
প্রথম ব্যালন ডি’অর জিতে ইতিহাস গড়লেন হ্যারি কেইন
ফুটবলের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর জিতে ক্যারিয়ারে নতুন অধ্যায় যোগ করেছেন ইংল্যান্ডের তারকা স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন। প্রথমবারের মতো এই পুরস্কার জয়ের পথে তিনি পেছনে ফেলেছেন ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে ও স্পেনের তরুণ প্রতিভা লামিনে ইয়ামালকে। নারীদের বিভাগে তৃতীয়বারের মতো ব্যালন ডি’অর জিতে নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়েছেন স্পেনের আলেক্সিয়া পুতেয়াস।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) স্থানীয় সময় দিবাগত রাতে লন্ডনে জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন বিভাগে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। পুরুষদের ব্যালন ডি’অর জয়ের মাধ্যমে দীর্ঘ ২৫ বছর পর ইংল্যান্ডের কোনো ফুটবলার এই স্বীকৃতি পেলেন। এর আগে ২০০১ সালে মাইকেল ওয়েন সর্বশেষ ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে পুরস্কারটি জিতেছিলেন। এবার সেই ধারায় নতুন সংযোজন হলেন বায়ার্ন মিউনিখের স্ট্রাইকার কেইন।
পুরুষদের ব্যালন ডি’অরের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে। তৃতীয় হয়েছেন বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। চতুর্থ স্থানে রয়েছেন রদ্রি এবং পঞ্চম স্থানে জায়গা পেয়েছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক লিওনেল মেসি।
মূল পুরস্কার জিততে না পারলেও এবারের অনুষ্ঠান থেকে খালি হাতে ফেরেননি ইয়ামাল। অনূর্ধ্ব-২১ বছর বয়সী ফুটবলারদের মধ্যে সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি হিসেবে কোপা ট্রফি জিতেছেন তিনি। এ নিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো এই পুরস্কার পেলেন স্পেনের এই তরুণ। ২০২৫-২৬ মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২৪টি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে আরও ১৭টি গোল করিয়েছেন তিনি। বার্সেলোনার লা লিগা ও স্প্যানিশ সুপার কাপ জয়ের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন এই ফরোয়ার্ড।
কোচ ও গোলরক্ষকদের স্বীকৃতি
পুরুষদের বর্ষসেরা কোচের পুরস্কার পেয়েছেন স্পেনের জাতীয় দলের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তাঁর অধীনে স্পেন বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে। জাতীয় দলের সাফল্যে তাঁর নেতৃত্ব ও কৌশলগত অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
পুরুষদের গোলরক্ষকদের মধ্যে সেরার স্বীকৃতি পেয়েছেন স্পেনের উনাই সিমন। ইয়াশিন ট্রফি জয়ের পথে বিশ্বকাপে দলের রক্ষণভাগের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি। প্রতিযোগিতায় স্পেনের আটটি ম্যাচে মাত্র এক গোল হজম করেন এই গোলরক্ষক। প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকানো এবং দলের রক্ষণভাগকে সংগঠিত রাখার ক্ষেত্রে তাঁর পারফরম্যান্স বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল।
নারীদের বিভাগে পুতেয়াসের আধিপত্য
নারীদের ব্যালন ডি’অর জিতে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন আলেক্সিয়া পুতেয়াস। এর আগে ২০২১ ও ২০২২ সালে টানা দুইবার এই পুরস্কার জিতেছিলেন স্পেনের এই তারকা। এবার তৃতীয়বারের মতো সম্মাননাটি জিতে নারীদের ফুটবলে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন তিনি।
নারীদের বর্ষসেরা কোচ নির্বাচিত হয়েছেন বার্সেলোনার পেরে রোমেউ। তাঁর অধীনে লিগের ৩০টি ম্যাচের মধ্যে ২৯টিতেই জয় পেয়েছে বার্সেলোনা। পুরো মৌসুমে দলটির গোল ব্যবধান ছিল ১২১। ধারাবাহিক জয় এবং আক্রমণাত্মক ফুটবলে দলের সাফল্য কোচ হিসেবে রোমেউয়ের অবদানকে সামনে নিয়ে এসেছে।
নারী গোলরক্ষকদের মধ্যে সেরা হয়েছেন বার্সেলোনার কাতা কোল। লিগে ১৭টি ম্যাচ খেলে মাত্র ছয়টি গোল হজম করেছেন তিনি। এর মধ্যে ১১টি ম্যাচে প্রতিপক্ষকে কোনো গোল করতে দেননি। গোলপোস্টের নিচে তাঁর ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দলের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বর্ষসেরা ক্লাব ও গোলদাতাদের পুরস্কার
নারী বিভাগে বর্ষসেরা ক্লাবের স্বীকৃতি পেয়েছে বার্সেলোনা। পুরুষ বিভাগে এই পুরস্কার জিতেছে ফ্রান্সের প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে আর্সেনালকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জয়ের পর ক্লাবটির সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
পুরুষদের গার্ড মুলার ট্রফিও জিতেছেন হ্যারি কেইন। ব্যালন ডি’অর জয়ের পাশাপাশি এই পুরস্কার পাওয়ায় তাঁর ব্যক্তিগত অর্জনের তালিকা আরও সমৃদ্ধ হয়েছে। সাধারণত গোলদাতাদের অসাধারণ পারফরম্যান্সকে স্বীকৃতি দিতে এই ট্রফি দেওয়া হয়।
নারীদের গার্ড মুলার ট্রফি জিতে ইতিহাস গড়েছেন মেক্সিকোর স্ট্রাইকার চার্লিন কোরাল। পাচুকার হয়ে খেলা এই ফুটবলার ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে নারীদের বিভাগে গার্ড মুলার ট্রফি জেতা প্রথম মেক্সিকান খেলোয়াড় হয়েছেন।
এবারের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে পুরুষ ও নারী ফুটবলের বিভিন্ন বিভাগে ব্যক্তিগত নৈপুণ্য, গোলরক্ষকদের দক্ষতা, কোচদের নেতৃত্ব এবং ক্লাবগুলোর সাফল্য স্বীকৃতি পেয়েছে। হ্যারি কেইনের প্রথম ব্যালন ডি’অর জয় যেমন ইংলিশ ফুটবলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, তেমনি আলেক্সিয়া পুতেয়াসের তৃতীয়বারের সাফল্য নারীদের ফুটবলে তাঁর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবের বিষয়টি সামনে এনেছে।