২০২৬ বিশ্বকাপে ভাঙতে পারে পাঁচ ঐতিহাসিক রেকর্ড

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে আয়োজন করতে যাচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬, যা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে আকার ও পরিসরের দিক থেকে সবচেয়ে বড় আসর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নেবে এই বিশ্বকাপে, এবং ম্যাচসংখ্যা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১০৪টি। পূর্ববর্তী আসরগুলোতে ৩২ দল ও ৬৪ ম্যাচের কাঠামো থাকলেও নতুন ফরম্যাট বিশ্বকাপকে আরও বিস্তৃত ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলছে।

এই সম্প্রসারিত কাঠামো শুধু অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যাই বাড়াচ্ছে না, বরং দীর্ঘদিনের বেশ কিছু রেকর্ড ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি করছে। বিশেষ করে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড এখন আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে, যেগুলো ২০২৬ আসরে নতুনভাবে লিখিত হতে পারে।

সম্ভাব্য রেকর্ড ভাঙার ক্ষেত্রসমূহ

রেকর্ডের ধরনবর্তমান রেকর্ডসম্ভাব্য পরিবর্তন
সর্বোচ্চ গোল (এক আসরে)২০২২ সালে ১৭২ গোল১০৪ ম্যাচে ২০০+ গোলের সম্ভাবনা
সর্বাধিক বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ৫টি (৫ জন খেলোয়াড়)৬টি বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে নতুন রেকর্ড
সর্বোচ্চ গোলদাতামিরোসাভ ক্লোসা (১৬)মেসি বা এমবাপ্পে ছাড়িয়ে যেতে পারেন
সর্বাধিক ম্যাচ জয় (খেলোয়াড়)ক্লোসা (১৭ জয়)মেসির ১৬ জয়, ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা
সর্বাধিক জয় (কোচ)হেলমুট শন (১৬ জয়)দেশমের ১৪ জয়, রেকর্ড ভাঙার সুযোগ

গোলসংখ্যায় নতুন উচ্চতা

একটি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড বর্তমানে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের দখলে, যেখানে ৬৪ ম্যাচে মোট ১৭২টি গোল হয়েছিল। ২০২৬ বিশ্বকাপে ম্যাচসংখ্যা বেড়ে ১০৪ হওয়ায় গোলের মোট সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এমনকি প্রতি ম্যাচে গোলের গড় তুলনামূলক কম হলেও, মোট গোলসংখ্যা ১৭২ অতিক্রম করা বাস্তবসম্মত হিসাবেই বিবেচিত হচ্ছে।

ছয় বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা

বিশ্বকাপ ইতিহাসে এখন পর্যন্ত আন্তোনিও কারবাহাল, লোথার ম্যাথাউস, রাফায়েল মার্কেজ, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসি—এই পাঁচজন খেলোয়াড় পাঁচটি করে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছেন। ২০২৬ সালে লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং গুইলার্মো ওচোয়া মাঠে নামলে তারা প্রথমবারের মতো ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার নজির স্থাপন করবেন। ম্যাচে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য মাঠে নামলেও এই রেকর্ড তাদের নামে যুক্ত হবে।

সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডের চ্যালেঞ্জ

জার্মানির মিরোসাভ ক্লোসা চারটি বিশ্বকাপে মোট ১৬ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড ধরে রেখেছেন। বর্তমানে লিওনেল মেসির গোলসংখ্যা ১৩ এবং কিলিয়ান এমবাপ্পের ১২। ফলে মেসির প্রয়োজন আরও ৪টি এবং এমবাপ্পের প্রয়োজন ৫টি গোল। পরিসংখ্যান অনুযায়ী এই রেকর্ড ২০২৬ আসরে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

ম্যাচ জয়ের রেকর্ড

বিশ্বকাপে একজন খেলোয়াড় হিসেবে সর্বাধিক ম্যাচ জয়ের রেকর্ডও ক্লোসার, যার জয়সংখ্যা ১৭। লিওনেল মেসির বর্তমান জয় ১৬টি। আর্জেন্টিনা যদি গ্রুপপর্বেই অন্তত দুটি ম্যাচ জিততে সক্ষম হয়, তাহলে মেসি এই রেকর্ড অতিক্রম করতে পারেন।

কোচদের রেকর্ডে পরিবর্তনের সম্ভাবনা

কোচ হিসেবে বিশ্বকাপে সর্বাধিক ১৬ ম্যাচ জয়ের রেকর্ডটি পশ্চিম জার্মানির হেলমুট শনের দখলে রয়েছে দীর্ঘ সময় ধরে। ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম বর্তমানে ১৪টি ম্যাচ জিতেছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপে ফ্রান্স যদি দুটি ম্যাচ জেতে, তাহলে তিনি রেকর্ডে সমতা আনবেন, আর তিনটি জয় পেলে নতুন রেকর্ড স্থাপন করবেন।

সব মিলিয়ে, বিশ্বকাপ ২০২৬ শুধু অংশগ্রহণের দিক থেকে নয়, পরিসংখ্যান ও রেকর্ডের দিক থেকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে। নতুন ফরম্যাটের কারণে দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত রেকর্ডগুলো নতুনভাবে মূল্যায়িত হওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment