
প্রিমিয়ার লিগে লাল কার্ডের সেঞ্চুরি পূর্ণ করল চেলসি
স্টামফোর্ড ব্রিজে রোমাঞ্চকর এক ম্যাচে টটেনহাম হটস্পারের কাছে দুই গোলে পরাজিত হয়েছে স্বাগতিক চেলসি। এই ম্যাচের মাধ্যমেই ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত মাইলফলক ছুঁয়েছে ব্লুজরা। ম্যাচে দলের অন্যতম ভরসা কোল পালমার লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ার সুবাদে প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে লাল কার্ডের সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছে ক্লাবটি। দীর্ঘ এই প্রতিযোগিতার ইতিহাসে শত বা তার বেশি লাল কার্ড দেখা ক্লাবগুলোর তালিকায় এবার আনুষ্ঠানিকভাবে নাম লেখাল স্টামফোর্ড ব্রিজের এই দল।
ম্যাচের বয়স যখন ৮০ মিনিট, ঠিক তখনই ঘটে সেই অপ্রীতিকর ঘটনা। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে ফাউল করার দায়ে রেফারি কোল পালমারকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড এবং পরবর্তীতে লাল কার্ড দেখাতে বাধ্য হন। ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে ৪১টি এবং চেলসির জার্সিতে ১৪১টি ম্যাচ খেলা এই ২৪ বছর বয়সি ইংলিশ উইঙ্গারের দীর্ঘ পেশাদার ক্যারিয়ারে এটিই প্রথম লাল কার্ডের অভিজ্ঞতা। অথচ ম্যাচজুড়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে বেশ কয়েকবার ভীতি ছড়িয়েও শেষ পর্যন্ত মেজাজ ধরে রাখতে পারেননি তিনি। তার এই আচরণ এবং দলটির হার ভক্তদের জন্য হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইংলিশ প্রিমিিয়ার লিগের অফিশিয়াল পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, লাল কার্ডের এই শতক ছোঁয়া ক্লাবের তালিকায় চেলসির আগে রয়েছে আরও কয়েকটি পরিচিত নাম। এই বিব্রতকর রেকর্ডের শীর্ষস্থানগুলোতে অবস্থান করছে ঐতিহ্যবাহী দল এভারটন এবং আর্সেনাল। প্রতিযোগিতার শুরু থেকে আজ পর্যন্ত এই ক্লাবগুলোর খেলোয়াড়েরা মাঠের শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে সবচেয়ে বেশিবার বহিষ্কৃত হয়েছেন। তবে এই দুই দলের বাইরে শতকের ঘর থেকে খুব দূরে নেই নিউক্যাসল ইউনাইটেড। দলটির খেলোয়াড়দের মোট লাল কার্ডের সংখ্যা এখন পর্যন্ত ছিয়ানব্বইটিতে গিয়ে ঠেকেছে।
অন্যদিকে, ম্যানচেস্টারের দুই প্রধান দল মাঠের শৃঙ্খলার দিক থেকে কিছুটা হলেও এগিয়ে রয়েছে। প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে ম্যানচেস্টার সিটির খেলোয়াড়েরা এ পর্যন্ত সত্তরটি ও আটটি ক্ষেত্রে লাল কার্ড দেখেছেন। তাদের ঠিক কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে রেড ডেভিল খ্যাত ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, যাদের খেলোয়াড়দের নামের পাশে রয়েছে সত্তরটি ও সাতটি লাল কার্ড। ফলে এই দুই জায়ান্ট ক্লাবের ক্ষেত্রে শতকের মাইলফলকে পৌঁছাতে হলে আরও বেশ কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে।
চলমান প্রিমিয়ার লিগের মৌসুমেও শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়টি বেশ আলোচিত হচ্ছে। টুর্নামেন্টের বর্তমান সময় পর্যন্ত মোট বারোজন খেলোয়াড় সরাসরি বা দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের সুবাদে মাঠের বাইরে চলে যাওয়ার শাস্তি পেয়েছেন। এর মধ্যে ব্রেন্টফোর্ড এবং সান্ডারল্যান্ড ক্লাবের ফুটবলাররা দুটি করে লাল কার্ড দেখে বর্তমান মৌসুমের এই শাস্তির তালিকায় কিছুটা এগিয়ে রয়েছেন। বর্তমান মৌসুমে চেলসির এটি প্রথম লাল কার্ড হলেও ঠিক গত মৌসুমের পরিসংখ্যান দলটির জন্য ছিল অত্যন্ত বিব্রতকর।
২০২৫-২৬ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগের দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি লাল কার্ড দেখার রেকর্ড গড়েছিল চেলসি। সেবার দলটির বিভিন্ন ফুটবলার মাঠের শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে মোট আটবার লাল কার্ড দেখে শাস্তি ভোগ করেছিলেন। তবে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ লাল কার্ড পাওয়ার সর্বকালীন রেকর্ডটি চেলসির দখলে নেই। প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ নয়টি করে লাল কার্ড দেখার অনন্য বা অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডটি যৌথভাবে রয়েছে দুটি ক্লাবের কাছে। এর মধ্যে ২০০৯-১০ মৌসুমে সান্ডারল্যান্ড এবং ২০১১-১২ মৌসুমে কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্সের খেলোয়াড়েরা এই অনভিপ্রেত রেকর্ডের জন্ম দিয়েছিলেন।
মাঠের লড়াইয়ে পয়েন্ট হারানোর বেদনা ছাড়াও শৃঙ্খলার এই রেকর্ডগুলো দলগুলোর দীর্ঘমেয়াদি পারফরম্যান্সের ওপর ছায়া ফেলে। কোল পালমারের মতো তরুণ ও প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের এমন আচরণ কোচ ও টিম ম্যানেজমেন্টের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। সামনের ম্যাচগুলোতে খেলোয়াড়দের আরও সংযত হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। অন্যথায় কার্ডের খড়্গ সামলে শীর্ষ চারে টিকে থাকা দলটির জন্য আরও কঠিন হয়ে উঠবে।