ক্রিকেটের ডেড বল । ক্রিকেট খেলার ২৩ নম্বর আইন । খেলাধুলার আইন

ক্রিকেটের ডেড বল । ক্রিকেট খেলার ২৩ নম্বর আইন । খেলাধুলার আইন

 

ক্রিকেটের ডেড বল । ক্রিকেট খেলার ২৩ নম্বর আইন । খেলাধুলার আইন

১। বল ডেড হয়, যখন

(অ) তা উইকেটরক্ষকের বা বোলারের হাতে চুড়ান্ত ভাবে জমা পড়ে।

(আ) বাউন্ডারিতে পৌঁছায় বা তার ওপর দিয়ে পাঁচ পড়ে।

(ই) একজন ব্যাটসম্যান আউট হলে

(ঈ) বলটি খেলা হোক বা না হোক কোন ব্যাটসম্যানের পোশাকে বা উপকরণে বা আম্পায়ারের পোশাকে আটকে গেলে।

(উ) ফিল্ডিং দলের কোন সদস্যের মাথা বাঁচাবার ‘হেলমেট’ পরাকালীন বলটি তাতে আটকে যায়।

(উ) কোন ‘পেনাল্টি আইন নং ২০ (লট বল) বা আইন নং ৪১১ (ফিল্ডিং দি বল ) অনুযায়ী প্রদান করা হয় ।

(ক্ষ) আম্পায়ার ‘ওভার’ বা “টাইম” ডাকেন।

২। যে কোন আম্পায়ার ‘ডেড বল’ ডাকবেন এবং সংকেত দেবেন,যখন :

(অ) তিনি অসংগত খেলায় মধ্যস্থতা করেন।

(আ) কোন খেলোয়াড় বা আম্পায়ারের গুরুতর আঘাত লাগে।

(ই) যথেষ্ট কারণবশতঃ তিনি সন্তুষ্ট হন যে ট্রাইকার বলটি খেলার জন্য প্রস্তুত নন এবং খেলারও তিনি চেষ্টা করেন নি ।

(ঈ) বোলারের হাত থেকে ফসকে পড়ে যায় বা কোন কারণে তার বলটি না বেরোয়।

(উ) স্ট্রাইকার বল পাবার আগেই যদি তাঁর উইকেট থেকে একটি বা উভয় বেল পড়ে যায়।

(ঊ) যখন তিনি আলোচনার জন্য তাঁর সাধারণ দাঁড়াবার স্থান ত্যাগ করেন।

(ঋ) যখন তাঁকে আইন নং ২৬.৩ অনুযায়ী (লেগ বাই প্রভৃতি বাতিল) কার্যভার নিতে হয়।

 

৩। বল ডেড হিসাবে গণ্য করা হবে না, কখন

বল করার জন্য বোলার দৌড় শুরু বা বোলিং অ্যাকশন শুরু করে দিয়েছেন।

৪ । বল ডেড নয়, কখন

(অ) আম্পায়ারের গায়ে বল লাগে (অবশ্য যদি না তাঁর পোশাকের মধ্যে আটকে যায়)।

(আ) উইকেট ভেঙ্গে বা বল মেরে ফেলে দেয়া হয় (যদি না সে জন্যে কোন ব্যাটসম্যান আউট হন)।

(ই) নিষ্ফল আবেদন করা হয়।

(ঈ) ঘটনাক্রমে কোন একটি বোলার বল ডেলিভারি করার সময় বা একটি ব্যাটসম্যান রান নেবার সময় উইকেট ভেঙ্গে যায়।

(উ) আম্পায়ার ‘নো বল’ বা ‘ওয়াইড বল’ ডাকেন।

টীকা

(ক) বলের চূড়ান্ত জমা

উপরোক্ত আইন ১ (অ) অনুযায়ী বল চূড়ান্তভাবে জমা হয়েছে কিনা এটা আম্পায়ারদের প্রশ্ন এবং কেবল তাঁরাই সিদ্ধান্ত নেবেন।

(খ) ডেড বল ডাকা বিষয়ে করণীয়

(অ) স্ট্রাইকার একটি ডেলিভারি পাবার আগেই যদি ‘ডেড বল’ ডাকা হয় তাহলে বোলারকে আর একটি বাড়তি বল করতে দিতে হবে।

