ভারতের জাতীয় দলের ব্যাটসম্যান শ্রেয়াস আইয়ার সিডনির হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে মাঠে ফিল্ডিং করার সময় গুরুতর চোট পাওয়ার পর তিনি কয়েক দিন হাসপাতালে ছিলেন।
সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ক্যাচ নেওয়ার সময় শ্রেয়াসের পেটে আঘাত লাগে। এতে তার প্লীহা ছিঁড়ে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ শুরু হয় এবং সঙ্গে সঙ্গে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ভারতের ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) জানিয়েছে, “ছোট একটি চিকিৎসা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল এবং চিকিৎসকরা তার সেরে ওঠায় সন্তুষ্ট।”
বিসিসিআইয়ের অফিসিয়াল বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “২৫ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে ফিল্ডিং করার সময় শ্রেয়াস পেটে আঘাত পান। এতে তার প্লীহায় ক্ষত সৃষ্টি হয়ে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হয়। তাৎক্ষণিক অস্ত্রোপচার করে রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তিনি এখন স্থিতিশীল অবস্থায় আছেন এবং চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ভালোভাবে সেরে উঠছেন।”
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, “সিডনির চিকিৎসক ড. কোরুশ হাগহিঘি ও তার টিম এবং ভারতের ড. দিনশো পার্ডিওয়ালার প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছে বিসিসিআই। শ্রেয়াসকে সর্বোত্তম চিকিৎসা প্রদানে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। শ্রেয়াস এখনও সিডনিতেই থাকবেন ফলো-আপ পরামর্শের জন্য এবং চিকিৎসক অনুমতি দিলে ভারতে ফিরবেন।”
অস্ট্রেলিয়া সফরে দুই ম্যাচে ৭২ রান করেছিলেন শ্রেয়াস। অ্যাডিলেডে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে তিনি ৭৭ বল খেলে ৬১ রানের ইনিংস খেলেছিলেন এবং রোহিত শর্মার সঙ্গে গড়েছিলেন শতরানের জুটি।
এ বছর এখন পর্যন্ত ১১ ওয়ানডেতে ৪৯৬ রান করেছেন শ্রেয়াস, গড় ৪৯.৬০ এবং স্ট্রাইক রেট ৮৯.৫৩। তার ইনিংসে এসেছে পাঁচটি অর্ধশতক, সর্বোচ্চ স্কোর ৭৯। এছাড়া আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জয়ী অভিযানে তিনি ছিলেন ভারতের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। পাঁচ ইনিংসে করেছিলেন ২৪৩ রান, গড় ৪৮.৬০, দুটি অর্ধশতকসহ।
৭৩ ওয়ানডে খেলে এখন পর্যন্ত তার মোট রান ২,৯১৭, গড় ৪৭.৮১; শতক ৫টি, অর্ধশতক ২৩টি, সর্বোচ্চ অপরাজিত ১২৮। তবে এই চোটের কারণে ৩০ নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে তার খেলা এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
