আর্জেন্টিনা দলে চিন্তা, রিয়ালে হঠাৎ সমস্যায় মাস্থানতুয়োনো

রিয়াল মাদ্রিদে ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনোর স্বপ্নের শুরু ছিল চমৎকার। দলে দ্রুত নিজেকে প্রতিষ্ঠা করছিলেন এই আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় ঘেরা হয়ে উঠেছে, যা জাতীয় দলের জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক মুন্দো দেপোর্তিভো জানিয়েছে, কোচ আলভারো আরবেলোয়া দায়িত্ব নেওয়ার পর হঠাৎ করে মাস্তানতুয়োনোর অবস্থান এবং ব্যবহারিক সময় কমে গেছে।

আরবেলোয়া দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম ছয় ম্যাচের মধ্যে পাঁচটিতে মাস্তানতুয়োনো ছিলেন একাদশে। এই সময়ে তিনি একটি গোলও করেছেন এবং প্রতি ম্যাচে গড়ে ৭০ মিনিটের বেশি সময় খেলেছেন, যা প্রমাণ করছিল যে তিনি কোচের আস্থাভাজন।

কিন্তু রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে ম্যাচের পর পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে পাল্টে যায়।

  • ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে তিনি ৮২ মিনিটে বদলি হিসেবে নামেন।

  • এরপর রিয়াল সোসিয়েদাদ, বেনফিকা (চ্যাম্পিয়নস লিগ) এবং ওসাসুনা বিপক্ষে মাঠে দেখা যায়নি।

  • চার ম্যাচে মোট খেলার সময় মাত্র ১৩ মিনিট, যা এখন আর্জেন্টিনায় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্বকাপের আগে ২৭ মার্চ স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালিসিমা এবং জুনে বড় টুর্নামেন্ট রয়েছে। জাতীয় দলে নিয়মিত খেলার জন্য ধারাবাহিক পারফরম্যান্স অপরিহার্য। এই সময়ে ক্লাবে কম খেলার সুযোগ পেলে মাস্তানতুয়োনোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে।

রিভার প্লেটের কিংবদন্তি নরবের্তো আলোনসো সরাসরি বলেছেন,
“ওকে শেষ করে দেওয়া হচ্ছে। মনে হয়, ছেলেটা আগে নিচু মানের দলে যাবে, সেখানে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে, তারপর হয়তো আবার রিয়ালে ফিরতে পারবে।”

রিয়াল মাদ্রিদের মতো ক্লাবে তরুণ খেলোয়াড়দের দ্রুত মানিয়ে নিতে হয়। সুযোগ কমে গেলে খেলোয়াড়কে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বা দলবদলের পথ ধরতে হয়।

নিচের টেবিলে সাম্প্রতিক ছয় ম্যাচে মাস্তানতুয়োনোর খেলার সময় ও অবস্থা দেখানো হলো:

ম্যাচপ্রতিপক্ষসময় (মিনিট)গোল/অ্যাসিস্টমন্তব্য
প্রথম ম্যাচ721 গোলস্টার্টার
দ্বিতীয় ম্যাচ750স্টার্টার
তৃতীয় ম্যাচ700স্টার্টার
রায়ো ভায়েকানো680স্টার্টার
ভ্যালেন্সিয়া80বদলি
রিয়াল সোসিয়েদাদ/বেনফিকা/ওসাসুনা00মাঠে দেখা যায়নি

মোট খেলার সময়: ১৩০ মিনিট (শেষ চার ম্যাচে মাত্র ১৩ মিনিট)

এমন পরিস্থিতি জাতীয় দলে তার জায়গা স্থায়ী করার স্বপ্নকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। রিয়াল মাদ্রিদে তরুণদের জন্য সময় কম, তাই নিজেকে প্রমাণ করা এখন মাস্তানতুয়োনোর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

Leave a Comment