ভিক্টর ওসিমেন—২০২২-২৩ মৌসুমে ইতালিয়ান ফুটবলের আকাশে যে নামটি সবচেয়ে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল, তিনি এই নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার। তাঁর দুর্দান্ত গোলস্কোরিং নৈপুণ্যে ৩৩ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষা ঘুচিয়ে সিরি ‘আ’ শিরোপা জেতে নাপোলি। কিন্তু সেই স্বপ্নময় সাফল্যের মাত্র এক বছর পরই ক্লাব ও খেলোয়াড়ের সম্পর্ক এমন তলানিতে গিয়ে ঠেকে যে, ওসিমেন নিজেই পরে সেটিকে “অপমানজনক” অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
২০২২-২৩ মৌসুমে সিরি ‘আ’-তে ৩২ ম্যাচে ২৬ গোল করে লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন ওসিমেন। তাঁর গোলের ধারাবাহিকতা, গতি ও শারীরিক শক্তি নাপোলির আক্রমণভাগকে নতুন মাত্রা দেয়। ওই মৌসুমে নাপোলি ৯০ পয়েন্ট সংগ্রহ করে শিরোপা নিশ্চিত করে—যা তাদের ক্লাব ইতিহাসে তৃতীয় লিগ শিরোপা। ব্যক্তিগত সাফল্যও আসে সমানতালে; ২০২৩ সালে তিনি জেতেন আফ্রিকার বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার।
২০২২-২৩ মৌসুমে ওসিমেনের পরিসংখ্যান
| সূচক | পরিসংখ্যান |
|---|---|
| ম্যাচ সংখ্যা (সিরি ‘আ’) | ৩২ |
| গোল | ২৬ |
| শিরোপা | সিরি ‘আ’ চ্যাম্পিয়ন |
| ব্যক্তিগত পুরস্কার | আফ্রিকার বর্ষসেরা ২০২৩ |
তবে সাফল্যের উজ্জ্বলতার আড়ালে ধীরে ধীরে তৈরি হতে থাকে টানাপোড়েন। ওসিমেনের দাবি, ক্লাব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাঁর একটি মৌখিক সমঝোতা ছিল—চাইলে পরবর্তী গ্রীষ্মে তিনি অন্য ক্লাবে যেতে পারবেন। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হয়নি। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, তাঁকে মূল স্কোয়াড থেকেও ছেঁটে ফেলা হয়।
ইতালির আরেক ঐতিহ্যবাহী ক্লাব জুভেন্টাস-এ যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও নাপোলি সেই স্থানান্তর আটকে দেয় বলে অভিযোগ করেন ওসিমেন। তাঁর ভাষায়, ক্লাব তাঁকে বিভিন্ন প্রস্তাবে সম্মত হতে চাপ সৃষ্টি করেছিল এবং ব্যক্তিগত মর্যাদায় আঘাত করেছিল। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমি কারও খেলার পুতুল নই।”
অবশেষে ইতালি ছেড়ে নতুন গন্তব্য বেছে নেন তিনি। তুরস্কের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব গালাতাসারাই-এ রেকর্ড ট্রান্সফার ফিতে যোগ দেন ওসিমেন—যা তুর্কি ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত চুক্তি। নতুন ক্লাবেও নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দিতে সময় নেননি। সম্প্রতি উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ প্লে-অফের প্রথম লেগে গালাতাসারাই ৫-২ গোলে জুভেন্টাসকে পরাজিত করে, যেখানে আক্রমণভাগে ওসিমেন ছিলেন প্রভাবশালী।
ফুটবলে সাফল্য ও সম্পর্কের সমীকরণ প্রায়ই জটিল হয়ে ওঠে। নাপোলির হয়ে ইতিহাস গড়া এই স্ট্রাইকারের বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে—বিশেষত খেলোয়াড় ও ক্লাবের পারস্পরিক আস্থা ও চুক্তিগত স্বচ্ছতা নিয়ে। মাঠের পারফরম্যান্সে তিনি এখনো তুখোড়; কিন্তু নেপথ্যের অভিজ্ঞতা তাঁর ক্যারিয়ারের এক কঠিন অধ্যায় হিসেবেই থেকে যাবে।
