দুই মাসের বেশি সময় ধরে চোট ও অস্ত্রোপচারের জটিল পুনর্বাসন পর্ব পেরিয়ে ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার শেষ পর্যন্ত মাঠে ফিরেছেন। তাঁর প্রত্যাবর্তনেই সান্তোস সান্তোস এফসি পাউলিস্টা চ্যাম্পিয়নশিপের গ্রুপ পর্বের শেষ রাউন্ডে ভেলো ক্লাবকে ৬–০ গোলে পরাজিত করে বড় জয় অর্জন করেছে। নেইমার যদিও গোল করতে পারেননি, একটি অ্যাসিস্টে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
এই জয়ের ফলে সান্তোস প্রতিযোগিতার শেষ আটে স্থান নিশ্চিত করেছে। কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হবে নভোরিজোন্তিনো।
ম্যাচের সংক্ষিপ্ত বিবরণ
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| প্রতিপক্ষ | ভেলো ক্লাব |
| ফলাফল | সান্তোস ৬–০ ভেলো |
| নেইমারের সময় | দ্বিতীয়ার্ধে নামেন |
| অ্যাসিস্ট | ১টি (গ্যাব্রিয়েল বারবোসার গোল) |
| গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত | ২–৩ বার গোলের কাছাকাছি পৌঁছান, কয়েকটি কঠিন ফাউলের শিকার হন |
ম্যাচে নামার সঙ্গে সঙ্গে নেইমার আক্রমণে প্রাণ ফিরিয়ে আনেন। তিনি একাধিক সুযোগ তৈরি করেন এবং ৮১ মিনিটে তাঁর পাস থেকে গ্যাব্রিয়েল বারবোসা গোল করেন। যদিও প্রতিপক্ষের কয়েকটি কঠিন ফাউল সাময়িক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছিল, শেষ পর্যন্ত তাঁর উপস্থিতি দলের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
নেইমার চলতি মৌসুমে চোটের কারণে ১০টি ম্যাচ মিস করেছিলেন। দীর্ঘ পুনর্বাসন শেষে এই ম্যাচে মৌসুমে প্রথমবার মাঠে নেমে বিশ্বকাপের প্রস্তুতির দিক থেকে নিজেকে যাচাই করার সুযোগ পেলেন। পরবর্তী ম্যাচগুলোতে নিজের ক্ষমতা আরও প্রমাণ করে তিনি ব্রাজিলের ২০২৬ বিশ্বকাপ দলে স্থানের দাবিকে জোরদার করতে চাইবেন।
গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে সান্তোস শীর্ষ লিগে অবনমন ঝুঁকির মুখে পড়েছিল। শেষ তিন ম্যাচে চোট নিয়ে খেলেও নেইমার দলকে গুরুত্বপূর্ণ জয়ে এগিয়ে নিয়ে যান: প্রথম ম্যাচে একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট, দ্বিতীয় ম্যাচে হ্যাটট্রিক, এবং শেষ ম্যাচে ভালো খেলার মাধ্যমে দলকে জয় এনে দেন। এই পারফরম্যান্সে সান্তোস লিগে টিকে থাকার নিশ্চয়তা পান।
ম্যাচ শেষে সান্তোসের কোচ হুয়ান পাবলো ভোজভোডা বলেন, ‘নেইমারের মতো খেলোয়াড় সান্তোসের জন্য এবং জাতীয় দলের জন্যও অপরিহার্য। সে জিততে চায় এবং অনুশীলনেই তার উচ্চাকাঙ্ক্ষা স্পষ্ট। মাঠে তার প্রত্যাবর্তন অনুপ্রেরণামূলক।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘নেইমার ফিট এবং ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে। তাই দ্বিতীয়ার্ধে তাকে প্রায় ৫০ মিনিট খেলানো হয়েছে, যাতে তার প্রস্তুতি এবং খেলার মান উভয়ই দেখা যায়।’
নেইমারের মাঠে প্রত্যাবর্তন কেবল সান্তোসের জন্যই নয়, ব্রাজিল জাতীয় দলের ২০২৬ বিশ্বকাপ প্রস্তুতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। তাঁর ফিটনেস এবং মাঠে প্রভাব আগামী ম্যাচগুলোতে দলের পারফরম্যান্সে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
