গোলের ম্যাচ। এর আগে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্প্যানিশ লা লিগায় বার্সেলোনার জার্সিতে এইবারের বিপক্ষে সবশেষ এক ম্যাচে চার গোল করেছিলেন তিনি। এই চার গোল করার সুবাদে মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) গোলদাতাদের তালিকায় এখন সবার ওপরে উঠে এসেছেন মেসি। চলতি মৌসুমে মাত্র ১৯ ম্যাচে তার নামের পাশে এখন ১৮টি গোল জমা হয়েছে। তার ঠিক পরেই রয়েছেন এফসি ডালাসের ফরোয়ার্ড পিটার মুসা।
গত ২৫ জুলাইয়ের পর এটিই এমএলএসে মিয়ামির প্রথম জয়। দীর্ঘ ৫ ম্যাচের জয়হীন থাকার অস্বস্তি কাটিয়ে এই বিশাল জয়ে ঘুরে দাঁড়াল দলটি। এই ম্যাচে আরও একটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল গ্রীষ্মকালীন দলবদলে মিয়ামিতে যোগ দেওয়া ব্রাজিলিয়ান তারকা কাসেমিরোর গোল। দলের হয়ে এটিই তার প্রথম গোল, যা দলের জয়কে আরও বড় করেছে। এছাড়া ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ৮৯ মিনিটে মিয়ামির হয়ে সপ্তম গোলটি করেন ১৮ বছর বয়সী তরুণ প্রতিভা আলেকজান্ডার শ।
এই জয়ের ফলে এমএলএসের ইস্টার্ন কনফারেন্সের পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের দ্বিতীয় অবস্থান শক্তভাবে ধরে রেখেছে ইন্টার মিয়ামি। এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে ন্যাশভিল এসসি। অন্যদিকে বড় ব্যবধানে হেরে যাওয়া সিএফ মন্ট্রিয়ল রয়েছে তালিকার ১৪ নম্বর অবস্থানে। কঠিন সময়ে দলের এমন দুর্দান্ত জয় এবং অধিনায়ক মেসির অসামান্য ফর্ম আগামী ম্যাচগুলোতে মিয়ামি শিবিরকে আরও বেশি আত্মবিশ্বাস জোগাবে।