ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়নস লিগে ইতিহাস গড়লো নিউক্যাসল ইউনাইটেড। মঙ্গলবার ঘরের মাঠ সেন্ট জেমস’ পার্ক-এ অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় লেগে কারাবাগকে ৩-২ গোলে হারিয়ে (দুই লেগ মিলিয়ে ৯-৩ ব্যবধানে) শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ইংলিশ ক্লাবটি।
প্রথম লেগে বাকুতে নিউক্যাসল ৬-১ গোলে জয়ী হওয়ায় এই ম্যাচে বিজয় কিছুটা নিশ্চিতই ছিল। তবে ম্যাচ শুরুতেই ইংলিশ ক্লাবের দুর্দান্ত আক্রমণ লক্ষ্য করা যায়। মাত্র চতুর্থ মিনিটে সান্দ্রো টোনালি এবং ষষ্ঠ মিনিটে জোয়েলিন্টো গোল করলে মাত্র ৮০ সেকেন্ডের মধ্যে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় নিউক্যাসল।
দ্বিতীয়ার্ধে কারাবাগ কিছুটা সমতা ফিরিয়ে আনে। ৫১তম মিনিটে কামিলো দুরান একটি গোল শোধ করেন। তবে এক মিনিট পর কিয়েরান ট্রিপিয়ারের কর্নার থেকে হেডে গোল করেন স্ভেন বটম্যান, যা ছিল তার প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগ গোল। পরের দিকে কারাবাগ আবার ব্যবধান কমিয়ে ৩-২ করে, মার্কো জানকোভিচের পেনাল্টি এরন রামসডেল ঠেকালেও ড্যান বার্নের হ্যান্ডবলের কারণে গোল হন এলভিন জাফারগুলিয়েভ।
ম্যাচ শেষে নিউক্যাসল কোচ এডি হাওয়ে বলেন, “২-০ এগিয়ে যাওয়ার পর আমরা কিছুটা ঢিলা দিয়েছি। দুই লেগ মিলিয়ে ফলাফল চমৎকার, তবে আজকের জয়টা কিছুটা ফাঁপা মনে হচ্ছে।” নিউক্যাসল এখন শেষ ষোলোতে বার্সেলোনা বা চেলসির মুখোমুখি হবে। ড্র শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবে। এটি ক্লাবের ইতিহাসে প্রথমবার চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বে ওঠা।
অন্যদিকে বায়ার লেভারকুসেন শেষ ষোলোতে পৌঁছেছে গোলশূন্য ড্রয়ের মাধ্যমে। মঙ্গলবার অলিম্পিয়াকোসের সঙ্গে খেলায় ০-০ ড্র করে (দুই লেগ মিলিয়ে ২-০ ব্যবধানে) শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে জার্মান ক্লাবটি। প্রথম লেগে প্যাট্রিক শিক দুই গোল করে দলকে সুবিধাজনক অবস্থানে এনে দিয়েছিলেন।
ড্র ম্যাচে আলেক্স গ্রিমালদো একবার ক্রসবারে বল লাগালেও গোল হয়নি। ম্যাচ শেষে গোলরক্ষক ইয়ানিস ব্লাসভিচ মন্তব্য করেন, “আমরা আমাদের লক্ষ্য পূরণ করেছি। এবার সামনে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ বায়ার্ন মিউনিখ বা আর্সেনাল।” শেষ দিকে অলিম্পিয়াকোস চাপ সৃষ্টি করলেও লেভারকুসেন ড্র ধরে রাখে।
শেষ ষোলোর সূচি ও ফলাফল (চূড়ান্ত লেগ)
| ক্লাব | বিপক্ষ | প্রথম লেগ | দ্বিতীয় লেগ | মোট ফলাফল | শেষ ষোলো নিশ্চিত? |
|---|---|---|---|---|---|
| নিউক্যাসল ইউনাইটেড | কারাবাগ | ৬-১ | ৩-২ | ৯-৩ | হ্যাঁ |
| বায়ার লেভারকুসেন | অলিম্পিয়াকোস | ২-০ | ০-০ | ২-০ | হ্যাঁ |
এইভাবে ইংলিশ ও জার্মান দুই ক্লাব ইতিহাসে প্রথমবার চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বে পৌঁছালো, যা তাদের সমর্থকদের জন্য স্মরণীয় এক মুহূর্ত।
