
ব্রাজিলের স্কোয়াডে তারুণ্যের ছোঁয়া, বাদ ছয় অভিজ্ঞ তারকা
নভেম্বরে জাপান ও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে মাঠে নামবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। এই দুই ম্যাচের জন্য ঘোষিত দলে নেই গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার ও এদেরসন। রক্ষণভাগে অনুপস্থিত মার্কিনিওস ও এদের মিলিতাও। মাঝমাঠে জায়গা হয়নি অভিজ্ঞ ক্যাসেমিরো ও লুকাস পাকেতারও। জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা এসব পরিচিত মুখকে ছাড়াই দল সাজিয়েছেন আনচেলত্তি।
তাদের অনুপস্থিতিতে নতুন পাঁচ ফুটবলারকে প্রথমবারের মতো সিনিয়র জাতীয় দলে সুযোগ দিয়েছেন ব্রাজিল কোচ। তারা হলেন আন্দ্রে লুইজ, মারলন গোমেস, জনাথন জেসুস, অ্যালিসন সান্তানা ও অ্যালান। বয়স ও অভিজ্ঞতায় তুলনামূলক পিছিয়ে থাকলেও ক্লাব পর্যায়ে নিজেদের সামর্থ্যের পরিচয় দিয়েছেন তারা। এবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে সেই পারফরম্যান্স ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে তাদের সামনে।
নবাগতদের মধ্যে মারলন গোমেস ও অ্যালিসন সান্তানার বয়সভিত্তিক জাতীয় দলে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। মারলন ব্রাজিলের অলিম্পিক দলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। অন্যদিকে অ্যালিসন খেলেছেন অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় দলে। বর্তমানে দুজনই ইউক্রেনের ক্লাব শাখতার দোনেৎস্কের হয়ে খেলছেন। ইউরোপীয় ফুটবলে নিজেদের অভিজ্ঞতা এবার জাতীয় দলের জার্সিতে কাজে লাগানোর সুযোগ পাবেন তারা।
অন্য তিন নবাগতও বিভিন্ন ক্লাবে নিজেদের জায়গা তৈরি করেছেন। আন্দ্রে লুইজ খেলছেন ব্রাজিলের ক্লাব করিন্থিয়াসে। জনাথন জেসুসের ক্লাব ক্রুজেইরো। আর অ্যালান খেলছেন ইংলিশ ফুটবলের অন্যতম শীর্ষ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটিতে। প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ডাক পাওয়ায় পাঁচজনের জন্যই এটি ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
অভিজ্ঞদের বাদ পড়লেও ব্রাজিলের স্কোয়াডে তারকা ফুটবলারের অভাব নেই। আক্রমণভাগে রয়েছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনিয়া, এস্তেভাও ও এন্দ্রিকের মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড়। রক্ষণভাগে আছেন গ্যাব্রিয়েল ম্যাগালহায়েস। মাঝমাঠে দলের অন্যতম ভরসা ব্রুনো গিমারায়েস।
তবে পরিচিত তারকাদের উপস্থিতি থাকলেও সামগ্রিকভাবে দলটি বেশ তরুণ। জাতীয় দলের হয়ে অনেক খেলোয়াড়ের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা তুলনামূলক কম। কয়েকজনের ঝুলিতে রয়েছে মাত্র এক বা দুটি ম্যাচ। ফলে জাপান ও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে লড়াইয়ে নতুনদের পারফরম্যান্স বিশেষ গুরুত্ব পাবে।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে একটি শক্তিশালী দল গড়ে তুলতে শুধু মূল একাদশের ওপর নির্ভর করলেই চলে না। দীর্ঘ প্রতিযোগিতায় চোট, নিষেধাজ্ঞা কিংবা ক্লান্তির কারণে নিয়মিত খেলোয়াড়দের বাইরে থাকতে হতে পারে। তখন বিকল্প খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি দলের পারফরম্যান্সে বড় ভূমিকা রাখে। আনচেলত্তির এবারের দল নির্বাচনে সেই বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৪ নভেম্বর সিঙ্গাপুরে জাপানের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। এরপর ১৭ নভেম্বর একই ভেন্যুতে স্বাগতিক সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে খেলবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
দুটি ম্যাচেই আনচেলত্তির সামনে নতুন খেলোয়াড়দের সামর্থ্য যাচাইয়ের সুযোগ থাকবে। বিশেষ করে প্রথমবার জাতীয় দলে ডাক পাওয়া পাঁচ ফুটবলার কতটা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজেদের মেলে ধরতে পারেন, তা দেখার অপেক্ষায় থাকবেন সমর্থকরা। তাদের পারফরম্যান্স সন্তোষজনক হলে ভবিষ্যতে ব্রাজিলের মূল স্কোয়াডে জায়গা ধরে রাখার পথও তৈরি হতে পারে।