রাওয়ালপিন্ডির মেঘলা আবহাওয়ায় ব্যাট হাতে নেমেই যেন এক ভিন্ন মেজাজে ছিলেন বাবর আজম। পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক যখন নিজের দৃষ্টিনন্দন কভার ড্রাইভ, নরম টাচের পুশ এবং সময়মতো লিফটেড শটগুলো খেলছিলেন, তখনই বোঝা যাচ্ছিল—এই ইনিংসটা সাধারণ কিছু নয়। আর তা–ই হলো। ৫২ বলে ৭৪ রানের ঝলমলে ইনিংসের মাঝেই ইতিহাসকে স্পর্শ করলেন তিনি।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলতে খেলতে তিনি বুঝতেও পারেননি যে তাঁর ব্যাটে লেখা হচ্ছে কোহলির ছায়া। ৩৮তম ফিফটি হাঁকিয়ে ছুঁয়েছেন আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলির টি–টোয়েন্টি ফিফটির রেকর্ড। ক্রিকেটের ভুবনে কোহলি–বাবর বিতর্ক যেভাবে আলো কাড়ে, সে তুলনায় এই মাইলফলক শুধু সংখ্যা নয়, বরং দুই প্রজন্মের দুই ব্যাটিং স্টাইলের এক প্রতিচ্ছবি।
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই বাবরকে বলা হতো ক্লাসিক ব্যাটার। কিন্তু তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ৩৩৪ ম্যাচে ১৫ হাজার ২৫৯ রান তুলে তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন—তিনি শুধু ক্লাসিক নন, ধারাবাহিকও। এই দিনে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে তিনি ছাড়িয়ে গেলেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে, যিনি ১৫,২৪৯ রানে থেমেছিলেন।
কোহলির ১২৫ ম্যাচে ৪,১৮৮ রান এবং বাবরের ১৩৪ ম্যাচে ৪,৩৯২ রান—পরিসংখ্যান বলছে দুজনই নিজের নিজের সময়ের শীর্ষ ব্যাটার। কিন্তু বাবর এখনো খেলছেন। বয়স মাত্র ৩০। তাই সামনে তাঁর রানের ফোয়ারা আরও ছড়ানোর সুযোগ অনেক।
রাওয়ালপিন্ডির আলোতে দাঁড়িয়ে বাবর আজম যেন জানিয়ে দিলেন—রেকর্ড ভাঙা তাঁর জন্য চাপ নয়, বরং চ্যালেঞ্জ।
