স্লোভেনিয়ান স্ট্রাইকার বেনজামিন সেস্কো বদলি হিসেবে নেমেই একমাত্র গোলে এভারটনকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষ চারে তুলে দিয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন কোচ মাইকেল ক্যারিকের অধীনে ইউনাইটেডের দুর্দান্ত ফর্ম এই জয়ের মাধ্যমে অব্যাহত থাকে।
ক্যারিক দায়িত্ব নেওয়ার পর ছয়টি ম্যাচে সেস্কো এখনও শুরুর একাদশে সুযোগ পাননি। তবে বদলি নামার পর তিনবারের মধ্যে তিনি তৃতীয়বারের মতো দলকে রক্ষা করলেন। এর আগে দুই ম্যাচে শেষ মুহূর্তের গোল করে জয় ও ড্র নিশ্চিত করেছিলেন তিনি।
এভারটনের মাঠে ম্যাচের ৫৮তম মিনিটে আমাদ দিয়ালোর বদলি হিসেবে নামেন সেস্কো। মাত্র ১৩ মিনিট পরই দ্রুত এক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে সুযোগ পেয়ে ৭১তম মিনিটে জয়সূচক গোল করেন। এটি তার গত সাত ম্যাচে ষষ্ঠ গোল।
গোলটির পেছনে বড় ভূমিকা ছিল মাতেউস কুনিয়ার-এর লং পাসের। সেই পাস ধরে ব্রায়ান এমবিউমো ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বল পৌঁছে দেন সেস্কোর সামনে, যেখান থেকে তিনি সহজেই বল জালে পাঠান।
প্রথমার্ধে বলের দখল ছিল ইউনাইটেডের হাতে বেশি, কিন্তু কার্যকর আক্রমণ তৈরি করতে পারছিল না। ম্যাচের শুরুতেই জেমস টারকোস্কি গোললাইন থেকে দিয়ালোর শট ক্লিয়ার করে এভারটনকে রক্ষা করেন। এরপর দিয়োগো দালট ও ব্রুনো ফার্নান্দেস কয়েকটি চেষ্টা করেছিলেন, যা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
দ্বিতীয়ার্ধে এভারটন কিছুটা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। হ্যারিসন আর্মস্ট্রং একটি ভাল সুযোগ পান, কিন্তু কাজে লাগাতে পারেননি। শেষদিকে মাইকেল কিনের দূরপাল্লার শটকে সেনে লামেন্স দুর্দান্তভাবে সেভ করেন। এটি ইউনাইটেডকে মার্চের পর প্রথম অ্যাওয়ে ক্লিন শিট এনে দেয়।
এই জয়ের ফলে ইউনাইটেড ছয় ম্যাচে পঞ্চম জয় তুলে ৪৮ পয়েন্টে ২৭ ম্যাচে লিগের চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে। তাদের অবস্থান তৃতীয় স্থানে থাকা অ্যাস্টন ভিলার থেকে মাত্র তিন পয়েন্ট পিছিয়ে।
এদিকে এভারটনের জন্য এটি বড় ধাক্কা। ২৭ ম্যাচে তারা ৩৭ পয়েন্টে ৯ম স্থানে অবস্থান করছে এবং নতুন হিল ডিকিনসন স্টেডিয়ামে ডেভিড ময়েসের দল টানা সাত ম্যাচ ধরে জয়হীন। ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় খেলার আশা এখন ঝুঁকির মধ্যে।
প্রিমিয়ার লিগ পয়েন্ট টেবিল (সেরাদের সংক্ষিপ্ত চিত্র)
| স্থান | দল | ম্যাচ | জয় | ড্র | হার | পয়েন্ট |
|---|---|---|---|---|---|---|
| 3 | অ্যাস্টন ভিলা | 27 | 15 | 6 | 6 | 51 |
| 4 | ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড | 27 | 14 | 6 | 7 | 48 |
| 9 | এভারটন | 27 | 10 | 7 | 10 | 37 |
ম্যানইউর এই জয়ে ফ্যানদের মধ্যে আশাবাদী অনুভূতি তৈরি হয়েছে। ক্যারিকের অধীনে দলের ধারাবাহিকতা ধরে রাখলে শীর্ষ তিনে ওঠার সম্ভাবনাও প্রবল। অন্যদিকে, এভারটনের টানা জয়হীন ধারা তাদের ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় সুযোগ সংকুচিত করছে।
ম্যাচের মানচিত্র, শেষ মুহূর্তের সেভ, এবং সেস্কোর বদলি গোল—সব মিলিয়ে এটি ম্যানইউর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জয় হয়ে রইল।
