
এশিয়ান গেমসে ইউরোপীয় ধারার চমক দেখাতে চান জার্মান মাস্টারমাইন্ড গেরহার্ড
জার্মান কোচ পিটার গেরহার্ডের পুনর্বাসনের মধ্য দিয়ে নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে বাংলাদেশের হকি অঙ্গন। রাসেল মাহমুদ জিমিকে ‘বাংলাদেশের মেসি’ আখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি হকি দলকে ইউরোপীয় ঘরানার খেলায় অভ্যস্ত করতে নিজের সুদূরপ্রসারী ভাবনার কথা জানিয়েছেন এই প্রবীণ কোচ।
হাতে সময় অত্যন্ত কম—মাত্র ছয় সপ্তাহ। কিন্তু এই সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যেও অসম্ভবকে সম্ভব করে এশিয়ান গেমসে প্রতিপক্ষদের চমকে দিতে চান গেরহার্ড। তাঁর মতে, বাংলাদেশ দল যদি ইউরোপীয় কৌশলের গতি ও ডিসিপ্লিন সঠিকভাবে মাঠে প্রয়োগ করতে পারে, তবে এশিয়ান গেমসে যেকোনো পরাশক্তিকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড় করানো সম্ভব। এই কৌশলী ও গতিময় পরিকল্পনা বাস্তবায়নে চলতি মাসেই বাংলাদেশ হকি দলকে জার্মানি সফরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যেখানে স্থানীয় শক্ত মানের দলগুলোর বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবেন লাল-সবুজ প্রতিনিধিরা।
অন্যদিকে, শুধু শারীরিক শক্তি বা কৌশলেই থেমে থাকছে না হকি দলের প্রস্তুতি। মওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে আয়োজিত ‘ট্রেন ইউর মাইন্ড’ শীর্ষক বিশেষ মনস্তাত্ত্বিক কর্মশালা খেলোয়াড়দের মানসিক কাঠামোগত পরিবর্তনের পথ দেখাচ্ছে। দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, ম্যাচ চলাকালীন নার্ভ ধরে রাখা এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করার মতো দক্ষতা বাড়াতে বিশেষজ্ঞরা জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের নিবিড় প্রশিক্ষণ প্রদান করেছেন।
২০০ আন্তর্জাতিক ম্যাচের দ্বারপ্রান্তে থাকা জিমির দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, তরুণ ডিফেন্ডারদের উদ্দীপনা এবং জার্মান কোচিং স্টাফদের কৌশলগত রূপরেখা—সব মিলিয়ে এশিয়ান গেমসে ‘স্বপ্ন নয়, ইতিহাস’ গড়ার লক্ষ্যেই চূড়ান্ত পথে হাঁটছে বাংলাদেশ জাতীয় হকি দল।
এদিকে প্রস্তুতি পর্বের অংশ হিসেবে ক্যাম্পে থাকা ৩৮ জন খেলোয়াড়কে নিয়ে মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হয় ‘ট্রেন ইউর মাইন্ড’ শীর্ষক বিশেষ এক মানসিক স্বাস্থ্য ও পারফরম্যান্স কর্মশালা। “স্বপ্ন নয়, এবার ইতিহাস” স্লোগানে অনুষ্ঠিত এই সেশন নিয়ে জাতীয় দলের ডিফেন্ডার মোহাম্মদ আশরাফুল জানান, ম্যাচের চরম মুহূর্তে কীভাবে মানসিক চাপ সামলে দলগতভাবে খেলতে হয়, তা বিশেষজ্ঞরা হাতে-কলমে শিখিয়েছেন যা এশিয়ান গেমসে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।