ঢাকার চেয়ে আরও বিস্তৃত চাকরির জগতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব ক্রমশই বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি অনেক জটিল কাজকে সহজ করে দিয়েছে। তবে অতিমাত্রায় এই প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীলতা বিপদের কারণও হতে পারে। স্পেন জাতীয় দলের সাবেক কোচ রবার্ট মোরেনো এর ব্যর্থ প্রমাণ হলেন।
৪৮ বছর বয়সী মোরেনো গত সেপ্টেম্বরে রাশিয়ার শীর্ষ লিগের ক্লাব এফসি সোচি থেকে পদত্যাগ করেন। সাত ম্যাচে মাত্র এক পয়েন্ট অর্জনের পর তিনি ক্লাবের ডাগআউট ছাড়েন। ক্লাবের সাবেক স্পোর্টিং ডিরেক্টর অ্যান্ড্রে অরলভ জানান, মোরেনো চ্যাটজিপিটির বড় ভক্ত ছিলেন এবং এর নির্দেশনা অনুযায়ী অদ্ভুত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
খাবারোভস্ক সফরের সময় মোরেনো এআই-র পরামর্শ অনুযায়ী দলের পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন। তিনি খেলোয়াড়দের সকাল ৭টায় অনুশীলনের নির্দেশ দেন এবং ২৮ ঘণ্টা ধরে জেগে থাকার পরিকল্পনা করান। অরলভ বলেন,
“রবার্ট বললেন, ‘আমি সব ঠিক করে ফেলেছি। চ্যাটজিপিটিতে সফরের সব প্যারামিটার সেট করেছি।’ প্রেজেন্টেশনটি দেখার পর বুঝলাম, খেলোয়াড়রা ২৮ ঘণ্টা ঘুমাবে না। আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘রবার্ট, ছেলেরা কখন ঘুমাবে?’”
ক্লাবের খেলোয়াড়রাও অনুশীলনের অস্বাভাবিক সময়সূচি নিয়ে বিভ্রান্ত হন। শেষ পর্যন্ত তারা চ্যাটজিপিটির পরিকল্পনা মেনে চলেছিলেন, কিন্তু ফলাফল হতাশাজনক ছিল।
মোরেনো সব সিদ্ধান্তেই চ্যাটজিপিটির ওপর নির্ভর করতেন, এমনকি নতুন খেলোয়াড় নেওয়ার ক্ষেত্রেও। গত গ্রীষ্মে ক্লাবের জন্য ফরোয়ার্ড বেছে নেওয়ার সময় তিনজন প্রার্থী ছিলেন: ভ্লাদিমির পিসারস্কি, পাভেল মেলেশিন, আর আরতুর শুশেনাচেভ। মোরেনো চ্যাটজিপিটির পরামর্শে শুশেনাচেভকে সেরা হিসেবে বেছে নেন।
ফরোয়ার্ড বাছাইয়ের তথ্য (চ্যাটজিপিটির পরামর্শ অনুযায়ী):
| খেলোয়াড়ের নাম | চ্যাটজিপিটির রেটিং | সোচিতে পারফরম্যান্স |
|---|---|---|
| ভ্লাদিমির পিসারস্কি | মাঝারি | প্রথম ১০ ম্যাচে কোনো গোল হয়নি |
| পাভেল মেলেশিন | ভালো | প্রথম ১০ ম্যাচে কোনো গোল হয়নি |
| আরতুর শুশেনাচেভ | সেরা | প্রথম ১০ ম্যাচে কোনো গোল হয়নি |
ফলস্বরূপ, ক্লাবের খেলোয়াড়রা কোচের ওপর আস্থা হারান। সোচি রাশিয়ান প্রিমিয়ার লিগ থেকে ফার্স্ট লিগে অবনমন হয়।
মোরেনো স্পেন জাতীয় দলের অন্তর্বতীকালীন কোচ হিসেবে তিন ম্যাচ দায়িত্ব পালন করার পর ২০১৯ সালের জুনে প্রধান কোচ হন। লুইস এনরিকে কন্যার অসুস্থতার কারণে পদত্যাগ করলে তিনি দায়িত্ব নেন। এরপর ফরাসি ক্লাব মোনাকো ও স্প্যানিশ ক্লাব গ্রানাদা কোচিং করার পর ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে রাশিয়ার পিএফসি সোচিতে যোগ দেন।
এ ঘটনা একবারেই প্রমাণ করল, প্রযুক্তি সহায়ক হলেও অন্ধবিশ্বাসে অনুশীলন এবং পরিকল্পনা করলে পেশাগত জীবনে বড় বিপর্যয় ঘটতে পারে।
