
৫০ মিলিয়ন ইউরোতে বার্সেলোনা ছেড়ে পিএসজিতে ফেরান তোরেস
ইউরোপীয় ফুটবল অঙ্গনে আরও একটি বড় দলবদল সম্পন্ন হলো। স্প্যানিশ পরাশক্তি বার্সেলোনা ছেড়ে ফরাসি ক্লাব প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ে (পিএসজি) যোগ দিয়েছেন উইঙ্গার ফেরান তোরেস। শনিবার (১৫ আগস্ট) দুই ক্লাবের পক্ষ থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে এই দলবদলের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের হয়ে গোল করা এই তারকা প্যারিসের দলটির সঙ্গে ২০৩১ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন।
দুই ক্লাবের কোনো পক্ষই চুক্তির অর্থসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে ইউরোপীয় ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম ও ফুটবল বাজার বিশ্লেষকদের দাবি, তোরেসকে সানসিরো নয়—বরং ন্যু ক্যাম্প থেকে পার্ক দে প্রিন্সেসে ওড়াতে পিএসজিকে গুনতে হয়েছে প্রায় ৫০ মিলিয়ন ইউরো।
প্যারিসে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করতে পেরে বেশ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ২৬ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। এক প্রতিক্রিয়ায় তোরেস জানান, পিএসজির মতো আন্তর্জাতিক ও উচ্চাভিলাষী ক্লাবে যোগ দেওয়া তাঁর ক্যারিয়ারের জন্য বড় একটি সুযোগ। এই দলবদল সফল করতে ভূমিকা রাখার জন্য তিনি ক্লাব সভাপতি নাসের আল-খেলাইফি, কৌশলগত উপদেষ্টা লুইস কাম্পোস এবং প্রধান কোচ লুইস এনরিকেকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান। পিএসজির হয়ে সম্ভাব্য সব শিরোপা জেতাই এখন তাঁর মূল লক্ষ্য।
এই স্থানান্তরের ফলে পুরোনো গুরু লুইস এনরিকের সঙ্গে আবারও পুনর্মিলন ঘটল তোরেসের। পূর্বে স্পেন জাতীয় দলের হয়ে খেলার সময় এনরিকের অধীনে তিনি মাঠ মাতিয়েছেন। এবার ফরাসি ক্লাব ফুটবলেও সেই পরিচিত গুরুর ট্যাকটিক্যাল কৌশলে নিজের সেরাটা দিতে প্রস্তুত হচ্ছেন তিনি।
তোরেসের আগের ক্লাব ক্যারিয়ার ও আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান বেশ বর্ণিল। ২০০০ সালে জন্মগ্রহণ করা এই তারকা ২০২২ সালের জানুয়ারিতে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি ছেড়ে বার্সেলোনায় এসেছিলেন। কাতালান ক্লাবটিতে দীর্ঘ চার মৌসুম কাটানোর পর এবার তাঁর নতুন গন্তব্য ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস। স্পেনের জাতীয় দলের হয়ে ৬৫ ম্যাচে ২৫টি গোল করেছেন তোরেস, যার মধ্যে বিশ্বকাপ ফাইনালের গোলটি তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা মুহূর্ত হয়ে থাকবে।
নতুন চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড়িয়ে এই স্প্যানিশ উইঙ্গার। ফ্রান্সে তোরেসের গতি ও তীক্ষ্ণ ফিনিশিং দক্ষতা ফরাসি লিগ ওয়ান এবং উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসজির আক্রমণভাগকে আরও শক্তিশালী করবে বলে ধারণা করছেন ফুটবল বোদ্ধারা।