ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের রোমাঞ্চকর ফাইনালে আর্সেনালকে টাইব্রেকারে পরাজিত করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জয় করেছে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। হাঙ্গেরির বুদাপেস্টের পুসকাস অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা ১-১ গোলে সমতায় থাকার পর টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জয়লাভ করে ফরাসি ক্লাবটি। এই অনন্য কীর্তির মাধ্যমে স্পেনের রিয়াল মাদ্রিদের পর ইতিহাসের দ্বিতীয় ক্লাব হিসেবে টানা দুবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার গৌরব অর্জন করল প্যারিসের এই দলটি।
ম্যাচের শুরু ও কাই হাভার্টজের গোল
খেলার প্রথমার্ধের শুরুটা ছিল সম্পূর্ণ ইংলিশ ক্লাব আর্সেনালের নিয়ন্ত্রণে। ম্যাচের মাত্র ষষ্ঠ মিনিটে পিএসজির রক্ষণভাগের খেলোয়াড় মারকিনিওসের একটি বল ক্লিয়ার করার চেষ্টা ব্যর্থ হয়। বলটি আর্সেনালের লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে কাই হাভার্টজের সামনে চলে আসে। এই সুবর্ণ সুযোগটি অত্যন্ত চমৎকারভাবে কাজে লাগিয়ে জার্মান ফরোয়ার্ড হাভার্টজ একটি দৃষ্টিনন্দন গোল করে আর্সেনালকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। পিএসজির গোলরক্ষক মাতবে সাপোনভ তাঁর মাথার ওপর দিয়ে বুলেট গতিতে চলে যাওয়া বলটি প্রতিহত করার কোনো সুযোগই পাননি।
পিএসজির আক্রমণ ও ম্যাচে সমতা
শুরুতেই গোল হজম করলেও পিএসজি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েনি। গত বছরের ফাইনাল খেলা মূল একাদশের ১০ জন খেলোয়াড়কে নিয়েই তারা এই ম্যাচে মাঠে নেমেছিল। একমাত্র পরিবর্তন ছিলেন গোলরক্ষক সাপোনভ। পূর্বের শিরোপাজয়ের অভিজ্ঞতা থাকার কারণে পিএসজি ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে শুরু করে। বিশেষ করে গোল করার পর আর্সেনাল যখন রক্ষণাত্মক কৌশল অবলম্বন করে নিজেদের সীমানায় গুটিয়ে যায়, তখন পিএসজির উসমান দেম্বেলে, ফ্যাবিয়ান রুইস এবং দিজিয়ের দুয়েরা আক্রমণের ধার বাড়িয়ে দেন।
খেলার দ্বিতীয়ার্ধে পিএসজির ক্রমাগত আক্রমণের ফল আসে ৬৫ মিনিটে। বল নিয়ে আর্সেনালের পেনাল্টি বক্সে ঢোকা পিএসজির উইঙ্গার খিচা কাভারাস্কেইয়াকে ফাউল করে বসেন আর্সেনালের ক্রিস্টিয়ান মস্কেরা। ফলে রেফারি পিএসজির পক্ষে পেনাল্টির নির্দেশ দেন। এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে উসমান দেম্বেলে অত্যন্ত নিখুঁত শটে গোল করে পিএসজিকে ১-১ ব্যবধানে সমতায় ফেরান।
অতিরিক্ত সময় ও টাইব্রেকারের নাটकीय সমাপনী
নির্ধারিত ৯০ মিনিটে আর কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচটি অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের সময়ে গড়ায়। অতিরিক্ত সময়ে আর্সেনালের টিম্বার এবং গিওকেরেস গোলের কিছু সম্ভাবনা তৈরি করলেও তা সফল করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয় পেনাল্টি টাইব্রেকারে।
টাইব্রেকারের সম্পূর্ণ রোমাঞ্চকর ঘটনাপ্রবাহ নিচে একটি সারণির মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| পর্যায় বা শট | আর্সেনালের পারফরম্যান্স | পিএসজির পারফরম্যান্স | ফলাফল ও প্রভাব |
| প্রাথমিক শটসমূহ | এবেরেচি এজের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। | নুনো মেন্দেসের শট দাভিড রায়া ঠেকিয়ে দেন। | ৪টি শট শেষে দুই দলই সমতায় থাকে। |
| চূড়ান্ত পঞ্চম শট | গ্যাব্রিয়েল মাগালাইস বারের ওপর দিয়ে মারেন। | লুকাস বেরালদো সফলভাবে গোল করেন। | পিএসজি ৪-৩ ব্যবধানে জয়ী ও চ্যাম্পিয়ন। |
টাইব্রেকারের শেষ শটে ব্রাজিলিয়ান রক্ষণভাগের খেলোয়াড় গ্যাব্রিয়েল মাগালাইস বল বারের ওপর দিয়ে মারলে আর্সেনালের শিরোপার স্বপ্ন ভঙ্গ হয়। অন্যদিকে পিএসজির লুকাস বেরালদো বল জালে জড়ানোর সাথে সাথেই ফরাসি শিবিরে উল্লাস শুরু হয়। ২০২৫ সালের পূর্ব পর্যন্ত একটিও চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা না থাকা পিএসজি এবার টানা দ্বিতীয় ট্রফি জিতে রিয়াল মাদ্রিদের পাশে নিজেদের নাম লেখালো।
