আগামী জুন মাসে মাঠে গড়াতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় মহাযজ্ঞ—ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬। টুর্নামেন্ট শুরু হতে এখনো মাস চারেক বাকি থাকলেও আয়োজক দেশ মেক্সিকো তাদের নিরাপত্তা প্রস্তুতিতে কোনো ফাঁক রাখতে চাইছে না। বিশেষ করে গ্যালারির ওপর অননুমোদিত ড্রোন হামলা বা নজরদারি ঠেকাতে দেশটির সেনাবাহিনী এখন থেকেই সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে। সম্প্রতি মেক্সিকো সিটির একটি সামরিক ঘাঁটিতে সেনাসদস্যরা তাদের অত্যাধুনিক ‘অ্যান্টি-ড্রোন’ সরঞ্জামের একটি সফল মহড়া ও প্রদর্শনী সম্পন্ন করেছে।
নিরাপত্তা প্রস্তুতির প্রেক্ষাপট ও ভেন্যুসমূহ
১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হবে ফিফা বিশ্বকাপের আসর। পুরো টুর্নামেন্টের মোট ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে মেক্সিকোর তিনটি শহরে ১৩টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এই ম্যাচগুলো চলাকালীন স্টেডিয়ামের ভেতর ও বাইরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন মেক্সিকোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রধান লক্ষ্য।
মেক্সিকোর বিশ্বকাপ ভেন্যু ও নিরাপত্তা পরিকল্পনা একনজরে:
| ভেন্যুর নাম | অবস্থান | বিশেষ গুরুত্ব | নিরাপত্তা ব্যবস্থা |
| এস্তাদিও আজটেকা | মেক্সিকো সিটি | উদ্বোধনী ম্যাচ ও বড় জনসমাগম। | সেমি-মোবাইল অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম। |
| এস্তাদিও আকরন | গুয়াদালাহারা | ড্রোন হামলার উচ্চ ঝুঁকি সম্পন্ন অঞ্চল। | পোর্টেবল ড্রোন জ্যামার ও রাডার। |
| এস্তাদিও বিবিভিএ | মনতেরি | শিল্পাঞ্চল ও আন্তর্জাতিক দর্শক জটলা। | অদৃশ্য ইলেকট্রনিক দেয়াল (Geofencing)। |
| ফ্যান ফেস্ট এলাকা | তিনটি শহর | উন্মুক্ত স্থানে হাজারো ভক্তের সমাগম। | সার্বক্ষণিক ড্রোন তদারকি দল। |
ড্রোন কেন আতঙ্কের নাম?
মেক্সিকোর সাধারণ মানুষের কাছে বর্তমানে ড্রোন কেবল শৌখিন ভিডিওগ্রাফির যন্ত্র নয়, বরং এটি অপরাধী চক্রের একটি ভয়াবহ মারণাস্ত্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। দেশটির কুখ্যাত মাদক কার্টেলগুলো—যেমন সিনালোয়া এবং কার্টেল জালিস্কো নুয়েভা জেনারেশন (সিজেএনজি)—গত কয়েক বছর ধরে সাধারণ ড্রোনে বিস্ফোরক বেঁধে হামলা চালাচ্ছে। গত বছরের অক্টোবরে তিহুয়ানা শহরে সরকারি কার্যালয়ে ড্রোন থেকে বোমা হামলার ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছিল। যদিও বিশ্বকাপের ভেন্যুগুলো অপরাধপ্রবণ এলাকা থেকে দূরে, তবুও ফিফা ও আন্তর্জাতিক দর্শকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে নারাজ।
অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও সুরক্ষা ব্যবস্থা
মেক্সিকোর সেনাবাহিনীর যোগাযোগ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশলী ক্যাপ্টেন হোসে আলফ্রেডো লারা জানিয়েছেন, স্টেডিয়াম এবং ‘ফ্যান ফেস্ট’ এলাকাগুলোতে তারা এক ধরনের ‘অদৃশ্য ইলেকট্রনিক দেয়াল’ তৈরি করবেন। সেনাবাহিনী মূলত দুই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করবে:
১. সেমি-মোবাইল সিস্টেম: এটি স্টেডিয়ামের চারপাশে একটি নির্দিষ্ট সীমানা বা জিওফেন্স তৈরি করবে। কোনো ড্রোন এই সীমানার ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করামাত্রই স্বয়ংক্রিয়ভাবে অকেজো হয়ে যাবে।
২. পোর্টেবল সিস্টেম: এটি দেখতে অনেকটা লক্ষ্যভেদী বন্দুকের মতো। কোনো সন্দেহভাজন ড্রোন দেখা গেলে সৈন্য এটি ব্যবহার করে ড্রোনের সাথে তার পাইলটের সিগন্যাল বিচ্ছিন্ন করে দেবেন। এতে ড্রোনটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাটিতে পড়ে যাবে।
মেক্সিকোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আধুনিক যুদ্ধের কৌশল এখন আকাশপথের দিকে মোড় নিচ্ছে, তাই বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে প্রযুক্তিগত সুরক্ষাই হবে তাদের প্রধান ঢাল। এই কঠোর ব্যবস্থার মাধ্যমে তারা বিশ্বের কাছে মেক্সিকোর একটি নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল ভাবমূর্তি তুলে ধরতে বদ্ধপরিকর।
