
প্রিমিয়ার লিগের নতুন মৌসুমে বিশেষ নজর কাড়বেন যে পাঁচ তারকা
ইংলিশ ফুটবলের সবচেয়ে জনপ্রিয় আসর প্রিমিয়ার লিগের ২০২৬-২৭ মৌসুমের রোমাঞ্চকর লড়াই আজ শুক্রবার থেকে মাঠে গড়াচ্ছে। শিরোপার জন্য চিরাচরিত লড়াইয়ের পাশাপাশি এবারের আসরে বাড়তি উত্তেজনা তৈরি করেছে মেগা ট্রান্সফার বা বড় অঙ্কের দলবদলগুলো। নতুন ঠিকানায় পাড়ি জমানো তারকারা কীভাবে মাঠে নিজেদের মেলে ধরেন, সেটির ওপর নির্ভর করবে তাদের দলগুলোর ভাগ্য। নতুন কোচ, বড় অঙ্কের মূল্য এবং দলের কৌশলগত পরিবর্তনের কারণে এবারের মৌসুমে বিশেষ আলোয় থাকবেন পাঁচজন ফুটবলার।
Table of Contents
মর্গান রজার্স (চেলসি)
অ্যাস্টন ভিলা থেকে ব্রিটিশ রেকর্ড ১১ কোটি ৭০ লাখ পাউন্ডের বিশাল ট্রান্সফার ফিতে চেলসি ক্লাবে যোগ দিয়েছেন মর্গান রজার্স। নতুন কোচ জাবি আলোনসোর অধীনে ক্লাবটিকে নতুনভাবে গড়ে তোলার কঠিন দায়িত্ব বর্তেছে এই ২৪ বছর বয়সি ইংলিশ মিডফিল্ডারের কাঁধে। গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে মাত্র দশম স্থানে থেকে হতাশাজনক মৌসুম শেষ করেছিল চেলসি। সেই ব্যর্থতা পেছনে ফেলে দলকে শীর্ষ চারে ফেরাতে রজার্সের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স জরুরি। অবশ্য স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে তার পুরোনো বন্ধু কোল পালমার আগে থেকেই থাকায় নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া কিছুটা সহজ হবে। তবে একই পজিশনের দুই তারকাকে আলোনসো কীভাবে একসঙ্গে মাঠে ব্যবহার করেন, সেটাই দেখার বিষয়।
এলিয়ট অ্যান্ডারসন (ম্যানচেস্টার সিটি)
রজার্সের চেলসিতে যাওয়ার আগে স্বল্পসময়ের জন্য ব্রিটিশ ফুটবলের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় ছিলেন এলিয়ট অ্যান্ডারসন। নটিংহাম ফরেস্ট থেকে ১১ কোটি ৬০ লাখ পাউন্ডের বিনিময়ে ম্যানচেস্টার সিটি ক্লাবে যোগ দেওয়া এই ২৩ বছর বয়সি মিডফিল্ডারের সামনে শুরু থেকেই রয়েছে আকাশচুম্বী প্রত্যাশা। মাঝমাঠের দুই স্তম্ভ রদ্রি ও বার্নার্দো সিলভা ক্লাব ছেড়ে যাওয়ায় বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে। সেই ঘাটতি পূরণ করতেই অ্যান্ডারসনের ওপর এই রেকর্ড বিনিয়োগ করেছে ম্যানচেস্টার সিটি। টানা দুই মৌসুম প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা হাতছাড়া করার পর এবার আর্সেনালের কাছ থেকে মুকুট পুনরুদ্ধার করতে মরিয়া সিটি শিবির, আর সেই অভিযানে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন এই তরুণ।
ব্রুনো গিমারায়েস (আর্সেনাল)
মর্গান রজার্সকে দলে টানতে ব্যর্থ হলেও নিজেদের মাঝমাঠের শক্তি বাড়িয়ে নিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্সেনাল। নিউক্যাসল ইউনাইটেড থেকে ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার ব্রুনো গিমারায়েসকে এনফিল্ডে আনতে ৭ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড খরচ করেছে তারা। কোচ মিকেল আর্তেতার রক্ষণ ও আক্রমণভাগের ভারসাম্যের দলে এখন গিমারায়েসের সঙ্গে থাকবেন ডেক্লান রাইস ও মার্টিন ওডেগার্ড। এই ত্রয়ীর মিডফিল্ড প্রতিপক্ষের জন্য মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে উঠতে পারে। ইতিমধ্যে অনুশীলনে সতীর্থদের সঙ্গে গিমারায়েসের বোঝাপড়া নজর কেড়েছে, যা প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে কতটা কার্যকর হয় সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।
সান্দ্রো টোনালি (টটেনহ্যাম)
নতুন ক্লাবের প্রস্তাব পাওয়ার পর মাত্র দশ মিনিটেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সান্দ্রো টোনালি। এবার সেই সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল কি না, তা মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে প্রমাণ করার সময় এসেছে এই ইতালিয়ান মিডফিল্ডারের সামনে। নিউক্যাসলের হয়ে আগের মৌসুমে দুর্দান্ত পারফর্ম করা ২৬ বছর বয়সি এই তারকা এবার যোগ দিয়েছেন টটেনহ্যাম হটস্পারে। কোচ রবার্তো ডি জারবির অধীনে নতুন প্রকল্পের অংশ হয়েছেন তিনি। রেলিগেশনের শঙ্কা কাটিয়ে গতবার ঘুরে দাঁড়ানো টটেনহ্যাম এবার আরও উঁচুতে তাকাচ্ছে। তবে বড় অঙ্কের ট্রান্সফার ফির চাপ যে তার ওপর কিছুটা রয়েছে, তা তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন।
জেরেমি জ্যাকে (লিভারপুল)
গত মৌসুমে রক্ষণের দুর্বলতা ভুগিয়েছিল লিভারপুলকে, আর সেই সমস্যা সমাধানেই ফ্রেঞ্চ ক্লাব রেনেস থেকে প্রায় ৬ কোটি পাউন্ডে মাত্র ২১ বছর বয়সি ডিফেন্ডার জেরেমি জ্যাকেকে দলে ভিড়িয়েছে তারা। অ্যানফিল্ডের রক্ষণে এখন বড় পরিবর্তন এসেছে। দলের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার ভার্জিল ফন ডাইকের বয়স এখন ৩৫। এর ওপর ইব্রাহিমা কোনাতে রিয়াল মাদ্রিদে এবং অ্যান্ড্রু রবার্টসন টটেনহ্যামে চলে যাওয়ায় রক্ষণভাগে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। ফন ডাইকের সঙ্গে এই তরুণ ফরাসি ডিফেন্ডারের জুটি কত দ্রুত গড়ে ওঠে, তার ওপরই নির্ভর করছে অ্যানফিল্ডের রক্ষণভাগের ভাগ্য।