কানামাছি খেলার নিয়ম কানুন । খেলাধুলার আইন

আজকে আমরা কানামাছি খেলার নিয়ম কানুন সম্পর্কে আলোচনা করবো। কানামাছি গ্রাম বাংলার ছেলেমেয়েদের কাছে কেটি অত্যন্ত প্রিয় খেলা।

এটি একটি পুরনো খেলা। ছেলে ও মেয়ে উভয়ে একসাথে এ খেলায় অংশ নিতে পারে। এ খেলার প্রচলন গ্রামাঞ্চলেই বেশি দেখা যায়। এই খেলার জন্যে খুব বেশি জায়গার দরকার হয় না। ফলে শহরের ছেলেমেয়েরাও এ খেলা খেলে চরম আনন্দ উপভোগ করতে পারে। বাসার সামনের খেলা জায়গায় অথবা ছাদের উপরে কানামাছি খেলার আয়োজন করা সম্ভব।

 

কানামাছি খেলার নিয়ম কানুন । খেলাধুলার আইন

এই খেলার কোন সুনির্দিষ্ট নিয়ম কানুন নেই। খেলা পরিচালনার জন্যে কোন রেফারি, আম্পায়ার বা জাজেরও প্রয়োজন হয় না। তবে খেলার একটি সাধারণ নিয়ম আছে। নিচে কানামাছি খেলার নিয়ম তুলে ধরা হলঃ

কানামছি খেলায় খেলোয়াড়ের সংখ্যা নির্দিষ্ট নেই। সাধারণত ৫ থেকে ১০ জন খেলোয়াড় এই খেলায় অংশগ্রহণ করে। তবে বেশি খেলোয়াড় হলে খেলায় হট্টগোল হয় বেশি। ফলে বিঘ্নের সৃষ্টি হতে পারে। প্রয়োজনে এই সংখ্যা কম বা বেশিও করা যেতে পারে। মজার ব্যাপার হল কানামাছি খেলায় কোন প্রতিপক্ষ নেই। একটি মাত্র পক্ষ থাকে।

 

এই খেলার সরঞ্জাম বলতে একটা গামছা, তোয়ালে বা একখণ্ড কাপড় হলেই চলে। এই কাপড় অংশগ্রহণকারী দলের ভেতর থেকে একজনের চোখে বেঁধে দিতে হবে। কার চোখে কাপড় বাঁধা হবে তা নির্ধারিত হবে লটারি মাধ্যমে। চোখ বাধার পরেই খেলা শুরু হয়ে যাবে। বাকি ছেলেমেয়েরা যার চোখ বাঁধা তাকে চারদিক থেকে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় চিমটি কাটতে থাকবে।

চোখ বাঁধা খেলোয়াড়
কানামাছি ভোঁ ভোঁ
যারে পাবি তারে ছোঁ

এই ছন্দ আওড়তে আওড়তে চারপাশ ঘুরে ঘুরে তাকে চিমটি কাটা ছেলেমেয়েদের এজনকে ধরতে চেষ্টা করবে।

 

যদি সে একজনকে ধরতে পারে এবং যাকে ধরেছে তার নাম চোখ বাঁধা অবস্থায় বলতে পারে তবে তার চোখে বন্ধন খুলে দিয়ে ধৃত ছেলে বা মেয়েরর চোখে বাঁধা হবে। ছেলেমেয়েরা তকন নতুন চোখ বাঁধা খেলোয়াড় কে একইভাবে চিমটি কাটতে থাকবে। এভাবে খেলা চলতে থাকবে। উল্লেখ্য যদি চোখ বাঁধা খেলোয়াড় যাকে ধরেছে তার নাম সঠিকভাবে বলতে না পারে তবে তার চোখের বাঁধন খোলা হবে না এবং খেলা চলতে থাবে। এই ভাবে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত খেলা চলবে।

Leave a Comment