
ফাইনালের আগে ড্রেসিংরুমে মেসির ‘সব ভুলে যাওয়ার’ বার্তা: নেপথ্যে কী?
মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুম থেকে তখন কেবলই বের হচ্ছেন আর্জেন্টিনা দলের ফুটবলাররা। দরজার মুখে দাঁড়িয়ে সতীর্থদের থামালেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। চারপাশের চরম উত্তেজনার মাঝে শান্ত কণ্ঠে সতীর্থদের উদ্দেশে দিলেন এক বিশেষ বার্তা। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে মেসিকে বলতে শোনা যায়, “সবাই শান্ত হও। আসল বিষয় হলো আমাদের শান্ত থাকতে হবে। এসো সবকিছু ভুলে যাই। আমরা শুধু খেলি। চলো শুধু খেলায় মন দিই।”
৩৯ বছর বয়সী ফুটবল জাদুকরের এই ছোট অথচ রহস্যময় বার্তা নিয়ে এখন তোলপাড় চলছে ফুটবল বিশ্বে। ফাইনালের মতো মহাগুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের ঠিক আগে এনজো ফার্নান্দেজ কিংবা এমিলিয়ানো মার্তিনেজদের ঠিক কী ভুলে যেতে বলেছিলেন মেসি? আর্জেন্টাইন ক্রীড়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস বিষয়টি সামনে আনার পর থেকেই এ নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে।
চাপের মুখে সতীর্থদের আগলে রাখার চেষ্টা
ভিডিওটিতে দেখা যায়, অধিনায়কের কথা শোনাকালীন পুরো আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুম বেশ শান্ত ও সুশৃঙ্খল ছিল। তবে মেসির ‘সবকিছু ভুলে যাওয়ার’ আহ্বানের নেপথ্যে উঠে আসছে ফাইনালের আগের দিনগুলোতে তৈরি হওয়া মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক চাপের কথা।
নিউজ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার আগে বেশ কিছু বিতর্কিত সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল আলবিসেলেস্তেদের। প্রতিপক্ষ দল ও ইউরোপীয় ফুটবল মহলের একটি অংশ অভিযোগ তুলছিল, টুর্নামেন্টের আগের ম্যাচগুলোতে নাকি আর্জেন্টিনাকে বিশেষ রেফারিং সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
স্পেনের ডিফেন্ডার এমেরিক লাপোর্ত ম্যাচের আগেই সংবাদ সম্মেলনে এই নিয়ে সরাসরি উসকানিমূলক মন্তব্য করেছিলেন। লাপোর্তের ভাষ্য ছিল:
“সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোয় রেফারিং নিয়ে এমন কিছু ঘটনা দেখেছি যা সত্যিই বিস্ময়কর। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রে অনেক ফাউলেই কোনো শাস্তি দেওয়া হয়নি। তারা প্রতিপক্ষের ওপর প্রবল চাপ তৈরি করে। এত বড় প্রতিযোগিতায় এসব কখনোই অনুমোদন করা উচিত নয়, কারণ এতে প্রতিপক্ষের মনোযোগ নষ্ট হয়।”
বাহ্যিক এই সব বিতর্ক, সমালোচনা এবং প্রতিপক্ষের উসকানিতে যাতে দলের মনোযোগ নষ্ট না হয়—সম্ভবত সে কারণেই সতীর্থদের মাঠের বাইরের সবকিছু ভুলে শুধু ফুটবলে মনোনিবেশ করার তাগিদ দিয়েছিলেন মেসি।
ফাইনালের পরিণতি ও পরবর্তী বিতর্ক
মেসির বার্তায় দল মাঠে মনোযোগী থাকলেও ভাগ্যের শিকে ছেঁড়েনি আর্জেন্টিনার। টানটান উত্তেজনার ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করে আলবিসেলেস্তেরা। এই জয়ের মাধ্যমে দীর্ঘ ১৬ বছর পর আবারও বিশ্ব ফুটবলের সেরা মুকুট মাথায় পরল স্পেন।
তবে মাঠের খেলা শেষ হলেও বিতর্ক থামেনি। ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিটে রেফারিং সংক্রান্ত কোনো বড় বিতর্ক দেখা না গেলেও, শেষ বাঁশি বাজার পরপরই এক অনাকাঙ্ক্ষিত দৃশ্য তৈরি হয়। দুই দলের কয়েকজন খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ মাঠের মধ্যেই হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। আনন্দের চরম মুহূর্তে এমন অপ্রীতিকর ঘটনা ফুটবল বিশ্বের পরিবেশকে কিছুটা ঘোলাটে করে দেয়। পরবর্তীতে এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে ফিফা।