বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২ পর্বের হাইভোল্টেজ ম্যাচে ঘানাকে ১-০ গোলে পরাজিত করে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে কলম্বিয়া। কানসাস সিটির চিলিং স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে শুরু থেকেই দুর্দান্ত আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে দক্ষিণ আমেরিকার পরাশক্তিরা। এই রোমাঞ্চকর জয়ের মাধ্যমে কলম্বিয়া তাদের ফুটবল ইতিহাসে চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিল। এর আগে ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে বিশ্বকে চমকে দেওয়া দলটি এবারও সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি, এমনকি আরও দূর যাওয়ার আশা নিয়ে টুর্নামেন্টে শক্ত অবস্থানে রয়েছে।
Table of Contents
ম্যাচে কলম্বিয়ার একচ্ছত্র আধিপত্য ও আক্রমণের খতিয়ান
ম্যাচের শুরু থেকেই কলম্বিয়ার ফুটবলাররা মাঠের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেন। পুরো ম্যাচে বল দখলে তারা এতটাই এগিয়ে ছিল যে, ঘানার খেলোয়াড়রা বলের নাগাল পেতে হিমশিম খেয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, ম্যাচের মোট ৬১ শতাংশ সময় বল ছিল কলম্বিয়ার পায়ে। আক্রমণভাগের ফুটবলার পুয়ের্তা ও লুইস দিয়াজরা প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রেখে গোলমুখে মোট ৮টি শট নেন।
ম্যাচজুড়ে কলম্বিয়া অন্তত ৪টি নিশ্চিত গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল। তবে ফরোয়ার্ডদের কিছুটা ফিনিশিংয়ের দুর্বলতা এবং ঘানার গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় ব্যবধান আরও বড় হয়নি। ঘানার গোলরক্ষক লরেন্স আতি জিগি পুরো ম্যাচে দুর্দান্ত কিছু সেভ করে আফ্রিকার দলটিকে বড় পরাজয়ের হাত থেকে রক্ষা করেন। বিশেষ করে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে মোজিকার একটি বুলেট গতির শট অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন তিনি, যা নিশ্চিত গোলের হাত থেকে ঘানাকে বাঁচিয়ে দেয়।
আরিয়াসের জয়সূচক গোল এবং লুইস দিয়াজের অফসাইড ট্র্যাজেডি
ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে যায় প্রথমার্ধের শুরুতেই। আক্রমণাত্মক ফুটবলের ধারা বজায় রেখে ম্যাচের ঠিক ১৪তম মিনিটে ডেডলক ভাঙেন কলম্বিয়ার তারকা মিডফিল্ডার জন আরিয়াস। ডি-বক্সের ভেতর দারুণ এক পাস থেকে বল পেয়ে নিখুঁত শটে ঘানার জাল কাঁপান তিনি। এই একমাত্র গোলটিই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয় এবং কলম্বিয়াকে এনে দেয় মহামূল্যবান ৩ পয়েন্ট ও পরের রাউন্ডের টিকিট।
ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট: ১৪ মিনিটে জন আরিয়াসের গোলটি কলম্বিয়াকে মানসিকভাবে এগিয়ে দেয়, যা পুরো ম্যাচে ঘানাকে আর ঘুরে দাঁড়াতে দেয়নি।
ম্যাচের শেষভাগে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন লিভারপুল তারকা লুইস দিয়াজ। তিনি বল ঘানার জালে জড়ালেও লাইন্সম্যানের অফসাইডের পতাকায় তা বাতিল হয়ে যায়। ভিএআর (VAR) প্রযুক্তিতে দেখা যায় খুব অল্প ব্যবধানে অফসাইডে ছিলেন এই ফরোয়ার্ড। ফলে ১-০ গোলের ব্যবধান নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় লরেন্স সানচেজের শিষ্যদের।
ঘানার ব্যর্থতা ও বিশ্বকাপ থেকে বিদায়
অন্যদিকে, আফ্রিকার অন্যতম পরাশক্তি ঘানার জন্য ম্যাচটি ছিল ভীষণ হতাশার। পুরো ৯০ মিনিটের খেলায় তারা কলম্বিয়ার রক্ষণভাগে তেমন কোনো ভীতি ছড়াতে পারেনি। সবচেয়ে হতাশাজনক পরিসংখ্যান হলো, পুরো ম্যাচে ঘানার কোনো ফুটবলার কলম্বিয়ার গোলপোস্ট বরাবর একটিও অন-টার্গেট শট নিতে পারেননি। আক্রমণভাগের এই তীব্র ব্যর্থতার কারণে দক্ষিণ আমেরিকার দলটির কাছে হেরে অবশেষে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করতে হলো ঘানাকে।
শেষ ষোলোর সমীকরণ ও কলম্বিয়ার অতীত ইতিহাস
ঘানাকে বিদায় করে শেষ ষোলোতে পা রাখা কলম্বিয়ার পরবর্তী প্রতিপক্ষ ইউরোপের শক্তিশালী দল সুইজারল্যান্ড। কলম্বিয়ার জন্য এই নকআউট পর্বটি নিজেদের পুরোনো গৌরব ফিরিয়ে আনার বড় মঞ্চ। দলটির ফুটবল ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়:
২০১৪ বিশ্বকাপ: কলম্বিয়া তাদের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ সময় পার করে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল।
২০১৮ বিশ্বকাপ: রাউন্ড অব সিক্সটিন বা শেষ ষোলোর নকআউট পর্বে উঠেছিল তারা, তবে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল।
২০২২ বিশ্বকাপ: কাতার বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতাই অর্জন করতে পারেনি দলটি, যা ছিল তাদের ফুটবলের জন্য বড় একটি ধাক্কা।
বিগত বিশ্বকাপের মূল পর্বে কোয়ালিফাই করতে না পারার সেই হতাশা ভুলে এবার নতুন উদ্যমে ঘুরে দাঁড়িয়েছে কলম্বিয়া। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন নকআউট ম্যাচে আলভারো পুয়ের্তা ও লুইস দিয়াজদের ওপর থাকবে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কাটার গুরুভার। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, কানসাস সিটির এই ফর্ম বজায় রাখতে পারলে কলম্বিয়া এবার বিশ্বকাপের অনেক দূর পর্যন্ত যেতে সক্ষম হবে।
