গ্যাবা টেস্টের দল থেকে বাদ উসমান খাজা, টেস্ট ক্যারিয়ার কি তবে শেষের পথে?

অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ ওপেনার উসমান খাজার ভবিষ্যৎ ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা। পিঠের ব্যথার কারণে অ্যাশেজ সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট—গ্যাবায় অনুষ্ঠিত দিবারাত্রির ম্যাচে—দলে রাখা হয়নি এই বামহাতি ব্যাটারকে। বয়স ৩৯-এর কাছাকাছি হওয়ায় এবং সাম্প্রতিক সময়ের দুর্বল পারফরম্যান্স বিবেচনায় ক্রিকেটবিশ্বে প্রশ্ন উঠেছে—এটাই কি তবে তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষভাগ?

পার্থে অনুষ্ঠিত অ্যাশেজের প্রথম টেস্টে প্রথম দিনই পিঠে অস্বস্তি অনুভব করেন খাজা। ব্যথা বাড়তে থাকায় দ্বিতীয় সেশনে মাঠে ফিল্ডিং করতেও পারেননি তিনি। ইংল্যান্ডের ইনিংস দ্রুতই ধসে পড়লেও খাজার ব্যথা তাঁকে ওপেনিংয়ে নামার সুযোগ দেয়নি। বাধ্য হয়ে পরে চার নম্বরে নেমে মাত্র ২ রানে আউট হন ব্রাইডন কার্সের শর্ট বলে।

ম্যাচ চলাকালীনই কয়েকটি ক্যাচ মিস করার ঘটনাও তাঁর চোট বাড়িয়ে দেয়। একটি নিচু হয়ে আসা ক্যাচ ফসকানোর পর আরেকবার লাফিয়ে ক্যাচ নিতে গেলে পিঠে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন। মেডিকেল টিম তাকে মাঠে রাখতে চাইলেও ব্যাটিং ও ফিল্ডিংয়ের সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়।

এদিকে তাঁর অনুপস্থিতিতে ওপেনিংয়ে সুযোগ পান ট্রাভিস হেড। আর সেই সুযোগ একেবারেই নষ্ট করেননি তিনি। ইনিংসের শুরুতেই ঝড় তুলতে তুলতে করেন একটি রেকর্ড সেঞ্চুরি, মাত্র ৮৩ বলে ১২৩ রান। হেডের ঐ ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করেই অস্ট্রেলিয়া দুই দিনেই ৮ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয়। এতে টিম ম্যানেজমেন্টের চোখে হেড এখন নতুন সম্ভাব্য স্থায়ী ওপেনার।

গ্যাবা টেস্টের আগে আজও খাজা অনুশীলনে নেমেছিলেন। প্রায় আধঘণ্টা নেটে ব্যাটও করেছেন। কিন্তু অনুশীলন পর্যবেক্ষণ করে কোচ-ম্যানেজমেন্ট মনে করেছে—দিবারাত্রির ম্যাচের জন্য প্রয়োজনীয় ফিটনেস লেভেলে তিনি নেই। যদিও দলে তাঁর জায়গায় কাউকে নেওয়া হয়নি, তাঁকে স্কোয়াডের সঙ্গেই রাখা হচ্ছে পুনর্বাসন চালিয়ে নেয়ার জন্য।

তবে সমস্যা এখানেই শেষ নয়। যদি হেড ওপেনার হিসেবে সফল হন, তাহলে তাঁর পাঁচ নম্বর ব্যাটিং পজিশনের জন্য জায়গা খুলবে। সেখানে বো ওয়েবস্টার, জশ ইংলিস—এমন কয়েকজন আগ্রহী বিকল্প রয়েছেন। অন্যদিকে খাজার গত দুই বছরের পারফরম্যান্স ভীষণ হতাশাজনক। ২০২৩ অ্যাশেজের পর থেকে গড় মাত্র ৩১.৮৪, ৪৫ ইনিংসে একটি সেঞ্চুরি—একজন ওপেনারের জন্য যা প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম।

ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, খাজা সুস্থ হয়ে ফিরলেও জায়গা ফিরে পাওয়া হবে কঠিন। বয়স, চোট, ফর্ম—সবকিছু মিলিয়ে তাঁর ভবিষ্যৎ আজ প্রশ্নের মুখে। অনেকেই বলছেন—গ্যাবায় না খেলাই কি শেষের ঘণ্টা বাজিয়ে দিল তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ারে?

Leave a Comment