পাকিস্তানে ১৮ বছরের অপেক্ষা ফুরাল দক্ষিণ আফ্রিকার

রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে স্পিনারদের মধ্যে তীব্র লড়াই হয়েছিল। পাকিস্তানের আসিফ আফ্রিদি যতটা কঠিন ছিলেন, তার চেয়েও বেশি বিপজ্জনক ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার দুই প্রোটিয়া স্পিনার সায়মন হারমার ও কেশব মহারাজ। শেষপর্যন্ত ম্যাচের ঘায়েল হয়েছিল পাকিস্তানেই। দ্বিতীয় টেস্টে ৮ উইকেটে জয় তুলে দুই ম্যাচের সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা।

পাকিস্তানের মাঠে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্ট জিতেছিল শেষবার ২০০৭ সালে করাচিতে, তখন তারা ১৬০ রানে জয় লাভ করেছিল। রাওয়ালপিন্ডিতে দক্ষিণ আফ্রিকার ১৮ বছরের অপেক্ষা আজ শেষ হয়। এই জয়ের দিনে দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিনার সায়মন হারমার একটি রেকর্ড গড়েছেন—প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১০০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ।

রাওয়ালপিন্ডিতে চতুর্থ ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকা মাত্র ৭৫ বলে ৬৮ রানের ছোট লক্ষ্য টপকাতে সক্ষম হয়। উদ্বোধনী জুটিতে এইডেন মার্করাম ও রায়ান রিকেলটন ৭১ বল খেলে ৬৪ রান যোগ করেন। তবে নোমান আলীর দুটি উইকেট তুলে নেওয়ার কারণে স্কোর একটু দেরিতে এগোয়। ১৩তম ওভারের তৃতীয় বলে রিকেলটন ছক্কা মারার মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকা জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়। ইনিংসের সর্বোচ্চ ৪২ রান করেন মার্করাম, যিনি ৪৫ বল খেলে ৮ চার মারেন। অপরাজিত ছিলেন রিকেলটন ২৫ রানে।

পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৫ ওভারে ৯৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে খেলতে নেমেও দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং আক্রমণের সামনে ধুঁকতে থাকে। মাত্র ৮৭ বলে তারা ১৩৮ রানে অলআউট হয়, যেখানে বাবর আজম করেন সর্বোচ্চ ৫০ রান। পাকিস্তানের স্কোর ছিল ৬৭ রান পিছিয়ে। দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিনার সায়মন হারমার দ্বিতীয় ইনিংসে ২০ ওভারে ৫২ রান দিয়ে ৬ উইকেট নেন, যেখানে ৪২তম ওভারের প্রথম বলে নোমান আলীকে আউট করে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার হাজারতম উইকেট পূর্ণ করেন।

এর আগে টস জিতে পাকিস্তান প্রথম ইনিংসে ৩৩৩ রান সংগ্রহ করে। অধিনায়ক শান মাসুদ করেন সর্বোচ্চ ৮৭ রান। দক্ষিণ আফ্রিকার কেশব মহারাজ ৪২.৪ ওভারে ৭ উইকেট নিয়ে সেরা বোলার হন, হারমার নেন ২ উইকেট। দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের প্রথম ইনিংসে ১১৯.৩ ওভারে ৪০৪ রান করে, যেখানে সেনুরান মুথুসামি অপরাজিত ৮৯ রানে ছিলেন। মহারাজ দ্বিতীয় টেস্টের ম্যাচ সেরার পুরস্কার অর্জন করেন, যেখানে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৪ রান খরচায় ২ উইকেট নিয়ে টেস্টে মোট ৯ উইকেট তুলে নেন। সিরিজের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন কেশব মহারাজ, যিনি ১০৬ রান ও ১১ উইকেট নিয়ে দলের সফলতার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার ছিলেন। লাহোরে প্রথম টেস্টে পাকিস্তান ৯৩ রানে জয় লাভ করেছিল।

Leave a Comment