হাল শহরের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া হিমশীতল হাওয়া আর তুষারপাতের মাঝে চেলসির জন্য ম্যাচটি কঠিন হওয়ার সব রকম পূর্বাভাস ছিল। বিশেষ করে প্রতিপক্ষ যখন প্রিমিয়ার লিগে ওঠার দৌড়ে থাকা শক্তিশালী হাল সিটি। তবে মাঠের লড়াইয়ে সব সমীকরণ পাল্টে দিয়ে এফএ কাপের পরবর্তী রাউন্ডে জায়গা করে নিয়েছে চেলসি। এই জয়টি ব্লুজদের নতুন কোচ লিয়াম রোসেনিয়রের জন্য ছিল বিশেষ আবেগের, কারণ এই হাল সিটির সাথেই জড়িয়ে আছে তাঁর খেলোয়াড়ি ও কোচিং জীবনের বহু স্মৃতি। প্রায় দুই বছর আগে এখান থেকেই বরখাস্ত হয়েছিলেন তিনি, তবে আজ চেলসির ডাগআউটে দাঁড়িয়ে সেই মাঠ থেকেই এক রাজকীয় বিজয় ছিনিয়ে নিলেন তিনি।
ম্যাচের গতিপ্রকৃতি ও আধিপত্য
ম্যাচের শুরুটা চেলসির জন্য কিছুটা অস্বস্তিকর ছিল। লিডস ইউনাইটেডের বিপক্ষে দুই গোলের লিড হাতছাড়া করার স্মৃতি টাটকা থাকায় দলটির ওপর মানসিক চাপ ছিল স্পষ্ট। তবে রোসেনিয়র তাঁর একাদশে সাতটি পরিবর্তন এনে সাহসিকতার পরিচয় দেন। প্রথমার্ধে এস্তেভাও উইলিয়ান এবং লিয়াম ডেলাপ বেশ কিছু সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করলে মনে হয়েছিল ম্যাচটি চেলসির হাত থেকে ফসকে যেতে পারে। কিন্তু পর্তুগিজ তারকা পেদ্রো নেতো আজ ছিলেন ভিন্ন মেজাজে। ডি-বক্সের বাইরে থেকে তাঁর এক চমৎকার দূরপাল্লার শট ডেডলক ভেঙে চেলসিকে লিড এনে দেয়। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি সফরকারীদের।
নিচে ম্যাচের সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান ও মূল তথ্যের একটি তালিকা দেওয়া হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
| প্রতিযোগিতা | এফএ কাপ (FA Cup) |
| ম্যাচের ফলাফল | চেলসি ৪ – ০ হাল সিটি |
| ম্যান অফ দ্য ম্যাচ | পেদ্রো নেতো (৩ গোল – হ্যাটট্রিক) |
| লিয়াম ডেলাপের অবদান | ৩টি অ্যাসিস্ট |
| মাঠ | এমকেএম স্টেডিয়াম, হাল |
| চেলসির পরবর্তী লক্ষ্য | এফএ কাপ ফাইনালের পথে যাত্রা |
পেদ্রো নেতোর হ্যাটট্রিক ও ডেলাপের নৈপুণ্য
ম্যাচের নায়ক নিঃসন্দেহে পেদ্রো নেতো, যিনি একাই হ্যাটট্রিক পূর্ণ করে হাল সিটির রক্ষণভাগকে তছনছ করে দেন। তাঁর দ্বিতীয় গোলটি আসে সরাসরি কর্নার থেকে, যা হলের গোলরক্ষক ফিলিপসের পায়ের ফাঁক দিয়ে জালে জড়ায়। তবে নেতোর এই উজ্জ্বল পারফরম্যান্সের পেছনে বড় কারিগর ছিলেন লিয়াম ডেলাপ। নিজের প্রাক্তন ক্লাবের বিপক্ষে গোল করতে ব্যর্থ হলেও পুরো ম্যাচে তিনি তিনটি সরাসরি অ্যাসিস্ট করেছেন। বিশেষ করে এস্তেভাও উইলিয়ানকে দিয়ে করা সহজ ট্যাপ-ইন গোলটি তৈরি করে দেওয়ায় তাঁর বুদ্ধিমত্তার পরিচয় পাওয়া যায়।
হাল সিটি লড়াই করার চেষ্টা করলেও চেলসির গতির সামনে তারা অসহায় হয়ে পড়ে। প্রথমার্ধে ডিলন ফিলিপসের একটি ক্লিয়ারেন্স থেকে ডেলাপের বল ক্রসবারে লাগলে ভাগ্য সহায় হয়নি স্বাগতিকদের। অন্যদিকে, হাল সিটির বর্তমান কোচ সার্জেজ জাকিরোভিচ লিগে টিকে থাকার লড়াইকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে বেশ কিছু মূল খেলোয়াড়কে বিশ্রামে রেখেছিলেন। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, “আমরা অন্তত একটি গোল পাওয়ার যোগ্য ছিলাম, তবে এই লড়াই আমাদের চ্যাম্পিয়নশিপে আত্মবিশ্বাস দেবে।”
রোসেনিয়রের প্রতিক্রিয়া ও ইতিহাস
ম্যাচ শেষে লিয়াম রোসেনিয়র নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। দুই দলের ভক্তদের কাছ থেকেই উষ্ণ অভ্যর্থনা পাওয়ায় তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “এই ক্লাবটি আমার হৃদয়ের খুব কাছে। ছেলেদের মানসিকতা এবং পারফরম্যান্সে আমি অত্যন্ত সন্তুষ্ট।” ঐতিহাসিকভাবে চেলসি যখনই এই প্রতিযোগিতায় হলের মুখোমুখি হয়েছে, তখনই তারা ফাইনালে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। গত এক দশকে তিনবার এমন ঘটনা ঘটেছে, ফলে এবারের জয়টি চেলসি ভক্তদের শিরোপার স্বপ্নকে আরও বাড়িয়ে দিল।
চেলসির এই পারফরম্যান্স ইঙ্গিত দিচ্ছে যে রোসেনিয়রের অধীনে দলটি ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হচ্ছে। রক্ষণের দুর্বলতা কাটিয়ে পেদ্রো নেতো ও এস্তেভাওর মতো তরুণদের হাত ধরে তারা এখন এফএ কাপের ট্রফি জয়ের অন্যতম দাবিদার।
