ওয়াটার পোলো খেলার নিয়মাবলী । খেলাধুলার আইন

ওয়াটার পোলো খেলার নিয়মাবলীঃ ওয়াটার পোলো নাম শুনলেই বোঝা যায় এ খেলা পানির মধ্যে হয়ে থাকে। এ কারণে ওয়াটার পোলো খেলাকে অনেকেই ‘পানির খেলা’ বলে থাকেন। নদী মাতৃক বাংলাদেশে ওয়াটার পোলো খেলার প্রচলন খুবই কম বলা যায়। মাঝে মধ্যে এ খেলা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। যেহেতু এ খেলার প্রচলন খুবই কম সেহেতু এর জনপ্রিয়তাও কম ৷ তবে নদী মাতৃক বাংলাদেশে চেষ্টা করলে ওয়াটার পোলো খেলার প্রচলন বৃদ্ধি করে এর জনপ্রিয়তা বাড়ানো সম্ভব। এই খেলার সাথে ফুটবল। খেলার যথেষ্ট মিল রয়েছে ।

 

 

ওয়াটার পোলো খেলার নিয়মাবলী । খেলাধুলার আইন

মাঠ

ফুটবল খেলার জন্য যেমন একটি মাঠের প্রয়োজন, ওয়াটার পোলো খেলার জন্য তেমনি একটি মাঠ দরকার। তবে ওয়াটার পোলো খেলার জন্য দরকার একটি পানির মাঠ বা পুকুরের । স্রোতহীন জলাশয়েও এ খেলা সম্ভব। তবে স্থায়ীভাবে খেলার জন্য নির্ধারিত মাপে গর্ত করে জলাশয় তৈরি করে নেয়াই বাঞ্ছনিয়।

মাঠের মাপ

ওয়াটার পোলো খেলার জন্য পুকুর বা জলাশয়ের দৈর্ঘ্য হবে ৩০ মিটার এবং প্রস্থ ২০ মিটার। খেলার জন্য উপযুক্ত জলাশয় বা পুকুরকে দৈর্ঘ্যে সমান দু’ভাগে ভাগ করতে হবে। এর মধ্য ভাগকে বলা হয় “ফিল্ড অফ প্লে’।

 

গোলপোস্ট

জলাশয়ের উভয় প্রান্তে একটি করে দুটি পোষ্ট থাকবে। এই পোষ্ট দুটি গোল লাইনের উপরে অবস্থিত হবে। একে বলা হয় গোলপোস্ট। গোলপোস্ট পানি থেকে ১ মিটার উঁচু থাকবে। দুই পোস্টের মধ্যবর্তী স্থানের ব্যবধান হলে ৩ মিটার। গোলপোস্টের রং হবে সাদা-কালো। যাতে দূর থেকে তা দেখা যায় ।

জলাশয়ের গভীরতা

জলাশয়ের গভীরতা ১ মিটার হবে। কোন ভাবেই এর কম হবে না। যাতে সাঁতরে খেলা যায়। জলাশয়ের পানি পরিষ্কার থাকবে।

খেলার বল

ওয়াটার পোলো খেলার বল ফুটবলের মতই। বল সাধারণত চামড়ার হয়ে থাকে। অনেক সময় রাবারের বল দিয়েও খেলা হয়। বলের পরিধি ৬৮ থেকে ৭৮ সেন্টিমিটার এবং ওজন ৪০০ থেকে ৪৫০ গ্রাম হবে।

রেফারি ও গোল জাজ

ওয়াটার পোলো খেলা যিনি পরিচালনা করেন তিনি হচ্ছেন রেফারি। রেফারির হাতে নিল ও সাদা পতাকা থাকে খেলা পরিচালনা করার জন্য। ফুটবলের মত ওয়াটার পোলো খেলায়ও রেফারির হাতে থাকে সর্বময় ক্ষমতা। রেফারিকে সহায়তা করার জন্য থাকে গোল জাজ । গোল জাজের হাতে থাকে লাল পতাকা। লাল পতাকা দেখিয়ে গোল জাজ সংকেত দেন।

