বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম ঘরের মাঠে আয়োজিত আয়ারল্যান্ডের দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে অসাধারণ পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে দেশকে জয়ের পথে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এই সিরিজে তিনি সর্বোচ্চ ১৩ উইকেট শিকার করেন, যা তাকে নভেম্বর মাসের আইসিসি সেরা খেলোয়াড়ের মনোনয়ন এনে দিয়েছে।
আইসিসির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, “বাংলাদেশের বাঁহাতি স্পিনার ঘরের মাঠে দলের জয় নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তার সুনিপুণ স্পিন ও ধারাবাহিকতা দলের সাফল্যের মূল চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করেছে।” আয়ারল্যান্ড সিরিজে তাইজুলের পারফরম্যান্স এমনকি জাতীয় দলের সিনিয়র অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকেও ছাপিয়ে গিয়েছে। ৫৭ টেস্টে তার মোট উইকেট সংখ্যা এখন ২৫০।
এমনকি অন্যান্য দেশের খেলোয়াড়রাও নভেম্বর মাসে চমক দেখিয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার সাইমন হারমার ভারতের মাটিতে দুই ম্যাচের টেস্টে সর্বোচ্চ ১৭ উইকেট নিয়েছেন। পাকিস্তানের মোহাম্মদ নেওয়াজ ঘরের মাঠে তিনদেশীয় টি–টোয়েন্টি সিরিজে সর্বাধিক ১০ উইকেট সংগ্রহ করেছেন।
মেয়েদের ক্রিকেটে নভেম্বর মাসের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন ভারতের শেফালি বর্মা, থাইল্যান্ডের থিপাচা পুথাওয়াং এবং আরব আমিরাতের এশা ওজা। শেফালি বিশ্বকাপ ফাইনালে ৮৭ রান করেন, থিপাচা যৌথভাবে ১৫ উইকেট সংগ্রহ করেন, এবং এশা ৭ টি–টোয়েন্টি ম্যাচে ১৮৭ রান করেন।
বাংলাদেশের জন্য এটি আইসিসি সেরা খেলোয়াড়ের তৃতীয়বারের মনোনয়ন। এর আগে এই সম্মান অর্জন করেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ, সাকিব আল হাসান এবং মুশফিকুর রহিম।
নিচের টেবিলটি নভেম্বর মাসের সেরা খেলোয়াড়দের বিস্তারিত তুলে ধরেছে:
| খেলোয়াড় | দেশ | ধরন | উইকেট/রান | বিশেষ অর্জন |
|---|---|---|---|---|
| তাইজুল ইসলাম | বাংলাদেশ | বাঁহাতি স্পিন | ১৩ উইকেট | আয়ারল্যান্ড সিরিজে শীর্ষ |
| সাইমন হারমার | দক্ষিণ আফ্রিকা | অফ স্পিন | ১৭ উইকেট | ভারতের মাটিতে দুই ম্যাচ |
| মোহাম্মদ নেওয়াজ | পাকিস্তান | স্পিন | ১০ উইকেট | তিনদেশীয় টি–টোয়েন্টি সিরিজ |
| শেফালি বর্মা | ভারত | ব্যাটিং | ৮৭ রান | বিশ্বকাপ ফাইনাল |
| থিপাচা পুথাওয়াং | থাইল্যান্ড | স্পিন | ১৫ উইকেট | ইমার্জিং নেশনস ট্রফি |
| এশা ওজা | আরব আমিরাত | ব্যাটিং | ১৮৭ রান | ৭ টি–টোয়েন্টি ম্যাচে |
তাইজুল ইসলামের এই অর্জন বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য নতুন গৌরব যোগ করেছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের মর্যাদা আরও উজ্জ্বল করেছে। তার ধারাবাহিক সাফল্য আগামীতে বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণের শক্তি আরও দৃঢ় করবে।
