
ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী তারকার অবসরের ঘোষণা
ফুটবল ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছেন ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী তারকা ওলিভিয়ের জিরুড। বয়স ৪০-এর কাছাকাছি পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে মাঠের ব্যস্ততা থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ড। ফরাসি সংবাদমাধ্যম লেকিপকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, চলতি মৌসুমই খেলোয়াড় হিসেবে তাঁর শেষ মৌসুম হতে পারে।
জিরুড বলেন, ‘একজন খেলোয়াড় হিসেবে আমার মনে হয়, খুব সম্ভবত এটিই আমার শেষ মৌসুম হতে যাচ্ছে।’ ক্যারিয়ারের শেষ সময়টা উপভোগ করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, এখন মাঠে কাটানো প্রতিটি মুহূর্তই তিনি আগের চেয়ে বেশি করে উপভোগ করার চেষ্টা করছেন।
ফ্রান্সের জাতীয় দলের হয়ে জিরুডের ক্যারিয়ার ছিল দীর্ঘ ও সাফল্যে ভরা। ২০১১ সালে জাতীয় দলে অভিষেকের পর তিনি ফরাসিদের হয়ে ১৩৭টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন এবং করেছেন ৫৭ গোল। দীর্ঘ সময় তিনি ছিলেন ফ্রান্সের আক্রমণভাগের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।
২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপে ফ্রান্সের শিরোপা জয়ের পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল জিরুডের। তাঁর ব্যক্তিগত গোলসংখ্যা নিয়ে আলোচনা থাকলেও দলের আক্রমণভাগে তাঁর উপস্থিতি, বল ধরে রাখা এবং সতীর্থদের জন্য সুযোগ তৈরি করার দক্ষতা ছিল ফ্রান্সের কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপেও জিরুড নিজের জায়গা করে নেন ফ্রান্সের ফুটবল ইতিহাসে। টুর্নামেন্ট চলাকালে তিনি থিয়েরি অঁরিকে পেছনে ফেলে জাতীয় দলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হন। পরবর্তী সময়ে সেই রেকর্ড নিজের করে নেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ফলে জাতীয় দলের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় জিরুড এখন দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন।
ক্লাব ফুটবলেও তাঁর অর্জনের তালিকা বেশ সমৃদ্ধ। ফ্রান্সের মন্টপেলিয়ে ও ইতালির এসি মিলানের হয়ে লিগ শিরোপা জিতেছেন তিনি। তবে তাঁর ক্লাব ক্যারিয়ারের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য আসে ইংলিশ ক্লাব চেলসির হয়ে। ২০২১ সালে চেলসির জার্সিতে জিরুড জেতেন উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ।
ইংল্যান্ডে থাকাকালে আর্সেনালের হয়েও সাফল্য পেয়েছেন এই ফরোয়ার্ড। ক্লাবটির হয়ে তিনবার এফএ কাপ জয়ের পাশাপাশি ক্যারিয়ারে মোট চারবার এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিযোগিতার শিরোপা জিতেছেন তিনি।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে একাধিক শীর্ষ পর্যায়ের ক্লাবে খেলা, বিশ্বকাপ জয় এবং ফ্রান্সের জার্সিতে ৫৭ গোল—সব মিলিয়ে জিরুডের নাম দেশটির ফুটবল ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এখন তাঁর সামনে রয়েছে ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়। নিজের বক্তব্য অনুযায়ী, অবসরের আগে মাঠে থাকা সময়টুকু উপভোগ করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।