(আ) যদি স্ট্রাইকার কোন বল পাবার পর ‘ডেড বল’ ডাকা হয় তাহলে বোলারকে আর কোন বাড়তি বল করতে দেয়া হবে না, যদি না কোন ‘নো বল’ বা ‘ওয়াইড বল’ ডাকা হয়ে থাকে।

 

জ্ঞাতব্য বিষয়

এই আইনের অধীনে চারটি উপধারা আছে। যাদের বিশ্লেষণ পর্যানুক্রমে নিচে উল্লেখ করা হলোঃ

১। সমস্তক্ষেত্রেই আম্পায়ারদের খুব চিন্তা করে ও সব ঘটনাগুলি ভালভাবে লক্ষ্য করে একটি বলের খেলার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবার পর বিচার করা উচিত, সে বলটি সেই অবস্থায় ডেড হয়েছে কিনা? যেমন বোলার বা উইকেটরক্ষকের হাতে যখন চূড়ান্তভাবে বলটি জমা পড়ে গেছে বলটি বাউন্ডারিতে পৌচ্ছছে বা আম্পায়ার ওভার বা টাইম ডেকেছেন প্রভৃতি।

এই সব ব্যাপারে ডেড বল হবার আগে অবধি আম্পায়াররা দেখবেন যেন বলটির মেয়াদ থাকাকালীন ফিল্ডিং দলের পক্ষে বিপক্ষ দলের কোন উইকেট ফেলে দিতে অসুবিধা না হয়। যেমন একজন ফার্স্ট বোলার একটি বল দেবার পর সেই বলটি স্ট্রাইকার না খেলায় সরাসরি উইকেটরক্ষকের হাতে জমা পড়ল।

এই অবস্থায় যদি স্ট্রাইকার পপিং ক্রীজের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকেন ও বলটি উইকেটরক্ষক হাতে ধরে থাকেন এবং যদি আম্পায়ারের মতে তখনও বলটির খেলার মেয়াদ থাকে ও কোন উপায়ে ফিল্ডিং দলের ব্যাটসম্যানকে আউট করার অবস্থা তখনও থাকে তাহলে উইকেটরক্ষকের হাতে বলটি চূড়ান্তভাবে জমা হয়েছে বলে ধরা হবে না। এক্ষেত্রে বলটি ‘ডেড’ হয় না।

একজন ব্যাটসম্যান আউট হলে বা যদি বলটি ব্যাটসম্যান বা আম্পায়ারের পোশাকে, উপকরণে অথবা কোন ফিল্ডারের বা ব্যাটসম্যানের হেলমেটে আটকে যায় তখন সেই বলটির খেলার মেয়ান চলে গিয়ে ডেড’ হয়। এই সকল অবস্থায় যদি দু’জন ব্যাটসম্যান বলটি আটকাবার সময়, রান নিতে গিয়ে পরস্পরকে অতিক্রম করেন তাহলে যে রানটি নেয়া হচ্ছিল, সেটা গণ্য হবে।

২। সাধারণতঃ কোন আচরণ বা অসংগত খেলা ও কোন খেলোয়াড় গুরুতর আহত হয়ে পড়লে বলটির মেয়াদ চলে যায়, তখন যে কোন আম্পায়ার ‘ডেড বল’ ডাকেন ও সংকেত দেন। অসংগত খেলা বা গুরুতর আঘাত এই দুটি ব্যাপারেই আম্পায়ারের নিজস্ব বিচার বিবেচনার ওপর নির্ভর করে, এবং তাকে মাঠের ঘটনা অনুযায়ী তৎক্ষনাৎ সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ও ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

যদি দেখা যায় একজন ব্যাটসম্যান একটি বাম্পার বল খেলতে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পেলেন এবং উইকেটের ওপর পড়ে যাওয়ায় উইকেটটি ভেঙে যায় তাহলে এক্ষেত্রে ব্যাটসম্যানকে হিট উইকেট’ দেয়া হবে কিনা তার চূড়ান্ত বিচার সংশ্লিষ্ট আম্পায়ারের উপর নির্ভর করে। যদি আম্পায়ার মনে করেন যে ব্যাটসম্যানের সেই মুহূর্তে পুরোপুরি জ্ঞান ছিল না। বা তার খেলার ভঙ্গী সম্পূর্ণ হয়েছে তাহলে আম্পায়ারের তাকে আউট ঘোষণা করা ঠিক হবে না।