খেলোয়াড় সংখ্যা

ওয়াটার পোলো খেলা হয় দুই প্রতিদ্বন্দ্বি দু’দলের মধ্যে। প্রতি দলে ১১ জন খেলোয়াড় থাকে। তার মধ্যে ৭জন করে খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করে থাকে। বাকি ৪ জন অতিরিক্ত খেলোয়াড় হিসেবে। কোন খেলোয়াড় আহত হলে বা অন্য কোন কারণে এই অতিরিক্ত খেলোয়াড় বদলি খেলোয়াড় হিসেবে খেলতে নামেন। অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের মধ্যে একজন হবেন গোলরক্ষক।

 

টুপি

প্রত্যেক দলের খেলোয়াড়দের চিহ্নিত করার জন্য টুপি ব্যবহার করা হয়। বলা যায় এই টুপি জার্সির কাজ করে থাকে। গোল-রক্ষক ছাড়া উভয় দলের খেলোয়াড়েরা মাথায় রঙ্গিন টুপি ব্যবহার করে থাকেন। এর মধ্যে এক দলের টুপির রং হবে সাদা ও অন্য দলের নীল। তবে গোলরক্ষকের টুপির রং হবে ভিন্ন। সাদা দলের গোল- রক্ষকের টুপির রং হবে নীল । প্রয়োজনে টুপির রং আলাদা হতে পারে ।

নম্বর ও পজিশন

প্রত্যেক খেলোয়াড়ের নম্বর থাকবে। ফুটবলের মত গোল-রক্ষক, রাইট ব্যাক, লেফট ব্যাক, হাফ ব্যাক, লেফট ফরোয়ার্ড, রাইট ফরোয়ার্ড এবং একজন সেন্টার ফরোয়ার্ড খেলবেন ।

খেলা শুরু

রেফারি বাঁশি বাজিয়ে ‘ফিল্ড অব প্লে’ বা মাঝ মাঠ থেকে বল ছুঁড়ে দিয়ে খেলা শুরু করবেন। খেলোয়াড়েরা সাঁতরে বল ধরতে পারবে অথবা বিলি করতে বা পাস দিতে পারে।

গোল

কোন গোল হবার পর খেলোয়াড়েরা আবার নিজ নিজ অবস্থানে ফিরে এসে দাড়াবেন। শরীরের যে কোন অংশ ছুঁয়ে গোল হতে পারে ।

সময় সীমা

ওয়াটার পোলো খেলার মোট ৫ টি করে ইনিংসে খেলা হয় ২০ মিনিটে। প্রতি অর্ধে ১ মিনিটের বিরতি । এই সময় প্রত্যেক দল দিক বা প্রান্ত বদল করবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খেলার ফলাফল নির্ধারিত না হলে খেলা শেষে ৫ মিনিট বিরতি দিয়ে আবার ৩ মিনিট করে ১ মিনিটের বিরতি দিয়ে দু’অর্ণ খেলা হলে। খেলার সময় কোন খেলোয়াড় গায়ে ক্রীম বা তেল ব্যবহার করতে পারবে না।

গোল রক্ষকের দায়িত্ব

গোল রক্ষক নিম্নোক্ত দায়িত্বগুলি পালন করবেন

(ক) তিনি গোল রক্ষা করবেন এবং গোলের সামনে থাকবেন। গোলপোস্ট থেকে ৪ মিটারের বেশি এগিয়ে যেতে পারবেন না।

(খ) তিনি লাফাতে, দাঁড়াতে, এবং বলে ঘুখি মারতে পারবেন। দু’হাত একসঙ্গে ব্যবহার করার মধ্যে কোন দোষ নেই।

(গ) তিনি হাফ লাইনের বেশি বল থ্রো বা ছুঁড়তে পারবেন না। যদি বেশি দূর থ্রো করেন তবে বিপক্ষ দল থ্রো পাবে।

(ঘ) তিনি আহত হলে অবসর নিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে বদলি গোলরক্ষক খেলবে। একই খেলায় তিনি পরে আবার অংশ নিতে পারেন তবে গোল রক্ষক হিসেবে নয় । অন্য পজিশনে তাকে খেলতে হবে।

