ফুটবলের দূত, আফ্রিকার গর্ব ও সেনেগালের নায়ক—সাদিও মানে

মহাপুরুষ বা নায়ক হওয়ার মানদণ্ড কি? ইতিহাসের পাতায় অনেক রথী-মহারথী অম্লান হয়ে থাকলেও, যদি জগৎটি হয় ফুটবলের, তখন প্রশ্ন ওঠে—কী করে একজনকে মহানায়ক বলা যায়? শুধু গোল করলেই কি যথেষ্ট? এই প্রশ্নের জবাব বহু কিংবদন্তি ইতিমধ্যেই দিয়েছেন, যেমন দিয়াগো ম্যারাডোনা। তবে সেনেগালের তারকা সাদিও মানের ক্ষেত্রে তুলনা হয় না; নিজ দেশে তিনি অসংখ্য কীর্তি স্থাপন করেছেন, যা তাকে সত্যিকারের মহাপুরুষের মর্যাদা দিয়েছে।

২০২১ সালের আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের (AFCON) ফাইনালে এই মহাতারকা ফুটবলপ্রেমীদের সামনে এক বিশেষ নজরকাড়া দৃশ্য উপহার দেন। রাবাতের প্রিন্স মুলে আবদেল্লাহ স্টেডিয়ামে মরক্কো বনাম সেনেগাল ফাইনাল, ৯০ মিনিটের উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইয়ের পর ৮ মিনিটের অতিরিক্ত সময়।

মরক্কোর কর্নার থেকে শুরু হওয়া আক্রমণে রেফারি পেনাল্টি নির্দেশ করেন ব্রাহিম দিয়াজের ওপর ফাউলের কারণে। তবে সেনেগালের কোচ পাপ ঝাও খেলোয়াড়দের মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেন। মুহূর্তের উত্তেজনার মাঝেও সাদিও মানে এককভাবে দলের খেলোয়াড়দের মাঠে ফিরিয়ে আনে এবং শান্তি বজায় রাখেন। এর পর দিয়াজের পেনাল্টি মিস হয়, কিন্তু অতিরিক্ত সময়ে পাপে গেয়ের জয়সূচক গোলের মাধ্যমে সেনেগাল চ্যাম্পিয়ন হয়।

মানের এমন নেতৃত্ব, দায়িত্ববোধ ও উদারতা শুধু ফুটবলের জগতে নয়, সাধারণ মানুষের মনে অনন্য ছাপ ফেলে। ম্যাচ শেষে ৩৩ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড মানে বলেন,
“ফুটবল একটি আনন্দের খেলা। ক্ষুব্ধ হয়ে ম্যাচ না খেলা ঠিক হতো না। আমাদের দায়িত্ব ছিল মাঠে ফিরিয়ে ম্যাচ শেষ করা।”

নাইজেরিয়ার সাবেক ফুটবলার ড্যারিয়েল আমোকাচি মন্তব্য করেন, “মানে তার দলের খেলোয়াড়দের মাঠে ফেরাতে সীমার বাইরে গেছেন। অসাধারণ একজন ফুটবলের দূত।”

সাদিও মানের ক্যারিয়ার শুরু হয় দক্ষিণ-পশ্চিম সেনেগালের বামবালিতে—মাটি-মাখা মাঠে। মাত্র ১৩ বছর বয়সে ২০০৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল দেখে তার স্বপ্ন গড়ে ওঠে। পরবর্তী সময়ে লিভারপুলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও প্রিমিয়ার লিগ জয়, জাতীয় দলে দুইবার আফ্রিকা কাপ অব নেশনস জেতা—সবই তার জীবনের অংশ।

অর্জনদলসাল
চ্যাম্পিয়ন্স লিগলিভারপুল2019
প্রিমিয়ার লিগলিভারপুল2020
আফ্রিকা কাপ অব নেশনসসেনেগাল2021
আফ্রিকা কাপ অব নেশনসসেনেগাল2023

সেনেগালের মিডফিল্ডার পাপে গেয়ে বলেন, “মানেকে অন্তত আরও একবার আফকনে দেখতে চাই।” সাদিও মানের উদারতা, নেতৃত্ব ও ফুটবলের প্রতি নিষ্ঠা তাকে শুধু আফ্রিকার নয়, সারা বিশ্বের ফুটবলের এক কিংবদন্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

শেষ পর্যন্ত তার অবসরের সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত হলেও, ফুটবলপ্রেমীরা শুধু বলতে পারবে—“ধন্য মানে, তোমাকে পেয়ে ধন্য ফুটবল।”

Leave a Comment