বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের রক্ষণভাগের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য আফঈদা খন্দকার বর্তমানে ক্যারিয়ারের এক চ্যালেঞ্জিং সময় পার করছেন। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি প্রথমে অধিনায়কত্ব হারান এবং এরপর ভারতের বিপক্ষে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মূল একাদশ থেকেও বাদ পড়েন। দলীয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া তথ্য অনুযায়ী, কোচ পিটার বাটলার ম্যাচের আগে টিম মিটিংয়ে সরাসরি তাঁকে জানান যে তিনি আজকের একাদশে থাকছেন না।
মালদ্বীপের বিপক্ষে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ের ম্যাচে দ্বিতীয় গোল হজমের ক্ষেত্রে আফঈদার রক্ষণগত দুর্বলতাকে দায়ী করা হয়েছে। এই পারফরম্যান্স মূল্যায়নের পর থেকেই তাঁর জায়গা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। অনুশীলনেও তাঁর অবস্থানে সুরমা জান্নাতকে মূল দলের সঙ্গে খেলানো হয়, যা আফঈদার একাদশের বাইরে থাকার সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করে। শেষ পর্যন্ত কোচ বাটলার সুরমাকেই তাঁর বিকল্প হিসেবে বেছে নেন।
আফঈদা খন্দকার ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক অভিষেকের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে দলে খেলেছেন। সাতক্ষীরার এই ২০ বছর বয়সী ডিফেন্ডার এ পর্যন্ত টানা ২৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশ নিয়েছেন এবং এর মধ্যে ১৪টি ম্যাচে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। দলের সিনিয়র ডিফেন্ডার আঁখি খাতুন ও মাসুরা পারভীনের অনুপস্থিতিতে তিনি রক্ষণভাগে নেতৃত্ব দিয়েছেন। পাশাপাশি বয়সভিত্তিক অনূর্ধ্ব-২০ দলেও অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তবে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে এই প্রথমবারের মতো তাঁকে মূল দল থেকে বাদ দেওয়া হলো। আজকের ম্যাচে ডিফেন্সে আরেকটি পরিবর্তন নিয়ে আলোচনায় ছিলেন শিউলি আজিম। তবে কোচ বাটলার গত ম্যাচে খেলা কোহাতি কিসকুর ওপরই আস্থা রাখতে আগ্রহী। বিশেষ করে ভারতের যে খেলোয়াড় ওই পজিশনে খেলেন, তাকে মোকাবিলায় কোহাতি কিসকু বেশি কার্যকর হতে পারেন বলে কোচ মনে করছেন। যদিও টিম মিটিংয়ে শিউলিকে একাদশে রাখা হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তখনও জানানো হয়নি।
নিচে আফঈদা খন্দকারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| অভিষেক ম্যাচ | সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে (ডিসেম্বর ২০২৩) |
| বয়স | ২০ বছর |
| আন্তর্জাতিক ম্যাচ | ২৪টি |
| অধিনায়ক হিসেবে ম্যাচ | ১৪টি |
| পজিশন | ডিফেন্ডার |
আজ রাত ৮টায় মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও ভারত নারী দল। উভয় দলই তাদের প্রথম ম্যাচে জয় পাওয়ায় ইতোমধ্যে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে। ফলে এই ম্যাচটি মূলত গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণের লড়াই হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের জন্য জয় অপরিহার্য, অন্যদিকে ভারতের জন্য ড্র করলেই শীর্ষস্থান ধরে রাখা সম্ভব।
