অ্যানফিল্ডের গ্যালারিতে তখনো ‘ইউ উইল নেভার ওয়াক অ্যালোন’ গানের রেশ কাটেনি, সমর্থকরা সবেমাত্র নিজেদের আসনে থিতু হয়েছেন। ম্যাচের ঘড়িতে তখনো পাঁচ মিনিট পূর্ণ হয়নি। ঠিক সেই মুহূর্তেই শুরু হলো অল-রেডদের গোল-উৎসব। কর্নার থেকে উড়ে আসা বল ক্লিয়ার করতে দু-দুবার ব্যর্থ হলো ওয়েস্ট হামের রক্ষণভাগ। সুযোগসন্ধানী উগো একিতিকে বল জালে জড়াতে এক বিন্দু ভুল করেননি। সেই যে শুরু, এরপর পুরো ৯০ মিনিট যেন ওয়েস্ট হামের ওপর দিয়ে এক লাল-ঝড় বয়ে গেল। লিভারপুলের বিধ্বংসী আক্রমণের সামনে হ্যামারসদের রক্ষণভাগ ছিল একেবারেই দিশেহারা।
সেট-পিস ও লিভারপুলের নিখুঁত রণকৌশল
লিভারপুলের ৫-২ গোলের এই বিশাল জয়ে আজ সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে তাদের নিখুঁত ‘সেট-পিস’ পরিকল্পনা। ম্যাচের ২৪ মিনিটে দমিনিক সোবোসলাইয়ের মাপা কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে মাথা ছুঁইয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন দীর্ঘদেহী অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইক। রক্ষণে দেয়াল হয়ে দাঁড়ানোর পাশাপাশি আক্রমণেও ডাচ তারকার এই কার্যকারিতা অ্যানফিল্ডকে উল্লাসে ভাসায়। ৪৩ মিনিটে আসে তৃতীয় গোল, এবার গোলদাতার নাম আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। টানা দুই ম্যাচে জালের দেখা পেলেন এই আর্জেন্টাইন বিশ্বকাপজয়ী মিডফিল্ডার। মজার ব্যাপার হলো, লিভারপুলের প্রথম তিনটি গোলই এসেছে কর্নার থেকে তৈরি হওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে।
ম্যাচের পরিসংখ্যান ও মূল ঘটনাপ্রবাহ নিচে দেওয়া হলো:
| বিষয় | লিভারপুল এফসি | ওয়েস্ট হাম ইউনাইটেড |
| ফলাফল (গোল) | ৫ | ২ |
| বল দখল | ৬৪% | ৩৬% |
| গোলমুখে শট | ১৮ | ৭ |
| কর্নার | ৯ | ৩ |
| প্রধান গোলদাতা | একিতিকে, ফন ডাইক, ম্যাক অ্যালিস্টার, গাকপো | টমাস সুচেক, জ্যারড বোয়েন |
| পয়েন্ট টেবিলে অবস্থান | ৫ (২৮ ম্যাচ শেষে) | ১৮ (২৮ ম্যাচ শেষে) |
দ্বিতীয়ার্ধের নাটকীয়তা ও গাকপোর প্রায়শ্চিত্ত
বিরতির পর টমাস সুচেক যখন একটি গোল শোধ করলেন, গ্যালারিতে কিছুটা চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়া ওয়েস্ট হাম ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছিল। কিন্তু ডাচ ফরোয়ার্ড কোডি গাকপো তখন নিজেকে প্রমাণের নেশায় বুঁদ। অবিশ্বাস্য এক সহজ সুযোগ মিস করে কিছুক্ষণ আগেই সমর্থকদের কপালে ভাঁজ ফেলেছিলেন তিনি। তবে মিনিটখানেক পরই সেই ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করলেন দুর্দান্ত এক ক্লিনিক্যাল ফিনিশিংয়ে। ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে লিভারপুল জয় প্রায় নিশ্চিত করে ফেলে। ওয়েস্ট হাম শেষ দিকে আরও একটি গোল শোধ দিলেও ব্যবধান কমাতে পারেনি। বরং ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে আক্সেল দিসাসির আত্মঘাতী গোল তাদের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেয়।
টেবিলের সমীকরণ ও চ্যাম্পিয়নস লিগের স্বপ্ন
এই বিশাল জয়ের পর প্রিমিয়ার লিগ টেবিলের সেরা পাঁচে ফিরে এল লিভারপুল। ২৮ ম্যাচ শেষে তাদের পয়েন্ট এবং ফর্ম ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আগামী মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগের টিকিট এখন তাদের হাতের নাগালে। ইয়ুর্গেন ক্লপ পরবর্তী যুগে লিভারপুলের এই ধারাবাহিকতা সমর্থকদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। অন্যদিকে, রেলিগেশন অঞ্চলে থাকা ওয়েস্ট হামের সংকট আরও ঘনীভূত হলো। ২৮ ম্যাচ থেকে মাত্র ২৫ পয়েন্ট নিয়ে তারা এখন টেবিলের ১৮ নম্বরে অবস্থান করছে। প্রিমিয়ার লিগে টিকে থাকতে হলে হ্যামারসদের এখন অলৌকিক কিছুর অপেক্ষা করতে হবে।
