
গালাতাসারাইকে উড়িয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে বার্সার দাপট
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দিবাগত রাতে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বের ম্যাচে গালাতাসারাইয়ের মাঠে মুখোমুখি হয় দুই দল। ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখলে রেখে আক্রমণ সাজানোর চেষ্টা করে বার্সেলোনা। পুরো ম্যাচে ৭১ শতাংশ বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখে তারা। গোলের উদ্দেশ্যে নেওয়া ২২টি শটের মধ্যে ১১টি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে স্বাগতিকদের পাঁচটি শটের তিনটি লক্ষ্যে থাকলেও তা বড় ব্যবধানে হার এড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।
ম্যাচের সপ্তম মিনিটে প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগ তৈরি করেন বার্সেলোনার মিডফিল্ডার দানি ওলমো। তাঁর শট আটকে দেন গালাতাসারাইয়ের গোলরক্ষক। পরে অফসাইডের সংকেত দেওয়া হলেও রিপ্লেতে ওলমোকে অনসাইডে দেখা যায়। ১৬ মিনিটে পেদ্রির উঁচু করে বাড়ানো বল বুক দিয়ে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে শট করেন অ্যান্থনি গর্ডন। তবে গোলরক্ষক সহজেই সেটি ঠেকিয়ে দেন। এরপর ওলমোর আরেকটি হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
বার্সেলোনার আক্রমণাত্মক শুরুর মধ্যেই ২৮ মিনিটে এগিয়ে যায় গালাতাসারাই। রাফায়েল লেয়াওয়ের বাড়ানো বল পেয়ে অ্যালেক্সি বাত্রাকভ শট নেন। বলটি বার্সেলোনার ডিফেন্ডার জোয়াও ক্যান্সেলোর গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে প্রবেশ করে। এতে পিছিয়ে পড়ে সফরকারীরা।
তিন মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পায় স্বাগতিক দল। তবে অফসাইডের কারণে সেই গোল বাতিল হয়ে যায়। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালিয়ে যায় বার্সেলোনা। প্রথমার্ধের শেষ দিকে তাদের সেই প্রচেষ্টা সফল হয়।
৪৩ মিনিটে সমতায় ফেরে কাতালানরা। দানি ওলমোর শট অ্যান্থনি গর্ডন ছেড়ে দিলে পেছন থেকে উঠে এসে বলের নাগাল পান ক্যান্সেলো। তাঁর নিখুঁত শট দূরের পোস্ট দিয়ে জালে জড়ায়। ফলে প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ১-১।
বিরতির পর বার্সেলোনার আক্রমণে আরও গতি দেখা যায়। দ্রুত পাস আদান-প্রদান এবং দুই প্রান্ত ব্যবহার করে গালাতাসারাইয়ের রক্ষণে চাপ বাড়াতে থাকে তারা। এর ফলও আসে দ্রুত। দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম ২০ মিনিটের মধ্যেই তিন গোল করে ম্যাচের ভাগ্য কার্যত নিজেদের পক্ষে নিয়ে নেয় ফ্লিকের দল।
৫০ মিনিটে এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। কর্নার থেকে ফিরে আসা বল পেয়ে বক্সে ক্রস করেন লামিনে ইয়ামাল। কাছ থেকে হেড করে গোল করেন ফারমিন লোপেজ। তাঁর গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সফরকারীরা।
এর মাত্র তিন মিনিট পর ব্যবধান বাড়ান অ্যান্থনি গর্ডন। পেদ্রির পাস পেয়ে ইয়ামাল গোললাইন থেকে বল মাঠের ভেতরে রেখে সতীর্থকে পাস দেন। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিখুঁত শটে গোল করেন গর্ডন। বার্সেলোনার হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে এটি তাঁর প্রথম গোল। স্কোরলাইন তখন ৩-১।
৬৫ মিনিটে চতুর্থ গোলটি করেন জার্মান ফরোয়ার্ড করিম আদেয়েমি। গ্যাব্রিয়েল জেসুসের গায়ে লেগে বল তাঁর সামনে চলে এলে দ্রুত শট নেন তিনি। নিচু শটে দূরের পোস্ট দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে দলের জয় আরও নিশ্চিত করেন আদেয়েমি।
শেষ দিকে আরও গোল করার সুযোগ পেয়েছিল বার্সেলোনা। ইয়ামালের ক্রস থেকে আদেয়েমির নেওয়া ভলি গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেন গালাতাসারাইয়ের রোলান্ড সালাই। পরে ইয়ামালের পাস থেকে গ্যাব্রিয়েল জেসুস শট নিলেও তা ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক উগুরজান চাকির। ফলে ৪-১ ব্যবধানেই শেষ হয় ম্যাচ।
গোল না পেলেও বার্সেলোনার জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন ইয়ামাল। তাঁর দুটি অ্যাসিস্ট দলের আক্রমণকে কার্যকর করে তোলে। পেদ্রি ও ওলমোও মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ তৈরিতে ভূমিকা রাখেন। অন্যদিকে, বিরতির পর বার্সেলোনার গতি ও নিখুঁত পাসিংয়ের সামনে গালাতাসারাইয়ের রক্ষণভাগ চাপে পড়ে যায়।
এই জয়ের ফলে চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বে নিজেদের শতভাগ জয়ের রেকর্ড ধরে রেখেছে বার্সেলোনা। দুই ম্যাচে তাদের গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে নয়টি। এর আগে প্রথম ম্যাচে ফেইনুর্ডকে ৫-১ গোলে হারিয়েছিল দলটি। দুই ম্যাচে বড় ব্যবধানের জয় ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় তাদের শক্তিশালী শুরুরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
শুরুতে পিছিয়ে পড়েও যেভাবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে নিয়েছে বার্সেলোনা, তা দলের আক্রমণাত্মক সামর্থ্য ও ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতাকে তুলে ধরেছে। এই ছন্দ ধরে রাখতে পারলে চ্যাম্পিয়নস লিগের পরবর্তী ম্যাচগুলোতেও ভালো করার সুযোগ থাকবে ফ্লিকের দলের।