মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকো অনুষ্ঠিত হয়েছে এক সপ্তাহ আগে। রিয়াল মাদ্রিদের কাছে ২-১ গোলে হেরে মাঠ ছেড়েছিল বার্সেলোনা। সেই ম্যাচে মাঠের ভেতরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে দুই দলের ফুটবলারদের মধ্যে। তর্ক-বিতর্ক, ধাক্কাধাক্কি—সব মিলিয়ে ম্যাচ শেষে পরিবেশ ছিল বেশ গরম। তবে এই সময়টা পুরোপুরি শান্ত থেকেছেন বার্সার পোলিশ গোলরক্ষক ভয়চেক সিজনি।
ম্যাচে এক পেনাল্টিসহ নয়টি সেভ করে নজর কাড়েন সিজনি। তিনি ম্যাচ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে রেগে যাওয়া সতীর্থ ও প্রতিপক্ষদের উদ্দেশে এক পরামর্শ দিয়েছেন—নিজেকে সংযত রাখা ও ধ্যানের অভ্যাস গড়ে তোলা।
সিজনি বলেন, “ক্যারিয়ারের শুরুর দিকেই শিখেছিলাম, আবেগ কখনোই সাহায্য করে না। তাই এমন উত্তপ্ত মুহূর্তে আমি নিজেকে সবার থেকে আলাদা করে ফেলি। এল ক্লাসিকোর পর যখন সবাই তর্কে জড়াচ্ছিল, আমি শুধু ভাবছিলাম—‘আমরা হেরেছি, কিন্তু এখন এখান থেকে এগিয়ে যেতে হবে।’ আমি সবাইকে পরামর্শ দিই—ধ্যান (মেডিটেশন) চর্চা করুন এবং গভীরভাবে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমি ম্যাচের আগে এবং হাফ-টাইমে ধ্যান করি। তখন অনেকে অবাক হয়ে তাকায়, কারণ আমি লকার রুমেই বসে ধ্যান শুরু করি। আমি মনে করি, উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে কিংবা স্বাভাবিক সময়েও গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া খুবই জরুরি।”
এল ক্লাসিকোয় সিজনি ছিলেন দুর্দান্ত। ২০১৭ সালের পর কোনো গোলরক্ষক এই ম্যাচে এককভাবে নয়টি সেভ করতে পারেননি। তাছাড়া, ২০১৫-১৬ মৌসুমের পর এবারই প্রথম কেউ বার্সা-রিয়াল ম্যাচে পেনাল্টি ঠেকিয়েছেন—এই কৃতিত্বও তার দখলে।
পেনাল্টি ঠেকানোর কৌশল সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমি ম্যাচের আগে প্রতিপক্ষ পেনাল্টি টেকারদের নিয়ে বিশ্লেষণ করি। তারা সাম্প্রতিক ২০টি শটে কীভাবে বল মেরেছে, সেগুলোর ভিডিও দেখি। তাদের দৌড়ের ভঙ্গি (রান-আপ) থেকেও অনেক সময় বুঝে ফেলি কোন দিকে শট নিতে পারে।”
তিনি যোগ করেন, “গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে খেলোয়াড়রা অনেক সময় তাদের অভ্যাসমাফিক শট নেয়। তাই আমি আগে থেকেই প্রস্তুতি নিই। এমবাপের আগের পেনাল্টিগুলো দেখেছিলাম—গত মৌসুমেও সে আমার বিপক্ষে একবার গোল করেছিল। আমি ধরে নিয়েছিলাম এবারও সে একই দিকে মারবে, এবং ঠিক সেটাই হয়েছে। ভাগ্য সহায় ছিল, তাই ঠেকাতে পেরেছি।”