(ঙ) গোল থ্রোর সময় গোল রক্ষক গোলে থাকবে না। তার স্থানে নিকটস্থ কোন রক্ষণভাগের খেলোয়াড় গোল ঠেকাবেন ।

 

গোল- থ্রো

গোল-গ্রো মানেই হচ্ছে গোলের উদ্দেশে গোলে বল থ্রো করা বা ছোঁড়া । বল এই সময় গোলর মধ্যে দিয়ে গোল লাইন অতিক্রম করলেই রেফারি গোলের নির্দেশ দিয়ে বাঁশি বাজাবেন ।

বিপক্ষ দলের গোল-থ্রো গোল লাইনের বাইরে গেলেপোস্টের উপর দিয়ে গেলে গোলে না ঢুকলে বা বল যদি আক্রমণকারীর শরীর স্পর্শ করে গোল লাইন অতিক্রম করে তবে রক্ষণদলের গোল রক্ষক গোলপোস্টের মাঝখানে দাঁড়িয়ে গোল-থ্রো করবেন। গোল-থ্রো ভুল হলে পুনরায় করতে হবে।

ফ্রি-থ্রো

কোন খেলোয়াড় বিপক্ষ দলের কাউকে ফাউল করলে রেফারি ফাউলকারী দলের টুপির রংয়ের পতাকা তুলে ফাউলের সংকেত দেবেন। যেখানে ফাউল করা হয়েছে। সেখান থেকে ফ্রি প্রো করা হবে।
গোলরক্ষক ফাউল করলে তাকেই ফ্রি-থ্রো করতে হবে। ফ্রি-থ্রোতে সরাসরি গোল হবে না। অন্ততঃ দু’জন খেলোয়াড় বল স্পর্শ করার পর গোল হবে।

কর্ণার-থ্রো

যদি রক্ষণ ভাগের কোন খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে বল বাইরে চলে যায় তাহলে ফুটবলের মত ওয়াটার পোলোতেও কর্ণার -থ্রো হবে। ফুটবলে হয় কর্ণার কিক আর ওয়াটার পোলোতে কর্ণার-থ্রো।

গোলের ২ মিটার লাইন থেকে কর্ণার-থ্রো করা হয়। এই সময় শুধু ২ মিটার লাইনের মধ্যে একমাত্র গোল কীপার থাকতে পারে। কর্ণার থ্রোতেও সরাসরি গোল হয়। না। অপর খেলোয়াড়কে স্পর্শ করে গোল হবে।

কর্ণার-থ্রো ভুল হলে পুনরায় করা যায়।

নিউট্রাল-থ্রো

কোন খেলায়াড় আহত হলে বা অসুস্থ হয়ে পড়লে বা অন্য কোন কারণে রেফারি খেলা থামাবার প্রয়োজনে নিউট্রাল-থ্রোর নির্দেশ দিতে পারেন। এই নিউট্রাল-ঘো ঘটনাস্থলের কাছাকাছি স্থান থেকে হতে হবে।

 

পেনাল্টি থ্রো

রক্ষণকারী দলের কোন খেলোয়াড় যদি আক্রমণকারী দলের কোন খেলোয়াড়কে ৪ মিটারের মধ্যে অন্যায়ভাবে আঘাত করে বলকে পানির মধ্যে বে আইনিভাবে ডুবিয়ে রাখে অথবা অন্য কোনভাবে অবৈধভাবে বাধা দেয় তবে রেফারি পেনাল্টি থ্রোর নির্দেশ দেবেন।

৪ মিটার লাইনের যে কোন স্থান থেকে আক্রমণকারী দল পেনাল্টি থ্রো করতে পারে। এই সময় ৪ মিটার সীমানার মধ্যে রক্ষণকারী দলের একমাত্র গোল-কীপার থাকবেন। গোল রক্ষকের শরীরের কোন অংশ গোল লাইনের পিছনে যেতে পারবে না।
ওয়াটার পোলো খেলা পানির খেলা হলেও এই খেলায় কিছু কিছু সময় পানির উপরে উঠে আসা যায়। যেমন কেউ আহত হলে, বিরতির সময়ে অথবা রেফারি অনুমতি নিয়ে অন্য যে কোন কারণে যে কোন সময়ে।

Leave a Comment