
পেলের সাবেক ক্লাব নিউইয়র্ক কসমসে যোগ দিতে পারেন শমিত সোম
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মিডফিল্ডার শমিত সোমকে নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে নতুন করে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। দেশের ফুটবলপ্রেমীদের কাছে ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার পেলের ক্যারিয়ারের শেষ ক্লাব হিসেবে পরিচিত ঐতিহাসিক নিউইয়র্ক কসমস ক্লাবে এবার যোগ দিতে পারেন শমিত। যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল কাঠামোর তৃতীয় স্তরে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী এই ঐতিহ্যবাহী ক্লাবে তাঁর নাম জড়ানোর খবরে দেশের ক্রীড়াঙ্গনেও বেশ কৌতূহল তৈরি হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত খেলোয়াড় কিংবা ক্লাব কর্তৃপক্ষের কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তির খবর নিশ্চিত করেনি।
এর আগে কানাডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের পরিচিত ক্লাব ক্যাভালরি এফসিতে টানা তিন মৌসুম সফলভাবে কাটিয়েছেন শমিত। গত জানুয়ারি মাসে ২০২৬ মৌসুম শুরুর আগেই ক্যাভালরি ছাড়ার ঘোষণা দেন এই মিডফিল্ডার। এরপর থেকেই তিনি ফ্রি এজেন্ট হিসেবে ছিলেন এবং নতুন কোনো ঠিকানা খোঁজার প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন। কানাডার জার্সিতে ক্যারিয়ারের শুরুতে দুটি প্রীতি ম্যাচে অংশ নিলেও পরবর্তী সময়ে নিজের শিকড়ের টানে লাল-সবুজের জার্সি গায়ে জড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। গত বছর বাংলাদেশের নাগরিকত্ব লাভ করার পর জাতীয় দলের হয়ে খেলার সব আইনি জটিলতা কাটিয়ে মাঠে নামেন এই ফুটবলার।
২০২৫ সালের জুন মাসে অনুষ্ঠিত এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের তৃতীয় রাউন্ডের ম্যাচে বাংলাদেশের জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক ঘটে শমিত সোমের। এরপর জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের কার্যকারিতা প্রমাণ করতে খুব বেশি সময় নেননি তিনি। অভিষেকের মাত্র চার মাস পর বাছাইপর্বের একটি রোমাঞ্চকর ম্যাচে হংকংয়ের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে ৪-৩ গোলে দল পরাজিত হলেও অসাধারণ এক গোল করে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের প্রথম গোলটি নামের পাশে যোগ করেন শমিত। দেশের জার্সিতে তাঁর এই পারফরম্যান্স ফুটবল সমর্থকদের মাঝে দারুণ আশার সঞ্চার করেছিল।
এদিকে শমিতের সম্ভাব্য নতুন ঠিকানা নিউইয়র্ক কসমস ক্লাবের রয়েছে এক সোনালী ও গৌরবোজ্জ্বল অতীত ইতিহাস। ১৯৭০-এর দশকের দিকে বিশ্ব ফুটবলের অনন্য দুই মহাতারকা—ব্রাজিলের পেলে এবং জার্মানির কিংবদন্তি ডিফেন্ডার ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার এই ক্লাবের হয়ে মাঠ মাতিয়েছিলেন। ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত কসমস ক্লাবের জার্সিতে খেলেছিলেন ফুটবলের বরপুত্র পেলে। সেই সুবর্ণ সময়েই ক্লাবে যোগ দিয়েছিলেন বেকেনবাওয়ারও। এমন একটি ঐতিহ্যবাহী এবং ঐতিহাসিক ক্লাবে শমিত সোমের মতো প্রতিভাবান এক ফুটবলারের যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় তাঁর ক্যারিয়ারে নতুন এক রোমাঞ্চকর অধ্যায় যুক্ত হতে যাচ্ছে বলেই মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা।