৩৪ দিনের অনাকাঙ্ক্ষিত বিরতির পর আগামীকাল মাঠে ফিরছে বাংলাদেশ ফুটবল লিগ। জাতীয় দলের ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচির কারণে দ্বিতীয় রাউন্ড শেষে স্থগিত ছিল প্রতিযোগিতা। এই বিরতি অনেক দলকে পুনর্গঠনের সুযোগ দিলেও ক্লাবগুলোর আর্থিক শৃঙ্খলা ও স্থবির ব্যবস্থাপনার চিত্রকেও স্পষ্ট করেছে।
আগামীকালের প্রধান আকর্ষণ আবাহনী-মোহামেডান দ্বৈরথ। ঐতিহ্য, প্রতিদ্বন্দ্বিতা আর সমর্থকদের আবেগ—সবকিছু মিলিয়ে ঘরোয়া ফুটবলের সবচেয়ে উচ্চ-চাপের ম্যাচ এটি। গত মৌসুমে মোহামেডানের শিরোপা জয়ের পর এবার তাদের ওপর প্রত্যাশা ছিল আকাশছোঁয়া। অথচ মাত্র দুই ম্যাচে এক পয়েন্ট তাদের দুর্বল সূচনার ইঙ্গিত দেয়। আবাহনীর অবস্থাও একই রকম।
এর ওপর মোহামেডান শিবিরে বকেয়া বেতন নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে। খেলোয়াড়রা ব্যবস্থাপনাকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন—বকেয়া না মিটলে সমস্যা বাড়বে। ফলে মাঠের লড়াইয়ের আগে ড্রেসিংরুমের পরিস্থিতি ক্লাবটির পারফরম্যান্সকে প্রভাবিত করার ঝুঁকি তৈরি করছে।
লিগের অন্যান্য ভেন্যুতে বসুন্ধরা কিংস, পুলিশ এফসি, ফর্টিজ, ব্রাদার্স ইউনিয়নসহ দলগুলো নিজেদের ছন্দ খুঁজে পাওয়ার লড়াইয়ে নামবে। তৃতীয় রাউন্ডটি প্রতিটি দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দীর্ঘ বিরতির পর রিদম ধরে রাখা সবসময়ই কঠিন।
এদিকে লিগ শুরু হওয়ার প্রায় দুই মাস পর বাফুফে অবশেষে লোগো ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে। পৃষ্ঠপোষক পেট্রোনাসের নামে লিগ হলেও লোগো প্রকাশে অস্বাভাবিক দেরি হওয়ায় সমালোচনা বাড়ছে। নতুন লোগোও সমর্থকদের বড় অংশকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। সামাজিক মাধ্যমে এটি নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে।
বাফুফে মার্কেটিং কমিটির চেয়ারম্যান ফাহাদ করিম অবশ্য দাবি করেছেন, লোগো তৈরিতে যথেষ্ট পেশাদারিত্ব ছিল এবং অন্য কোনও ডিজাইনের সঙ্গে মিল থাকাকে ‘স্রেফ কাকতালীয়’ বলেই ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, মাঠের লড়াই যেমন শুরু হচ্ছে, তেমনি মাঠের বাইরে প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাও বড় আলোচনার জন্ম দিচ্ছে।
