বিশ্বকাপের পরও অবসরের সিদ্ধান্ত নয় রোনালদোর

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো কি চলমান বিশ্বকাপ শেষেই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানাবেন? সাম্প্রতিক কয়েক দিন ধরে ফুটবল অঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্নগুলোর একটি ছিল এটি। তবে সেই জল্পনায় নিজেই পানি ঢেলে দিয়েছেন পর্তুগালের অধিনায়ক। বিশ্বকাপ শেষেই জাতীয় দল থেকে অবসর নেওয়ার গুঞ্জনকে গুরুত্ব দিতে নারাজ তিনি। বরং জানিয়েছেন, এখন তার পুরো মনোযোগ টুর্নামেন্টে এবং পর্তুগালকে যতদূর সম্ভব এগিয়ে নেওয়াই তার একমাত্র লক্ষ্য।

এই বিতর্কের সূত্রপাত রোনালদোর বড় বোন কাতিয়া আভেইরোর একটি মন্তব্য থেকে। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পর্তুগালের শেষ ষোলো নিশ্চিত করার ম্যাচের আগে পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম স্পোর্ট টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছিলেন, নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র থেকে জানা তথ্য অনুযায়ী, এটিই রোনালদোর জাতীয় দলের হয়ে শেষ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট। তিনি সমর্থকদের উদ্দেশে বলেছিলেন, যদি সেটিই সত্যি হয়, তাহলে এই মুহূর্তগুলো উপভোগ করা উচিত।

কিন্তু মাঠের লড়াই শেষে পরিস্থিতি বদলে যায়। ক্রোয়েশিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে পর্তুগাল শেষ আটে জায়গা নিশ্চিত করার পর সাংবাদিকদের সামনে অবসরের প্রসঙ্গ ওঠে। ৪১ বছর বয়সী রোনালদো তখন স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, এই মুহূর্তে অবসর নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রশ্নই আসে না।

তার ভাষায়, এখন অবসরের আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ নয়। টুর্নামেন্ট শেষ হলে জয়-পরাজয়ের পর সবকিছু বিবেচনা করে পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করবেন। এরপরই ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, আগের মতো আবেগের বশে সিদ্ধান্ত নেন না; এখন প্রতিটি বিষয় শান্ত মাথায় এবং সময় নিয়ে ভাবেন। এই মুহূর্তে তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বর্তমানকে উপভোগ করা এবং জাতীয় দলের সাফল্যে নিজের সর্বোচ্চ অবদান রাখা।

ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি রোনালদোর জন্য ব্যক্তিগতভাবেও স্মরণীয় হয়ে থাকে। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এই প্রথম তিনি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে গোল করার স্বাদ পেলেন। পেনাল্টি থেকে করা সেই গোল শুধু পর্তুগালের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল না, ইতিহাসের পাতাতেও নতুন অধ্যায় যোগ করেছে।

৪১ বছর ১৪৭ দিন বয়সে গোল করে তিনি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সবচেয়ে বেশি বয়সে গোল করার রেকর্ড নিজের করে নেন। এর আগে এই কীর্তির মালিক ছিলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফুটবলে পুরুষদের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নিজের রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করেন রোনালদো। তার আন্তর্জাতিক গোলসংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৪৬-এ।

এতেই থেমে থাকেননি তিনি। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে পেশাদার ক্যারিয়ারে তার মোট গোলসংখ্যা এখন ৯৭৬। অর্থাৎ বহুল আলোচিত এক হাজার গোলের মাইলফলক থেকে তিনি আর মাত্র ২৪ গোল দূরে। দীর্ঘদিন ধরেই এই ঐতিহাসিক অর্জনকে নিজের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে ধরে রেখেছেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই ফরোয়ার্ড।

ম্যাচের শেষ মুহূর্তে গনসালো রামোসের নাটকীয় গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় পর্তুগাল। এই জয়ের মাধ্যমে তারা কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয়, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ বর্তমান ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন। দুই শক্তিশালী ফুটবল পরাশক্তির এই লড়াই ঘিরে ইতোমধ্যেই ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

রোনালদোর ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা আপাতত থামছে না। বয়সের ভার, দীর্ঘ ক্যারিয়ার এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলে অসংখ্য রেকর্ডের কারণে অবসর নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে তার সাম্প্রতিক বক্তব্য স্পষ্ট করে দিয়েছে, বিশ্বকাপ চলাকালে তিনি ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে চান না। তার সমস্ত মনোযোগ এখন পর্তুগালের হয়ে আরও একটি শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে। বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরই পরিবার ও ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে আলোচনা করে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের পরবর্তী অধ্যায় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন এই কিংবদন্তি ফুটবলার।

মন্তব্য করুন