লিভারপুলের ডাচ ফরোয়ার্ড কোডি গাকপোকে দলে ভেড়াতে বড় অঙ্কের অর্থ খরচের প্রস্তুতি নিচ্ছে ম্যানচেস্টার সিটি। আক্রমণভাগে বহুমুখী দক্ষতার এই খেলোয়াড়কে নিজেদের দলে পেতে ইতিমধ্যে তার প্রতিনিধিদের সঙ্গে ব্যক্তিগত শর্ত নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে ইংলিশ ক্লাবটি। এখন লিভারপুলের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
খবর অনুযায়ী, গাকপোর জন্য প্রায় ৮৫ মিলিয়ন পাউন্ডের প্রস্তাব দিতে পারে ম্যানচেস্টার সিটি। ইউরোতে যার মূল্য ৯৯ মিলিয়নেরও বেশি। এই অঙ্কে চুক্তি সম্পন্ন হলে ডাচ ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়বেন গাকপো।
বর্তমান রেকর্ডটি রয়েছে ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ংয়ের দখলে। ২০১৯ সালে আয়াক্স থেকে বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার সময় তার জন্য ৭৫ মিলিয়ন ইউরো পরিশোধ করা হয়েছিল। চুক্তিতে আরও ১১ মিলিয়ন ইউরোর অতিরিক্ত অর্থ পাওয়ার সুযোগ ছিল আয়াক্সের। ফলে গাকপোর সম্ভাব্য ৮৫ মিলিয়ন পাউন্ডের দলবদল হলে ডি ইয়ংয়ের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
ম্যানচেস্টার সিটির গাকপোর প্রতি আগ্রহের অন্যতম কারণ তার বহুমুখী খেলার ক্ষমতা। ডাচ এই ফরোয়ার্ড দুই উইংয়ে খেলতে পারেন, আবার প্রয়োজন হলে কেন্দ্রীয় ফরোয়ার্ড হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম। ফলে আক্রমণভাগের একাধিক জায়গায় তাকে ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে। সিটির কোচিং স্টাফের কাছে এই বৈশিষ্ট্যই তাকে বিশেষভাবে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
তবে বড় অঙ্কের প্রস্তাব এলেই গাকপোকে ছেড়ে দেবে লিভারপুল—এমন নিশ্চয়তা নেই। ইংলিশ চ্যাম্পিয়নরা তাদের আক্রমণভাগের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে ছাড়ার আগে তার বিকল্প নিশ্চিত করতে চাইছে। অর্থাৎ গাকপোর ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করতে পারে লিভারপুলের পরবর্তী নিয়োগের ওপর।
এই জায়গাতেই সামনে এসেছে ফরাসি ফরোয়ার্ড ব্র্যাডলি বারকোলার নাম। পিএসজি থেকে বিপুল ১২৩ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে তাকে দলে নেওয়ার বিষয়ে লিভারপুল চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বারকোলা এলেও আক্রমণভাগে আরও একজন উইঙ্গার যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে ক্লাবটির।
লিভারপুলের সেই তালিকায় অন্যতম প্রধান নাম ক্রিস্টাল প্যালেসের সেনেগালিজ ফরোয়ার্ড ইসমাইলা সার। তাকে অ্যানফিল্ডে আনতে এরই মধ্যে প্রায় ৫০ মিলিয়ন পাউন্ডের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। সারকে দলে আনার বিষয়টি নিশ্চিত হলে গাকপোকে ম্যানচেস্টার সিটির কাছে ছেড়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে লিভারপুলের আপত্তি কমতে পারে।
সব মিলিয়ে গাকপোকে ঘিরে দলবদলের বাজারে বড় ধরনের লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ম্যানচেস্টার সিটি তাকে পেতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগে প্রস্তুত, আর লিভারপুলও তার সম্ভাব্য বিদায়ের আগে আক্রমণভাগের ভারসাম্য ঠিক রাখার চেষ্টা করছে। চুক্তিটি শেষ পর্যন্ত সম্পন্ন হলে শুধু দুটি ইংলিশ ক্লাবের আক্রমণভাগেই পরিবর্তন আসবে না, ডাচ ফুটবলের সবচেয়ে দামি দলবদলের রেকর্ডও নতুন করে লেখা হতে পারে।
