
রোনালদোর ব্যর্থতার রাতে ফেলিক্সের গোলে আল নাসরের জয়
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পেনাল্টি মিস ও সহজ সুযোগ হাতছাড়া করার পরও জয়বঞ্চিত হয়নি আল নাসর। পর্তুগিজ তারকার হতাশার রাতে স্বদেশি জোয়াও ফেলিক্সের একমাত্র গোলে নিওমকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে সৌদি আরবের ক্লাবটি। গুরুত্বপূর্ণ এই জয়ে সৌদি প্রো লিগের শীর্ষ তিনে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার লড়াইয়ে স্বস্তি পেয়েছে দলটি।
আল নাসরের আক্রমণভাগের প্রধান ভরসা রোনালদো সাধারণত গোলের সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে বেশ দক্ষ। কিন্তু নিওমের বিপক্ষে ম্যাচে সেই পরিচিত ধার দেখা যায়নি তাঁর খেলায়। একাধিক সুযোগ পেয়েও গোল করতে না পারায় ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে হতাশ হতে হয়েছে তাঁকে। শেষ পর্যন্ত ফেলিক্সের কার্যকর ফিনিশিংই নিশ্চিত করে আল নাসরের জয়।
ম্যাচের প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে গোল করার দারুণ একটি সুযোগ পেয়েছিলেন রোনালদো। ৪৭ মিনিটে সতীর্থ সাদিও মানের কাছ থেকে বল পেয়ে প্রতিপক্ষের গোলপোস্টের কাছাকাছি অবস্থান থেকে বাঁ পায়ে শট নেন তিনি। কিন্তু বলটি লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। তাঁর নেওয়া শট গোলবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। এমন সুযোগ থেকে গোল করতে না পারা আল নাসরের জন্য বড় হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
দ্বিতীয়ার্ধে সেই ভুল শুধরে নেওয়ার সুযোগও পেয়েছিলেন পর্তুগিজ অধিনায়ক। পেনাল্টি থেকে গোল করার সুবর্ণ সুযোগ সামনে আসে তাঁর। এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে আল নাসর এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও নিজেদের হাতে নিতে পারত। কিন্তু রোনালদোর জোরালো শট গোলপোস্টের বাঁ পাশ দিয়ে বাইরে চলে যায়। গোলরক্ষক মার্সিন বুলকারকে পরাস্ত করতে ব্যর্থ হন তিনি।
রোনালদোর মতো অভিজ্ঞ ও বিশ্বমানের একজন ফরোয়ার্ডের একই ম্যাচে সহজ সুযোগ ও পেনাল্টি থেকে গোল করতে না পারার ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ক্যারিয়ারে অসংখ্য গোল করে রেকর্ড গড়া এই তারকা বর্তমানে গোলসংখ্যার ঐতিহাসিক এক মাইলফলকের দিকেও এগিয়ে যাচ্ছেন। সে কারণে তাঁর প্রতিটি ম্যাচের পারফরম্যান্স ঘিরে সমর্থকদের প্রত্যাশা থাকে অনেক বেশি।
তবে রোনালদোর ব্যর্থতা আল নাসরের জয়ের পথে শেষ পর্যন্ত বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন জোয়াও ফেলিক্স। পর্তুগিজ এই ফরোয়ার্ডের নিখুঁত ফিনিশিং থেকে আসে ম্যাচের একমাত্র গোল। তাঁর সেই গোলই দুই দলের ব্যবধান গড়ে দেয় এবং আল নাসরকে পূর্ণ তিন পয়েন্ট এনে দেয়।
ম্যাচটি আবারও দেখিয়েছে, বড় দলের সাফল্যের জন্য শুধু একজন তারকার ওপর নির্ভর করলেই চলে না। প্রধান গোলদাতা নিজের সুযোগ কাজে লাগাতে না পারলে অন্য খেলোয়াড়দের এগিয়ে আসতে হয়। ফেলিক্সের গোল আল নাসরকে সেই প্রয়োজনীয় সাফল্য এনে দিয়েছে। একই সঙ্গে কঠিন পরিস্থিতিতে দলের আক্রমণভাগের অন্য খেলোয়াড়দের কার্যকর ভূমিকার গুরুত্বও তুলে ধরেছে।
এদিকে, মাঠের বাইরের ঘটনাও রোনালদোকে ঘিরে আলোচনার বিষয় হয়ে রয়েছে। পর্তুগাল জাতীয় দলের কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে কোচের ভূমিকা নিয়ে বিরোধের জেরে গত ৩০ সেপ্টেম্বর জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যান তিনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে গত ১৯ অক্টোবর পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন তাঁকে ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা ও ২৫৫ ইউরো জরিমানা করে। এই শাস্তির পেছনে শৃঙ্খলাভঙ্গের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতীয় দলকে ঘিরে বিতর্কের পাশাপাশি ক্লাব ফুটবলে গোলের সুযোগ নষ্ট করা রোনালদোর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। তবে একটি ম্যাচের ব্যর্থতা দিয়ে তাঁর সামগ্রিক পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা কঠিন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ধারাবাহিক গোল করার সামর্থ্য দেখিয়েছেন তিনি। এখন তাঁর সামনে মূল চ্যালেঞ্জ হলো দ্রুত ছন্দে ফেরা এবং পরবর্তী ম্যাচগুলোতে সুযোগগুলোকে গোলে রূপ দেওয়া।
অন্যদিকে, আল নাসরের জন্য এই জয় গুরুত্বপূর্ণ। শীর্ষস্থানগুলোর লড়াইয়ে টিকে থাকতে প্রতিটি পয়েন্টই মূল্যবান। রোনালদো গোল না পেলেও ফেলিক্সের নির্ণায়ক ভূমিকা দলকে সেই প্রয়োজনীয় পয়েন্ট এনে দিয়েছে। কঠিন ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে আল নাসর প্রমাণ করেছে, একজন তারকার নিষ্প্রভ পারফরম্যান্সের মধ্যেও দলীয় প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত সাফল্য এনে দিতে পারে।