
ইংলিশ একাডেমি ফেরত তরুণ উইঙ্গার অ্যাডাম আব্বাসকে দলে ভেড়াচ্ছে বাংলাদেশ
বাংলাদেশি ফুটবলে প্রবাসী প্রতিভা অন্বেষণের দুর্দান্ত ধারা অব্যাহত রয়েছে। হামজা চৌধুরী ও শমিত সোমদের সফল অন্তর্ভুক্তির পর দেশের বয়সভিত্তিক ফুটবলে যুক্ত হতে চলেছেন আরও এক নতুন প্রবাসী তারকা। ইংল্যান্ডে বেড়ে ওঠা ১৯ বছর বয়সি উদীয়মান উইঙ্গার অ্যাডাম আব্বাসকে দেশে নিয়ে আসছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। আগামী ৩১ আগস্ট থেকে ৫ সেপ্টেম্বর উজবেকিস্তানে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া অনূর্ধ্ব-২০ এএফসি এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বের জন্য একটি শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ দল গঠনের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গত সোমবার বাফুফে ভবনে অনুষ্ঠিত ডেভেলপমেন্ট কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সভা শেষে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ফেডারেশনের সহসভাপতি ও কমিটির সভাপতি নাসের শাহরিয়ার জাহেদী। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যেই অ্যাডাম আব্বাস ঢাকায় এসে জাতীয় অনূর্ধ্ব-২০ দলের চলমান প্রস্তুতি ক্যাম্পে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেবেন। আসন্ন এই বাছাইপর্বে ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে শক্তিশালী সিরিয়া, ভারত ও স্বাগতিক উজবেকিস্তান। এই কঠিন লড়াইয়ের জন্য দল গঠনের অংশ হিসেবেই তাকে উড়িয়ে আনা হচ্ছে।
অ্যাডামের শেকড় জড়িয়ে রয়েছে বাংলাদেশের মাটিতে। মাতৃসূত্রে তিনি এ দেশের সঙ্গে যুক্ত, এবং তার মায়ের জন্মস্থান ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্র ও গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তার ফুটবলীয় দক্ষতার হাতেখড়ি হয়েছে বিশ্ববিখ্যাত ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের যুব একাডেমিতে। পরবর্তীতে নিজের ফুটবল মেধার স্বাক্ষর রেখে তিনি ইংলিশ ক্লাব বার্নলির অনূর্ধ্ব-১৮ দলেও নিজের জায়গা করে নেন। গত এপ্রিলেই বাফুফের টেকনিক্যাল টিম তার খেলার ভিডিও ফুটেজ ও পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে মুগ্ধ হয় এবং তাকে দলে ভেড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করে। পরবর্তীতে তার পাসপোর্ট ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক আনুষ্ঠানিকতা সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যাডাম আব্বাস বাংলাদেশ ফুটবলের জন্য একটি অত্যন্ত দুর্লভ ও মূল্যবান সংযোজন হতে যাচ্ছেন। মাঠে তার দারুণ গতি, নিখুঁত ড্রিবলিং ক্ষমতা এবং জালের ঠিকানা খুঁজে নেওয়ার সহজাত গোল করার প্রবণতা তাকে অন্য সাধারণ খেলোয়াড়ের চেয়ে অনেকটাই আলাদা করে তুলেছে। ইউরোপীয় ফুটবলের উচ্চ পর্যায়ে বেড়ে ওঠার কারণে তার এই অভিজ্ঞতা আসন্ন এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে লাল-সবুজ দলের আক্রমণভাগকে আরও বেশি গতিশীল ও ধারালো করে তুলবে বলে জোরালো প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।