ম্যানচেস্টার সিটির তরুণ গোলরক্ষক জেমস ট্র্যাফোর্ড ইতিহাদ স্টেডিয়ামে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা স্বীকার করেছেন। গত গ্রীষ্মে বার্নলি থেকে রেকর্ড মূল্যে সিটিতে ফেরার পর তিনি আশা করেছিলেন পেপ গার্দিওলার মূল একাদশে নিয়মিত সুযোগ পাবেন। কিন্তু ইতালীয় তারকা জিয়ানলুইজি ডনারুম্মার অপ্রত্যাশিত অন্তর্ভুক্তি ট্র্যাফোর্ডকে বেঞ্চে বসিয়ে দিয়েছে। ফলে আগামী দলবদলের মৌসুমে এই ইংলিশ গোলরক্ষকের ক্লাব ছাড়ার সম্ভাবনা প্রকট হয়ে উঠেছে।
Table of Contents
পরিস্থিতির আকস্মিক পরিবর্তন
২০১৫ সালে মাত্র ১২ বছর বয়সে সিটির একাডেমিতে যোগ দেওয়া ট্র্যাফোর্ড দুই বছর বার্নলিতে কাটানোর পর ৩১ জুলাই ৩১ মিলিয়ন পাউন্ডের চুক্তিতে পুরনো ক্লাবে ফেরেন। আগস্ট মাসে প্রিমিয়ার লিগের প্রথম তিনটি ম্যাচে তিনি শুরুর একাদশে ছিলেন। তবে দলবদলের জানালার একদম শেষ মুহূর্তে, ২ সেপ্টেম্বর প্যারিস সেন্ট-জার্মেই (পিএসজি) থেকে মাত্র ২৬ মিলিয়ন পাউন্ডে ডনারুম্মাকে সই করিয়ে চমকে দেন গার্দিওলা। এরপর থেকেই ইতালীয় এই গোলরক্ষক কোচের প্রথম পছন্দে পরিণত হন, যার ফলে লিগ ম্যাচে ব্রাত্য হয়ে পড়েন ট্র্যাফোর্ড।
ট্র্যাফোর্ডের প্রতিক্রিয়া ও পেশাদারিত্ব
সম্প্রতি এফএ কাপে স্যালফোর্ডের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানের জয়ের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্র্যাফোর্ড বলেন, “আমি এই পরিস্থিতির (ডনারুম্মার আগমন) জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। তবে ফুটবলে এমনটা হতেই পারে। আমি প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করছি এবং নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করছি।”
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, চুক্তির সময় তাঁকে এক নম্বর গোলরক্ষক হওয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি। তবে একজন তরুণ তুর্কি হিসেবে সিটির মতো বড় ক্লাবে নিয়মিত খেলার স্বপ্ন তাঁর ছিল। তাঁর ভাষায়, “এটি ক্যারিয়ারের অন্যতম একটি অভিজ্ঞতামাত্র এবং আমি এখান থেকে অনেক কিছু শিখছি।”
ম্যানচেস্টার সিটিতে গোলরক্ষকদের বর্তমান চিত্র
নিচে চলতি মৌসুমে সিটির দুই প্রধান গোলরক্ষকের তুলনামূলক পরিসংখ্যান ও চুক্তির বিবরণ দেওয়া হলো:
টেবিল: ট্র্যাফোর্ড বনাম ডনারুম্মা (মৌসুম ২০২৫-২৬)
| বিষয় | জেমস ট্র্যাফোর্ড | জিয়ানলুইজি ডনারুম্মা |
| যোগদানের তারিখ | ৩১ জুলাই, ২০২৫ | ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ |
| হস্তান্তর মূল্য | ৩১ মিলিয়ন পাউন্ড | ২৬ মিলিয়ন পাউন্ড |
| লিগ ম্যাচ (শুরু থেকে) | ৩টি | অধিকাংশ ম্যাচ |
| অন্যান্য প্রতিযোগিতা | ৮টি (এফএ কাপ, কারাবাও কাপ ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ) | সীমিত |
| চুক্তির মেয়াদ | ৫ বছর (১ বছর বৃদ্ধির সুযোগসহ) | দীর্ঘমেয়াদী |
আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ক্লাব ফুটবলে অনিয়মিত হয়ে পড়ায় ট্র্যাফোর্ডের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারও হুমকির মুখে। যদিও গত নভেম্বরে থমাস টুখেলের ইংল্যান্ড স্কোয়াডে নিক পোপের বদলি হিসেবে তিনি ডাক পেয়েছিলেন, তবে আসন্ন জুনের বিশ্বকাপ দলে তাঁর জায়গা হবে কি না, তা নিয়ে প্রধান কোচের সঙ্গে কোনো কথা হয়নি। পর্যাপ্ত ম্যাচ খেলার সুযোগ না পেলে বিশ্বকাপের বিমানে ওঠা তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।
ট্র্যাফোর্ড জানান, “সবাই জানে আমার ক্লাবে এখন কী অবস্থা। আমি যখনই সুযোগ পাই, নিজের শতভাগ দেওয়ার চেষ্টা করি। জাতীয় দলে জায়গা হবে কি না, তা নিয়ে কথা বলার চেয়ে বর্তমানে মনোযোগ দেওয়াটাই বেশি জরুরি।”
বর্তমানে ২৩ বছর বয়সী এই গোলরক্ষকের সামনে এখন দুটি পথ খোলা রয়েছে। হয় তাঁকে সিটির বেঞ্চে বসে থেকে ডনারুম্মার বিকল্প হিসেবে সুযোগের অপেক্ষা করতে হবে, অথবা ক্যারিয়ারের স্বার্থে ধারে কিংবা স্থায়ীভাবে অন্য কোনো ক্লাবে পাড়ি জমাতে হবে। সিটির সঙ্গে তাঁর দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি থাকলেও, গ্রীষ্মের দলবদলে তিনি যে আলোচনার কেন্দ্রে থাকবেন, তা প্রায় নিশ্চিত।
