চরম উত্তেজনার পর মরক্কোর স্বপ্ন ভেঙে চ্যাম্পিয়ন হল সেনেগাল

আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের (আফকন) ফাইনাল ছিল নিঃসন্দেহে এক মহাকাব্যিক খেলা, যা রোমাঞ্চ, নাটকীয়তা এবং উত্তেজনার সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। মরক্কোর স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত পূর্ণ হয় নি; পাপ গেয়ির অতিরিক্ত সময়ের একমাত্র গোলের ফলে চ্যাম্পিয়ন হয় সেনেগাল। খেলায় নাটকীয়তা শুরু হয় ম্যাচের শেষ ৯০ মিনিটের পর।

নির্ধারিত সময়ে উভয় দল গোলশূন্য থেকে অতিরিক্ত সময়ে প্রবেশ করে। যোগ করা সময়ের ৯৮ মিনিটে মরক্কো পায় পেনাল্টি, তবে রিয়াল মাদ্রিদের ফরোয়ার্ড ব্রাহিম দিয়াজ ‘পানেনকা’ শটে তা মিস করেন। এই ঘটনায় মাঠ ছেড়ে দিয়েছিলেন সেনেগালের খেলোয়াড়রা, কিন্তু তাদের নেতা সাদিও মানে আবার ফিরিয়ে নিয়ে আসেন। অবশেষে, অতিরিক্ত সময়ের চতুর্থ মিনিটে পাপ গেয়ি গোল করে ম্যাচের একমাত্র এবং বিজয়ী গোল করেন।

সেনেগালের জন্য এটি আফ্রিকা কাপের দ্বিতীয় শিরোপা। ২০২১ সালে প্রথমবার সাদিও মানের নেতৃত্বে তারা এই প্রতিযোগিতা জিতেছিল। অন্যদিকে, মরক্কোর দীর্ঘ ৫০ বছরের শিরোপার অপেক্ষা আবারও ব্যর্থ হলো; ১৯৭৬ সালে শেষবার তারা আফ্রিকায় শীর্ষে ছিল, এবং ২০০৪ সালে ফাইনালে তিউনিসিয়ার কাছে হারার পর এবারও স্বপ্ন ভেঙে যায়।

নিচের টেবিলে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ও সময় উল্লেখ করা হলো:

সময় (মিনিট)ঘটনাবিস্তারিত
সেনেগালের প্রথম সুযোগ, পাপ গেয়ি গোল করতে ব্যর্থ
৩৭ইলিমানের শটকে মরক্কোর গোলকিপার আটকান
৪১মরক্কোর নায়েফ গোল করার চেষ্টা ব্যর্থ
৯৮মরক্কোর পেনাল্টি, দিয়াজ গোল মিস
অতিরিক্ত ৪ মিনিটপাপ গেয়ির বিজয়ী গোল, সেনেগাল চ্যাম্পিয়ন

খেলার প্রধান মুহূর্তগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মরক্কোর আক্রমণ এবং সেনেগালের প্রতিরক্ষা, যা শেষ পর্যন্ত ‘লায়ন্স অব তেরাঙ্গা’কে জয়ী করে। মরক্কোর খেলোয়াড়রা একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও গোল করতে ব্যর্থ হন। বিশেষ করে প্রথমার্ধে মাত্র দুটি শট লক্ষ্যে আসে, আর দ্বিতীয়ার্ধে মরক্কো কয়েকবার হঠাৎ করে আক্রমণ চালায়, কিন্তু লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

ফাইনালের নাটকীয়তার মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো সেনেগালের মাঠ ছাড়ার ঘটনা। রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পর দল মাঠ ছাড়লেও, সাদিও মানে তাদের শান্ত ও সুচারুভাবে ফিরিয়ে আনে। পেনাল্টি মিস এবং অতিরিক্ত সময়ের একক গোল পুরো ম্যাচটিকে অবিস্মরণীয় করে তোলে।

শেষ পর্যন্ত, ২০২৬ সালের আফকনের ফাইনাল এক ভিন্ন মাত্রার উত্তেজনা ও নাটকীয়তার ইতিহাস তৈরি করল। সেনেগাল আবারও আফ্রিকার শীর্ষে উঠলো, আর মরক্কোর ৫০ বছরের শিরোপার অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো।

Leave a Comment