ভিনিসিয়ুসের প্রতি বর্ণবাদ: প্রেস্তিয়ান্নির বিরুদ্ধে উয়েফার তদন্ত শুরু

ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা (UEFA) রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলিয়ান তারকা ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে লক্ষ্য করে বর্ণবাদী মন্তব্যের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে। গত মঙ্গলবার রাতে লিসবনে বেনফিকার বিপক্ষে রিয়াল মাদ্রিদের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচের সময় এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে। উয়েফা জানিয়েছে, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় একজন বিশেষ ‘নীতি ও শৃঙ্খলা পরিদর্শক’ নিয়োগ করা হয়েছে, যিনি এই বর্ণবাদী আচরণের গভীর তদন্ত পরিচালনা করবেন।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও উত্তপ্ত মাঠ

ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের একমাত্র গোলেই রিয়াল মাদ্রিদ ১-০ ব্যবধানে জয় পায়। তবে উদযাপনের রেশ কাটতে না কাটতেই মাঠ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ভিনিসিয়ুস অভিযোগ করেন যে, বেনফিকার আর্জেন্টাইন উইঙ্গার জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নি তাকে উদ্দেশ্য করে বর্ণবাদী গালি দিয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে খেলা বন্ধ করে রেফারিকে বিষয়টি অবহিত করেন ভিনিসিয়ুস। প্রতিবাদে রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়রা মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে গেলে খেলা প্রায় ১১ মিনিট বন্ধ থাকে। ফুটবল বিশ্বে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে খেলোয়াড়দের এমন ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

অভিযোগ বনাম আত্মপক্ষ সমর্থন

টিভি ফুটেজে দেখা যায়, প্রেস্তিয়ান্নি তার জার্সি দিয়ে মুখ ঢেকে ভিনিসিয়ুসের উদ্দেশ্যে কিছু বলছেন। রিয়াল মাদ্রিদ তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে পরবর্তীতে সংবাদমাধ্যমকে জানান, প্রেস্তিয়ান্নি অন্তত পাঁচবার ভিনিসিয়ুসকে ‘বানর’ বলে সম্বোধন করেছেন। অন্যদিকে, প্রেস্তিয়ান্নি তার বিরুদ্ধে আনা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, ভিনিসিয়ুস তার কথা ভুল শুনেছেন। এই ঘটনায় বেনফিকা ক্লাব তাদের খেলোয়াড়ের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংহতি প্রকাশ করেছে।

ঘটনা ও সম্ভাব্য শাস্তির সংক্ষিপ্ত রূপরেখা:

বিষয়বিবরণ
ম্যাচ ও তারিখবেনফিকা বনাম রিয়াল মাদ্রিদ (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)।
প্রধান অভিযুক্তজিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নি (বেনফিকা)।
অভিযোগের ধরনবর্ণবাদী মন্তব্য (বানর বলে সম্বোধন)।
খেলার স্থবিরতা১১ মিনিট খেলা বন্ধ ছিল।
সম্ভাব্য শাস্তিঅভিযোগ প্রমাণিত হলে নূন্যতম ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা।

ভিনিসিয়ুসের প্রতিবাদ ও বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া

দীর্ঘদিন ধরে স্প্যানিশ লিগে বর্ণবাদের শিকার হয়ে আসা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবারও দমে যাননি। ম্যাচ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় তিনি বর্ণবাদীদের ‘কাপুরুষ’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্ণবাদের বিরুদ্ধে এই লড়াই কেবল তার একার নয়, বরং ফুটবলের মর্যাদা রক্ষার লড়াই। উয়েফার কঠোর আইন অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড় যদি বর্ণবাদী আচরণে দোষী সাব্যস্ত হন, তবে তাকে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় কমপক্ষে ১০ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হতে পারে।

এই ঘটনা ইউরোপীয় ফুটবলে বর্ণবাদের বিষবাষ্প যে এখনো কতটা প্রবল, তা আবারও প্রমাণ করল। বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীরা উয়েফার এই তদন্তের দিকে নজর রাখছেন এবং দাবি তুলছেন যেন দোষী ব্যক্তি কঠোরতম শাস্তির সম্মুখীন হন। ফুটবলের মাঠে সাম্য ও মর্যাদা ফিরিয়ে আনতে এমন কঠোর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

Leave a Comment