গুগলির ঝলকে মুগ্ধ বাংলাদেশ, সিরিজ জিতেই বাড়ি ফেরার আশা রিশাদের

আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের লেগ স্পিনারদের প্রভাবের কথা বলতে গেলেই দীর্ঘশ্বাস জুড়ে দিতেই হয়। বছরের পর বছর ধরে দেশটি খুঁজে ফিরেছে একজন প্রকৃত লেগ স্পিনার, যিনি ম্যাচে ব্রেকথ্রু এনে দিতে পারেন, উইকেট তুলে নিতে পারেন ধারাবাহিকভাবে, আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—গুগলি দিয়ে ব্যাটসম্যানকে বিভ্রান্ত করতে পারেন। অবশেষে সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়েছেন রিশাদ হোসেন, যিনি একাই যেন পরিবর্তন করে দিচ্ছেন বাংলাদেশের লেগ স্পিনের ধারণা।

আজ বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি–টোয়েন্টিতে দেখা গেল তাঁর লেগ স্পিনের নতুন মোহময়ী রূপ। তবে দিনের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তটি আসে যখন কার্টিস ক্যাম্ফার তাঁর গুগলি খেলতে গিয়ে বোকা বনে সরাসরি বোল্ড হয়ে যান। পিচে হালকা বাঁক নিয়ে বলটি স্টাম্পে আঘাত করার সঙ্গে সঙ্গে পুরো স্টেডিয়াম উল্লাসে ফেটে পড়ে। এই দৃশ্য শুধু একটি উইকেট কিংবা ম্যাচ মুহূর্ত নয়—এটি বাংলাদেশের লেগ স্পিনে নতুন ভবিষ্যতের প্রতীক।

আজকের আগে ক্যাম্ফার কষ্ট করেই রান তুলছিলেন। ১৫ বলে মাত্র ৯ রান থাকা সেই ব্যাটসম্যানের আউট এতটাই চমকপ্রদ ছিল যে বাংলাদেশ শিবিরে সেই মুহূর্তে যেন নতুন প্রাণ ফিরে আসে। লেগ স্পিনারদের গুগলিতে স্টাম্প ছিটকে যাওয়া বাংলাদেশের ক্রিকেটে খুব চেনা দৃশ্য নয়—তাই এমন মুহূর্তের আনন্দ ছিল ভিন্ন মাত্রার।

বাংলাদেশ দল আজ রিশাদকে একাদশে ফেরায়, আর তিনি প্রতিটা বলেই যেন সেই আস্থার প্রতিদান দিলেন। ম্যাচের শুরুতে আয়ারল্যান্ড দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করে ২৪ বলে ৩৮ রান তুলে ফেলে। পল স্টার্লিং ও টিম টেক্টরের সেই জুটি ভাঙতে প্রথম ধাক্কা দেন মোস্তাফিজ ও শরীফুল। এরপর অষ্টম ওভারে এসে রিশাদ চাপটা আরও বাড়িয়ে দেন। তাঁর প্রথম ওভারেই মাত্র ২ রান আসে। ক্যাম্ফারকে আউট করার পরের ওভারেও তিনি দেন মাত্র ৪ রান। সব মিলিয়ে ৪ ওভারে মাত্র ২১ রান খরচ করে ৩ উইকেট তুলে নেন এই তরুণ লেগ স্পিনার।

তার গুগলি, টপস্পিন আর ফ্লিপারের মিশেলে ব্যাটসম্যানদের মাঝে বিভ্রান্তির ছাপ স্পষ্ট ছিল। গ্যালারির দর্শকেরা প্রতিটি বলেই তার ভেলকিবাজি উপভোগ করেন।

ইনিংস শেষে আয়ারল্যান্ড ১৯.৫ ওভারে ১১৭ রানে অলআউট হয়ে গেলে রিশাদ সম্প্রচারকদের মুখোমুখি হন। গুগলি শেখা ও অস্ত্রভাণ্ডার বাড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন,
“চেষ্টা করছি। বাকি সব আল্লাহর হাতে।”

আগামী ফেব্রুয়ারি–মার্চে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে এটিই বাংলাদেশের শেষ আন্তর্জাতিক সিরিজ। মাঝপথে অবশ্য বিপিএল রয়েছে। বিশ্বকাপ প্রস্তুতি নিয়ে রিশাদ বলেন,
“বিপিএল আছে সামনে। প্রিপারেশন নেওয়ার সুযোগ আছে। কিছু কাজ বাকি থাকবে, সবাই মিলেই ঠিক করে নেব ইনশা আল্লাহ।”

আজকের ম্যাচে আয়ারল্যান্ড বড় লক্ষ্যে যেতে না পারলেও রিশাদের মতো আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠটি শোনা গেল ম্যাচ শেষে,
“এখন পর্যন্ত আমরা আত্মবিশ্বাসী। সিরিজ জিতে বাসায় যাব ইনশা আল্লাহ।”

এই আত্মবিশ্বাস, তাঁর উইকেট নেওয়ার ধারাবাহিকতা এবং লেগ স্পিনের নতুন মাত্রা—সব মিলিয়ে রিশাদ এখন বাংলাদেশের টি–টোয়েন্টি দলের অমূল্য সম্পদে পরিণত হচ্ছেন।

Leave a Comment