ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের টানা জয়ের রথ অবশেষে থামল। তবে হারের মুখ থেকে রেড ডেভিলদের রক্ষা করেছেন তরুণ স্ট্রাইকার বেঞ্জামিন সেসকো। ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেডের ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত এই রোমাঞ্চকর ম্যাচে যোগ করা সময়ে গোল করে দলকে মূল্যবান ১ পয়েন্ট এনে দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, জেতা ম্যাচ হাতছাড়া হওয়ায় হতাশ হ্যামার্সরা পয়েন্ট টেবিলের ১৮তম স্থানেই রয়ে গেছে, যেখানে ইউনাইটেড চতুর্থ স্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
ম্যাচের মূল ঘটনাপ্রবাহ
পুরো ম্যাচে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে কিছুটা ক্লান্ত ও মন্থর মনে হলেও ওয়েস্ট হ্যাম ছিল আক্রমণাত্মক। ম্যাচের শুরু থেকেই জ্যারড বোয়েন এবং ক্রিসেনসিও সামারভিল ইউনাইটেড রক্ষণভাগকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখেন। প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকলেও ওয়েস্ট হ্যামের অ্যারন ওয়ান-বিসাকা গোললাইন থেকে ইউনাইটেডের একটি নিশ্চিত গোল প্রতিহত করেন।
দ্বিতীয়ার্ধে জ্যারড বোয়েনের একটি নিচু ক্রস থেকে দারুণ এক ফিনিশিংয়ে টমাস সুচেক স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন। ১-০ গোলে পিছিয়ে থাকা ইউনাইটেড যখন হারের প্রহর গুনছিল, তখনই বদলি হিসেবে নামা বেঞ্জামিন সেসকো ত্রাতা হয়ে আবির্ভূত হন। যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে ব্রায়ান এমবেউমোর ক্রস থেকে এক চমৎকার ফ্লিকে গোল করে সমতা ফেরান এই স্লোভেনীয় ফরোয়ার্ড।
ম্যাচের পরিসংখ্যান ও বর্তমান অবস্থান নিচে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
| ম্যাচের ফলাফল | ওয়েস্ট হ্যাম ১ – ১ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড |
| গোলদাতা (ওয়েস্ট হ্যাম) | টমাস সুচেক |
| গোলদাতা (ইউনাইটেড) | বেঞ্জামিন সেসকো |
| ইউনাইটেডের অবস্থান | ৪র্থ (প্রিমিয়ার লিগ টেবিল) |
| ওয়েস্ট হ্যামের অবস্থান | ১৮তম (প্রিমিয়ার লিগ টেবিল) |
| ম্যাচ সেরা | জ্যারড বোয়েন (ওয়েস্ট হ্যাম) |
কোচেদের প্রতিক্রিয়া
ম্যাচ শেষে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অন্তর্বর্তীকালীন কোচ মাইকেল ক্যারিক স্বীকার করেন যে তার দল আজ সেরা ছন্দে ছিল না। তিনি বলেন, “ছেলেরা ড্রেসিংরুমে হতাশ, যা একটি ভালো লক্ষণ। আমরা জানি এই লিগে জয়ের ধারা বজায় রাখা কতটা কঠিন। সবসময় স্পার্ক পাওয়া যায় না, কখনো কখনো লড়াইটা অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। তবে শেষ পর্যন্ত আমরা একটি পথ খুঁজে পেয়েছি।”
অন্যদিকে, ওয়েস্ট হ্যামের কোচ নুনো এসপিরিতো সান্তো শেষ মুহূর্তের এই গোল হজম করায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে এই ধাক্কা খাওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। তবে আমরা একটি ফর্মে থাকা দলের বিরুদ্ধে দারুণ লড়াই করেছি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুটা আমাদের জন্য খুব ইতিবাচক ছিল এবং আমাদের দ্বিতীয় গোল করার সুযোগও ছিল।”
কৌশলী পরিবর্তন ও ভবিষ্যৎ শঙ্কা
ক্যারিক ৬৯ মিনিটে ম্যাথিয়াস কুনহাকে তুলে নিয়ে সেসকোকে মাঠে নামান। কুনহা আজ সেভাবে প্রভাব বিস্তার করতে পারেননি। শেষের দিকে ফুল-ব্যাক ডিওগো ডালটকে তুলে নিয়ে আক্রমণভাগের জশুয়া জিরকজিকে নামানোর ঝুঁকিটি শেষ পর্যন্ত কাজে দেয়। তবে ইউনাইটেডের আক্রমণভাগের এই মন্থর গতি সমর্থকদের মনে কিছুটা চিন্তার উদ্রেক করেছে। এমবেউমো এবং কুনহার মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা কেন আজ নিজেদের মেলে ধরতে পারলেন না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
ওয়েস্ট হ্যামের জন্য এটি হতে পারত রেলিগেশন জোন থেকে উঠে আসার এক দুর্দান্ত সুযোগ। অ্যারন ওয়ান-বিসাকা এবং সামারভিলের পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে সামারভিল তাঁর ষষ্ঠ ম্যাচে ষষ্ঠ গোলের খুব কাছে চলে গিয়েছিলেন। তবে শেষ রক্ষা না হওয়ায় রেলিগেশন লড়াই এখন হ্যামার্সদের জন্য আরও কঠিন হয়ে পড়ল।
