
অবসরের ইঙ্গিত দিলেন দি মারিয়া
কোপা লিবার্তাদোরেস থেকে রোজারিও সেন্ট্রালের বিদায়ের পর নিজের ফুটবল ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানিয়েছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী তারকা আনহেল দি মারিয়া। করিন্থিয়ানসের কাছে ১-০ গোলে হেরে শেষ ষোলো থেকে ছিটকে যাওয়ার পর আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেছেন, সামনে কী করবেন, সেটি নিয়ে এখন নতুন করে ভাবতে হবে। তাঁর কথায় স্পষ্ট, ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়টি হয়তো খুব বেশি দূরে নয়।
বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত শেষ ষোলোর দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে করিন্থিয়ানসের মাঠে জয় পায়নি রোজারিও সেন্ট্রাল। ১-০ ব্যবধানে হারের ফলে প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নেয় আর্জেন্টিনার ক্লাবটি। ম্যাচের পর হতাশা প্রকাশ করে দি মারিয়া বলেন, তাঁর স্বপ্ন ছিল অন্যরকম। দলকে নিয়ে আরও দূর এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নিজেও খেলা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল তাঁর। কিন্তু ফুটবলে সব সময় প্রত্যাশামতো ফল আসে না।
ইএসপিএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দি মারিয়া বলেন, এটি তাঁর জন্য কঠিন একটি মুহূর্ত। তিনি আরও জানান, সামনে কী করতে চান, সেটি এখন তাঁকে ভেবে দেখতে হবে। তাঁর এই বক্তব্য থেকেই অবসরের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ম্যাচের পারফরম্যান্স নিয়েও হতাশ ছিলেন ৩৮ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন তারকা। ফক্স স্পোর্টসকে তিনি জানান, গোল করার সুযোগ তৈরি হয়েছিল, কিন্তু দল সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি। নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী ম্যাচটি এগোয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। রোজারিও সেন্ট্রাল লড়াই করলেও কাঙ্ক্ষিত ফল আদায় করতে পারেনি।
করিন্থিয়ানসের এই মাঠটির সঙ্গে দি মারিয়ার ব্যক্তিগত স্মৃতিও জড়িয়ে আছে। প্রায় ১২ বছর আগে একই স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ে গোল করেছিলেন তিনি। সেই গোল আর্জেন্টিনাকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলেছিল এবং শেষ পর্যন্ত তাঁরা পৌঁছেছিল বিশ্বকাপের ফাইনালে। ২০১৪ সালের সেই আসরেই আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় তৈরি করেন দি মারিয়া।
ইউরোপে দীর্ঘ ১৮ বছরের সফল ক্যারিয়ার কাটানোর পর ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে শৈশবের ক্লাব রোজারিও সেন্ট্রালে ফিরে আসেন দি মারিয়া। প্যারিস সাঁ জার্মাঁ, রিয়াল মাদ্রিদ, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, জুভেন্টাস ও বেনফিকার মতো ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। জাতীয় দলের হয়েও তাঁর সাফল্যের তালিকা দীর্ঘ। আর্জেন্টিনার হয়ে তিনি কোপা আমেরিকা, বিশ্বকাপ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
রোজারিও সেন্ট্রালে ফেরার পরও দলের আক্রমণভাগে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে চলেছেন দি মারিয়া। ক্লাবটিতে প্রত্যাবর্তনের পর এখন পর্যন্ত ৪৩টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। এই সময়ে করেছেন ১৪টি গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৭টি গোল।
গত জুনে রোজারিও সেন্ট্রালের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত করেন দি মারিয়া। সেই চুক্তি অনুযায়ী মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় তাঁর বয়স হবে ৩৯ বছর। ফলে চুক্তি অনুযায়ী তিনি আরও প্রায় এক বছর মাঠে থাকার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে বৃহস্পতিবারের পর তাঁর বক্তব্যে সেই পরিকল্পনাও যেন কিছুটা অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।
অবশ্য এখনই অবসরের ঘোষণা দেননি দি মারিয়া। তিনি শুধু জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁকে নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তাই শেষ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সময় নিয়ে ভাবতে চান এই বিশ্বকাপজয়ী তারকা।
রোজারিও সেন্ট্রালের হয়ে কোপা লিবার্তাদোরেস অভিযান শেষ হয়ে যাওয়ার মুহূর্তটি তাই দি মারিয়ার ক্যারিয়ারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক হয়ে উঠেছে। ২০২৭ সাল পর্যন্ত চুক্তি থাকা সত্ত্বেও তিনি মাঠে থাকবেন কি না, নাকি তার আগেই বুট জোড়া তুলে রাখবেন—সেটিই এখন আর্জেন্টাইন ফুটবলে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।