বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর ফিফা বিশ্বকাপ সামনে রেখে যখন অংশগ্রহণকারী দলগুলো শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, তখন বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে জার্মানি জাতীয় দল। দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফরোয়ার্ড সার্জ ন্যাব্রির গুরুতর চোট ঘিরে তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা, যা তাদের বিশ্বকাপ পরিকল্পনায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখ এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে, ন্যাব্রির ডান উরুর অ্যাডাক্টর পেশি ছিঁড়ে গেছে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের পেশির চোট সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি বিশ্রাম, ফিজিওথেরাপি এবং ধাপে ধাপে পুনর্বাসনের প্রয়োজন হয়। ক্লাবটি যদিও নির্দিষ্ট সময়সীমা জানায়নি, তবে ইঙ্গিত দিয়েছে যে তিনি দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে পারেন। কীভাবে এবং কোন ম্যাচে তিনি এই চোট পেয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করা হয়নি।
জার্মান গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, চলতি মৌসুমের বাকি সময় ন্যাব্রির মাঠে ফেরার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। এতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন বিশ্বকাপ দলে তার জায়গা পাওয়া নিয়ে। কারণ, বুন্দেসলিগা শেষ হবে ১৬ মে এবং ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের অন্যতম বড় ম্যাচ চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ৩০ মে। এর মাত্র দুই সপ্তাহ পর, ১১ জুন থেকে শুরু হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে বিশ্বকাপ।
ন্যাব্রির চোট জার্মান শিবিরে বিশেষভাবে উদ্বেগজনক, কারণ তিনি দীর্ঘদিন ধরে দলের আক্রমণভাগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত। তার গতি, ড্রিবলিং দক্ষতা এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে গোল করার ক্ষমতা জার্মানির কৌশলগত ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তার সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের একটি চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:
| প্রতিযোগিতা | ম্যাচ | গোল | অ্যাসিস্ট |
|---|---|---|---|
| বায়ার্ন মিউনিখ (সব প্রতিযোগিতা) | ৩৭ | ১০ | ১১ |
| বুন্দেসলিগা | ২১ | ৮ | ৭ |
| জার্মানি জাতীয় দল | ৫৯ | ২৬ | ১১ |
বর্তমানে বায়ার্ন মিউনিখ ২৯ ম্যাচে ৭৬ পয়েন্ট নিয়ে বুন্দেসলিগা টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে। পাশাপাশি দলটি চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে পৌঁছেছে, যা ক্লাবের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই পর্যায়ে ন্যাব্রির অনুপস্থিতি দলটির আক্রমণভাগের পরিকল্পনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে আসন্ন বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত ৩৯ দিনব্যাপী এই আসর যৌথভাবে আয়োজন করবে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা। নতুন ফরম্যাটে গ্রুপ পর্বে জার্মানি খেলবে আইভরি কোস্ট, ইকুয়েডর এবং নবাগত কুরাসাওয়ের বিপক্ষে।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, ন্যাব্রির মতো অভিজ্ঞ ও আক্রমণাত্মক খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি জার্মানির আক্রমণভাগকে উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করতে পারে। বিশেষ করে বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে অভিজ্ঞতা, চাপ সামলানোর ক্ষমতা এবং ম্যাচ জেতানোর দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় তার চোট কোচিং স্টাফের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে।
বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহ জার্মানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে। ন্যাব্রির পুনর্বাসন অগ্রগতি, ফিটনেস রিপোর্ট এবং মেডিকেল মূল্যায়নই নির্ধারণ করবে তিনি বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারবেন কি না। ফলে টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই জার্মান শিবিরে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা ক্রমশ বাড়ছে, যা দলের প্রস্তুতি পরিকল্পনাকে জটিল করে তুলছে।