 

যদি স্ট্রাইকার বল খেলার জন্য প্রস্তুত না থাকেন, এবং সেটি খেলার জন্য কোন চেষ্টাই না করেন বা বোলারদের বল ডেলিভারি করার পূর্বেই হঠাৎ বলটি ফসকে যায় বা তাঁর হাত থেকে কোন কারণে বলটি না বেরোয়, আম্পায়ারকে তখন ‘ডেড বল’ ডাকতে ও সংকেত দিতে হবে। খেলার মেয়াদ থাকাকালীন বোলারের একটি বল ডেলিভারি হবার পর বলটি পৌঁছবার আগেই যদি কোন বেল পড়ে যায় তাহলে ট্রাইকার প্রান্তের আম্পায়ার তখন ‘ডেড বল’ ডাকতে পারেন।

কখনও কোন বিষয়ে যদি একজন আম্পায়ার তাঁর সতীর্থের সঙ্গে আলোচনা করবার দরকার আছে মনে করেন তখন তিনি ‘ডেড বল’ ডাকবেন ও সংকেত দিতে পারেন। কিন্তু যখন স্ট্রাইকারের ইচ্ছাকৃতভাবে দেহের যে কোন অংশ দিয়ে বলটি খেলার অপরাধে ‘লেগ বাই’ নাকচ করা হয় তখন বোলার প্রান্তের আম্পায়ারের পক্ষেই ‘ডেড বলা ডাকা ও সংকেত দিতে হবে। বোলার প্রান্তের আম্পায়ারই সাধারণতঃ ‘ডেড বল’ ডাকেন ও সংকেত দেন, তবে আইনে বলা আছে, যে প্রয়োজনে, যে কোন আম্পায়ার ‘ডেড বল’ ডাকতে বা সংকেত দিতে পারেন।

কোন ফিল্ডারের আবেদন আম্পায়ার অগ্রাহ্য করলে তখন বল ডেড হয় না। বোলার প্রান্তের আম্পায়ার যদি আহত হয়ে পড়েন, তখন স্ট্রাইকার প্রান্তের আম্পায়ার প্রয়োজনে ‘ডেড বল’ ডাকবেন ও সংকেত দেবেন ।

৩। স্ট্রাইকার খেলার জন্য প্রস্তুত হবার পর বোলার বল ডেলিভারি করার জন্য তাঁর রান আপ শুরু করার মুহূর্ত থেকেই সেই বলটি আর ডেড থাকে না; এবং সেটির খেলার মেয়াদ শুরু হয়ে যায়। আম্পায়ারদের এক্ষেত্রে খুব সজাগ থাকা উচিত এবং তাঁর মতে প্রকৃত ‘ডেড বল’ এর মুহূর্তটি নিখুঁতভাবে বিচার করে তবে ‘ডেড বল’ ডাকা ও সংকেত দেয়া উচিত।

৪। এমন বহু ঘটনা দেখা গেছে, বলটি খেলার মেয়াদে থাকাকালীন আম্পায়ারের গায়ে লেগে অব্যর্থ রান আউটের মারফৎ উইকেটের পতন ঘটাবার অবস্থা সৃষ্টি করে ফিল্ডাররা দ্বিধাগ্রস্থ হয়ে আউটের আবেদন জানান। এক্ষেত্রে আম্পায়ারকে রান আউটের সিদ্ধান্ত দিতেই হবে। কিন্তু যদি বলটি আম্পায়ারের পোশাকে আটকে যায় তবে বলটি ‘ডেড বল’ গণ্য হবে। যতক্ষণ না কোন ব্যাটসম্যানের উইকেট ভাঙার পদ্ধতিতে আউট হন ততক্ষণ উইকেট আকস্মিকভাবে ভাঙা হলেও বলটি ডেড হয় না। এছাড়াও আম্পায়ার ‘নো বল’ বা ‘ওয়াইড বল’ ডাকলে কখনও বল ‘ডেড’ হয় না। বোলার বল দেবার সময় ও ব্যাটসম্যানেরা রান নেবার সময় উইকেট ভেঙে গেলে বল ডেড হয় না।

Leave a Comment