আন্তর্জাতিক ফুটবল ফেডারেশন (ফিফা) ২০২৬ সালের আসন্ন বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ফুটবল ক্লাবগুলোর জন্য একটি বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। সাধারণত আন্তর্জাতিক ম্যাচ এবং বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টগুলোতে খেলোয়াড়েরা নিজ নিজ জাতীয় দলের হয়ে অংশ নেওয়ার কারণে ক্লাবগুলো তাদের নিয়মিত পারফর্মারদের দীর্ঘ সময় ক্লাবের বাইরে রাখে। অনেক ক্ষেত্রে খেলোয়াড়দের চোট বা ক্লান্তির ঝুঁকিও তৈরি হয়। ক্লাবগুলোর এই সম্ভাব্য ক্ষতি বা ত্যাগকে স্বীকৃতি দিতে এবং তা পুষিয়ে দিতে ফিফা মোট ৩৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি বিশেষ আর্থিক তহবিল গঠন করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
ফিফা ক্লাব বেনেফিটস প্রোগ্রাম ও তহবিলের বিন্যাস
এই বিশাল অঙ্কের অর্থ বিশ্বব্যাপী ক্লাবগুলোর মাঝে বণ্টন করা হবে ফিফার নতুন উদ্যোগ ‘ফিফা ক্লাব বেনেফিটস প্রোগ্রাম’-এর আওতায়। এই কর্মসূচির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, পূর্বে কেবল বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে ক্লাবগুলোকে অর্থ দেওয়া হলেও, এবারই প্রথম কোনো বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের ম্যাচগুলোর জন্যও ক্লাবসমূহকে এই আর্থিক সুবিধার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
গঠিত ৩৫৫ মিলিয়ন ডলারের এই বিশাল তহবিলকে নির্দিষ্ট কিছু খাতে ভাগ করে ক্লাবগুলোর মাঝে বিতরণ করা হবে। নিচে এই তহবিলের সুনির্দিষ্ট বণ্টন প্রক্রিয়া এবং আর্থিক কাঠামোর বিবরণ টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো:
এক নজরে ফিফা ক্লাব বেনেফিটস তহবিলের খাতওয়ারি বণ্টন
| আর্থিক খাতের বিবরণ | বরাদ্দের পরিমাণ (মার্কিন ডলারে) |
| মূল টুর্নামেন্ট বরাদ্দ (বিশ্বকাপের মূল পর্বের খেলোয়াড়দের জন্য) | ২৫০ মিলিয়ন ডলার |
| বাছাইপর্বের ম্যাচ বরাদ্দ (বাছাইপর্বে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের জন্য) | ১০০ মিলিয়ন ডলার |
| ক্লাব ফুটবলের উন্নয়ন তহবিল (অবকাঠামো ও সামগ্রিক উন্নয়নে) | ৫ মিলিয়ন ডলার |
| মোট ঘোষিত ক্ষতিপূরণ তহবিল | ৩৫৫ মিলিয়ন ডলার |
| গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া খেলোয়াড়ের ক্লাবের ন্যূনতম আয় | ১ লাখ ৬০ হাজার ডলার (প্রায়) |
নতুন নিয়মের প্রভাব ও আর্থিক নিশ্চয়তা
ফিফা কর্তৃক প্রবর্তিত এই নতুন আর্থিক নির্দেশিকা অনুযায়ী, ক্লাবগুলোর আয় নিশ্চিত করার জন্য একটি নির্দিষ্ট ন্যূনতম সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়ম সাপেক্ষে, কোনো নির্দিষ্ট ক্লাবের তালিকাভুক্ত খেলোয়াড় যদি বিশ্বকাপের মূল পর্বের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় বা তাঁর জাতীয় দল পরের রাউন্ডে উন্নীত হতে ব্যর্থ হয়, তবুও সংশ্লিষ্ট ক্লাবের জন্য ন্যূনতম প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত আর্থিক আয় নিশ্চিত থাকবে। টুর্নামেন্টে খেলোয়াড় ও দলের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এই আয়ের পরিমাণ পর্যায়ক্রমে আরও বৃদ্ধি পাবে।
বিশ্বফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপকে বিশ্বজুড়ে ক্লাব ফুটবলের অবদান এবং খেলোয়াড়দের সুরক্ষায় ক্লাবগুলোর বিনিয়োগের প্রতি একটি বড় ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ও আর্থিক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর ফলে জাতীয় দল এবং ক্লাব ফুটবলের মধ্যকার সমন্বয় আরও সুদৃঢ় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
