নেইমারের বাদের বিতর্কে রোমারিওর সতর্কবার্তা

ব্রাজিলিয়ান ফুটবল বর্তমানে নেইমারকে কেন্দ্র করে তুমুল বিতর্কের মুখে। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের আগে প্রীতি ম্যাচের দলে নেইমারের অনুপস্থিতি নিয়ে চর্চা বেড়েছে। কোচ কার্লো আনচেলত্তি তাকে ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচের দলে স্থান দেননি। ৩৪ বছর বয়সী নেইমার ২০২৩ সালের শেষদিকে হাঁটুর চোটের পর থেকে জাতীয় দলে ফেরেননি। আনচেলত্তি দল গঠনে নতুন প্রজন্ম ও ম্যাচ ফিটনেসকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।

তবে ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোমারিও এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। তিনি মনে করেন, জাতীয় দলে সর্বপ্রথম প্রতিভার কদর হওয়া উচিত। **‘জার্নাল ও দিয়া’**কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রোমারিও বলেন, “একজন তারকা খেলোয়াড়কে দলে থাকা উচিত, শতভাগ ফিট না থাকলেও নেইমারের মতো একজন খেলোয়াড়ের উপস্থিতি অন্য খেলোয়াড়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমি আশা করি নেইমার ব্রাজিলিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে প্রমাণ করবে যে সে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার যোগ্য।”

রোমারিওর মতোই রোনালদো নাজারিও—দ্য ফেনোমেনন—নেইমারের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। ১৯৯৪ ও ২০০২ বিশ্বকাপ জয়ী এই স্ট্রাইকার বলেছেন, “১২৮ আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৭৯ গোল করা নেইমারকে পরীক্ষা করার কিছু নেই। ফিট থাকলে আমি নিশ্চিত তাকে বিশ্বকাপে নিতাম। সে সব ম্যাচ না খেললেও, যে কোনো ম্যাচে নিজেকে প্রমাণ করেছে।”

২০২৬ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল মে মাসের মাঝামাঝি ঘোষণা করা হবে। তার আগে নেইমারের সামনে একমাত্র শর্ত হলো ফিটনেস প্রমাণ করা। এই মৌসুমে সান্তোসে পাঁচটি ম্যাচ মিস করেছেন, তবে খেলার সময় তিনটি ম্যাচে তিনটি গোল করেছেন এবং একটি গোলে সহায়তা দিয়েছেন।

নিম্নলিখিত টেবিলে নেইমারের সাম্প্রতিক ফর্ম ও উপস্থিতি তুলে ধরা হলো:

ম্যাচদলগোলসহায়তামন্তব্য
ব্রাজিলিয়ান সিরি আ-এ, ম্যাচ ১সান্তোসফিটনেস যাচাই পর্যায়ে
ব্রাজিলিয়ান সিরি আ-এ, ম্যাচ ২সান্তোসপ্রভাবশালী পারফরম্যান্স
ব্রাজিলিয়ান সিরি আ-এ, ম্যাচ ৩সান্তোসধারাবাহিকতা বজায়
মিস করা ম্যাচসান্তোসচোটজনিত কারণে

বিশ্বকাপের আগে দুই প্রীতি ম্যাচ—ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে—নেইমারের অনুপস্থিতি নিয়ে কোচ আনচেলত্তি ও কিংবদন্তিদের মধ্যে মতবিরোধ স্পষ্ট। রোমারিও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, ‘মিস্টার, একটু খেয়াল রাখবেন!’ এই সতর্কবার্তা ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে প্রতিভা বনাম কৌশলের উত্তেজনাপূর্ণ দ্বন্দ্বকে আরও তীব্র করছে।

নেইমারের ফিটনেস ও ধারাবাহিক পারফরম্যান্সই হবে চূড়ান্ত দলে জায়গা পাওয়া নিশ্চিত করার মূল চাবিকাঠি। ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য এই বিতর্ক এখনো ক্রমেই উত্তপ্ত হতে চলেছে।

Leave a Comment